মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৬ পি.এম
ভারতের তরফ থেকে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে নিয়োগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান করা হয়নি নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে নতুন হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের জন্য নয়াদিল্লির অনুমোদন এক মাসেরও বেশি আগে চাওয়া হয়েছিল। তবে ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনসের অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী, গ্রহণকারী দেশের সম্মতি ছাড়া কোনো কূটনৈতিক নিয়োগের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব নয়।
ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, ভারত কোনো দেশের প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে নামঞ্জুর করার পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করতে বাধ্য নয়। এই প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা হয় যাতে গ্রহণকারী দেশ কোনো কূটনৈতিক নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করলেও সেটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তিনি আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। অতীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বর্তমান শীতল পরিস্থিতির কারণে সিয়ামের নিয়োগ অনুমোদনের বিষয়টি থমকে রয়েছে। আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শেষ মুহূর্তে নয়াদিল্লি সফর বাতিল হয়ে যায়। আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সাথে ভারতের যোগাযোগ জোরদার করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে 'বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন' (বিমসটেক)-এর চেয়ারম্যানে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহান্তে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি ঢাকা থেকে কোনো প্রতিনিধিও পাঠানো হয়নি। ভারতে বর্তমান হাইকমিশনার হামিদুল্লাহও এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।
রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও, সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টায় নয়াদিল্লি ও ঢাকা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সীমান্ত পারাপারের ট্রেন চলাচল পর্যালোচনার জন্য উভয় দেশের রেল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠক গঠিত হয়েছে।
ঢাকায় তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর গত সাত মাসে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল এবং কারিগরি প্রক্রিয়া উভয় পক্ষ থেকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। তবুও রাজনৈতিক শীতলতা সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গত এক মাসে ভারতকে দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নয়াদিল্লি থেকে—একটি রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। তবে দুটি সফরের কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।
মূলত গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের কারণে এই রাষ্ট্রীয় সফরটি জটিল রূপ ধারণ করে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে দুই দেশই কূটনৈতিক যোগাযোগের নানা উপায় খুঁজছে। ভারত চলতি বছরের শুরুর দিকে রাজনীতিবিদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে তাদের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। ত্রিবেদী জুনের শেষের দিকে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ঢাকার সাথে সম্পর্ককে নয়াদিল্লি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা স্পষ্ট করতে ভারতীয় প্রশাসনিক কাঠামোয় তার পদটিকে 'ক্যাবিনেট পদমর্যাদায়' উন্নীত করা হয়েছে। হাসিনার পতনের পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাপক অবনতি ঘটে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন। তার মেয়াদে সম্পর্ক অত্যন্ত কঠিন সময় অতিক্রম করে, কারণ ঢাকা তখন চীন ও পাকিস্তানের দিকে তাদের কূটনীতি মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছিল।
তারেক রহমানের অধীনে সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেলেও গত মাসে তা আবার থমকে গেছে। নয়াদিল্লি আশা করেছিল বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন, তবে দুই দেশ কোনো সমঝোতার কাছাকাছি গেলেই বারবার নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য হওয়া উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তার পক্ষে এই ফরম উত্তোলন করা হয়।
মির্জা ফয়সাল আমিনের পক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, মির্জা ফয়সাল আমিন দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও দলের সংগঠক হিসেবে তৃণমূলের আস্থাভাজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দল তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম চলবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামীকাল বুধবারের মধ্যে সংগৃহীত মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারবেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে দলের আরও কয়েকজন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন।
মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় আসেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। তবে, বর্তমানে তিনি আবারও নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে। এবারের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো অতীত এবং ডাকসু নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের তথ্য। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি ইতিহাসের অংশ হতে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে, নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ১০।
জানা গেছে, আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে, যা তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে মোট ৪৫ জন শিক্ষার্থী ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে সাদিক কায়েম রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ছাত্রদলের প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।
ডাকসু নির্বাচন পোর্টাল-২০২৫-এর ফলাফল অনুযায়ী, আবু তৈয়ব হাবিলদার ভিপি পদে মোট ১০ ভোট পেয়েছিলেন। ফলে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে তার অবস্থান ছিল তলানিতে। তবে নির্বাচনের আগে আবু তৈয়ব জানিয়েছিলেন, জয়-পরাজয় নয়, ইতিহাসের অংশ হওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২০২৫ সালের ২০ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে আবু তৈয়ব লিখেছিলেন, তিনি ১/১১-এর সময় ‘স্বৈরাচার’ ম ইউ আহমেদকে হঠাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। তার দাবি, ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের নির্মমতার শিকার হয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। এতে তার শিক্ষাজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে এবং পড়ালেখা শেষ করতে না পারায় তিনি বিসিএসে অংশ নিতে পারেননি কিংবা কোনো চাকরির সুযোগও পাননি।
ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেছিলেন, বিগত ১৬ বছরে ছাত্রলীগের নির্যাতন-নিপীড়ন ও নির্মমতার শিকার অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পুনর্ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনি ও আরও একজন রয়েছেন। এর মাধ্যমে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে ক্লাস ও পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষাজীবনের ইতি টানার আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করে আবু তৈয়ব বলেছিলেন, এখানে জেতা-হারার বিষয় নেই। গণতন্ত্রের বিকাশে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে দাঁড়ানো তার অধিকার এবং শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এমনকি তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট না চেয়ে বড় ভাই হিসেবে ভালোবাসা চেয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে এই বিস্ফোরণটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, রায় ঘোষণার পর প্রধান বিচারপতির প্রবেশপথের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তবে ককটেলটি কে বা কারা ছুড়ে ফেলেছে, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এই মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
মামলাটিতে গত ১৮ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয় ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির প্রবেশপথের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১২ দিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক অভিযান চলছে। এই অভিযানের মধ্যে একাধিক কৌশলধারী মাদককারবারি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। ফতুল্লার কেতাবনগর এলাকার এক দুর্ধর্ষ মাদককারবারি উৎসরের মাদক বিক্রির কৌশল দেখে পুলিশ চমকে গেছে।
একটি নির্মাণাধীন ভবনের একপাশে ক্রেতারা সিরিয়াল ধরে ইটের ফাঁক দিয়ে টাকা প্রদান করছেন। অপর পাশ থেকে কে টাকা গ্রহণ করছে, সেটি ক্রেতাদের দেখা যায় না। তবে চাহিদা অনুযায়ী মাদক প্লাস্টিকের বোতলে ভরে সুতলি দিয়ে উপর থেকে নিচে ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ক্রেতারা দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানায়, মাদককারবারি উৎস তার স্পটের চারপাশে লোকজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখেন। পুলিশ বা সাংবাদিক দেখলেই সংকেত দিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়। ফলে মাদক স্পটের সবাই মুহূর্তের মধ্যে আত্মগোপন করে। সোর্সদের এমন তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম সোমবার বিকালে মাদককারবারি উৎসরের স্পটে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উৎস ও তার লোকজন আত্মগোপন করেন। তবে পুলিশ ওই স্পটে কাউকে পায়নি। কিন্তু তাদের মাদক বিক্রির কৌশল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। ফতুল্লায় গত ১২ দিনে অন্তত ২শ মাদককারবারি ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কিছু কৌশলধারী মাদককারবারি পুলিশকে অবাক করেছে। এর মধ্যে উৎস নামে একজন মাদককারবারির স্পটে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায় ক্রেতারা বিশ্বাস করে ইটের ফাঁক দিয়ে টাকা দিচ্ছেন এবং উপর থেকে প্লাস্টিকের বোতলে সুতলি বেঁধে মাদক তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কে টাকা নিচ্ছে এবং কে মাদক নিচে ফেলছে, কাউকেই দেখা যায় না। এটি সত্যিই অবাক করার মতো। এসব কৌশলধারী মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশও কৌশল নিয়েছে। খুব শিগগিরই ফতুল্লাকে মাদকমুক্ত করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ