রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১০ পি.এম
ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া র্যাপিড ট্রানজিটের (বিএআরটি) ওকল্যান্ড অংশজুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ট্রেন সেবা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেটওয়ার্কটির কলিজিয়াম স্টেশনের নিকটে হঠাৎ করেই একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কয়েকটি ব্যস্ত রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণরূপে থমকে যায়।
বিএআরটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে কলিজিয়াম স্টেশনের কাছে রেললাইনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পুরো নেটওয়ার্কজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এর ঠিক পূর্বে ফ্রুটভালে স্টেশনর ট্র্যাকে একটি যান্ত্রিক ত্রুটির খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে কলিজিয়ামের আগুনের ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে বেরিয়েসা লাইনের রিচমন্ড, ডেলি সিটি, ডাবলিন ও প্লেজ্যান্টনমুখী সব রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রুটভেলে ও বে ফেয়ার স্টেশনের মধ্যবর্তী সম্পূর্ণ অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক (পিজিঅ্যান্ডই) সূত্রে জানা গেছে, ওকল্যান্ডের স্যান লিয়ান্ড্রো স্ট্রিটের কাছে বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বিএআরটি ও ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলরোড—উভয় লাইনের ট্র্যাকে পড়ে যায়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই তারটি ছিঁড়ে পড়ার পরপরই সেখানে বিকট শব্দে অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটে।
ট্রেন চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কলিজিয়ামসহ আশপাশের স্টেশনগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। পরবর্তীতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে আলামেডা-কনট্রা কোস্টা ট্রানজিটের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বাস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহজুড়ে বিএআরটি নেটওয়ার্কে একের পর এক যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছিল। এর আগে ডেলি সিটি স্টেশনের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে বেরিয়েসা ও ডেলি সিটির মধ্যে ‘গ্রিন লাইন’ পরিষেবা স্থগিত করতে হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে, যা বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে আধুনিক বিষয়গুলো যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং সাইবার সিকিউরিটি যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, সরকার দেশের স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে তাল মিলাতে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় ছাড়াও উচ্চশিক্ষা বা টারশিয়ারি লেভেলে স্টেম শিক্ষাকে সমানভাবে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি কারিকুলাম সংস্কারের বিশদ রূপরেখা তুলে ধরে জানান, তাত্ত্বিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে দূরত্ব কমাতে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে মাহ্দী আমিন জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারপার্সোনাল ও ট্রান্সফারেবল দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দেশের সব প্রান্তের ও স্তরের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো উন্নত দেশের মতো কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করা।
মাহ্দী আমিন উচ্চশিক্ষাকে বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে কারিকুলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে নতুন স্টার্ট-আপ এবং সেখান থেকে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স' বা উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বাংলাদেশি তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের মেধার প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি তরুণরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তরুণদের উপযুক্ত রসদ ও প্ল্যাটফর্ম দিতে পারলে তারা বিশ্ব জয় করতে সক্ষম। সরকার ‘ব্রেন ড্রেন’ রুখে দিয়ে তা ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে চায়।
এক্ষেত্রে, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশীয় অ্যালামনাইদের এনডাউমেন্ট ফান্ড, সিএসআর ফান্ড ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বিশেষ ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের কারিকুলাম ও শিল্প বিকাশে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘স্টেম ফর অ্যা ফিচার-রেডি বাংলাদেশ : বিল্ডিং দ্য ব্যাকবোন অব দ্য ইনোভেটিভ ইকোনোমি’ শীর্ষক এই সেমিনারের সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি-আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম প্রমুখ। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলীর বিরুদ্ধে একটি সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে, ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে রাখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের ওই ব্যক্তি শুক্রবার সকালে তার স্ত্রী, পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও তার মেয়েকে নিয়ে মাদরাসা প্রাঙ্গণে যান। মেয়েটি ওই মাদরাসার সাবেক ছাত্রী। এ সময় মাদরাসা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে রাখেন। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওই ছাত্রীর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় এক মাস আগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলীর বিরুদ্ধে ওই সাবেক ছাত্রীকে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে। পরে এ অভিযোগের সূত্র ধরে হাছান আলীর কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েক দিন আগে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন বলেও দাবি করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাছান আলী বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, ওই ছাত্রীকে তিনি সন্তানের মতো দেখতেন। দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তার কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা কম নেওয়া হতো বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ছাত্রীর বাবা বলেন, তারা কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করতে আসেননি। তারা কোনো মব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাও করেননি। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান। প্রতিশোধ চান না। তার মেয়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ থাকায় তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় নেওয়ার অন্য কোনো কারণ নেই। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় একটি আটতলা ভবনে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট মোহাম্মদ মহসিনের কাছে জমা ছিল। বিদেশি নাগরিকদের জন্য ওই আটতলা ভবনটি ভাড়া নেওয়ার বিষয়েও তার ভূমিকা ছিল। পুলিশ এবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) খুলশী এলাকা থেকে মহসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরে ওই ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে কোকেনগুলো ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন মহসিন, কিন্তু পরে কোকেনগুলো ফেরত আসে। কোকেনের তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে খুলশীর ওই বাড়িতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান পুলিশের নজরে আসে।
মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। পুলিশ জানায়, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তার মাধ্যমেই বিদেশি নাগরিকদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ওই ভবনের জন্য মাসিক ৫ লাখ টাকা ভাড়া এবং অগ্রিম এক কোটি টাকা বাড়ির মালিককে প্রদান করা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, মহসিনের ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য ওই আটতলা ভবনটি ভাড়া দেন। মহসিনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় মহসিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে তার রিমান্ড চাওয়া হবে।
ওসি আবদুর রহিম বলেন, রিমান্ড মঞ্জুর হলে মহসিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে। ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক, কার নির্দেশে ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং তার পেছনে আর কারা রয়েছেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা দ্রুততম সময়ে চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ শুরু করা হয়েছে। সরকার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট উভয় ক্যাটাগরিতে ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তও নিয়েছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানিয়েছেন, "আমরা ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি।" এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, "অল্প দিনের মধ্যেই আমার সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করব।" এছাড়াও, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।" ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে এবং প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।
গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী (রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং এদিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে, এই সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার বহু রোগী চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে, যার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। ফলে, প্রান্তিক পর্যায়ে এই সেবা এখনও অপ্রতুল। নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে প্রতি ব্যাচে থাকবে ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের অভাব দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। যদি কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া যায়, তবে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এছাড়াও, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা হবে। এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে একটি ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ