ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আইনমন্ত্রী: আমার দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়


আইনমন্ত্রী: আমার দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, "অত্যন্ত গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলীয় কোনো কর্মী কোনো প্রকার চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়।"

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলা দোকান মালিক সমিতি এবং অটো-ইজিবাইক ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বক্তব্য প্রদান করেন।

মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, "শৈলকুপাসহ সারা দেশে আমরা তথাকথিত মব জাস্টিস বন্ধ করেছি। যারা ভিন্নমতের আছে তাদের বিরুদ্ধে মব জাস্টিস করার সুযোগ দেওয়া হবে না।"

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "১৭ বছরে যে লুটপাট হয়েছে, যে অন্যায় হয়েছে, আমাদের প্রথম দিনের শপথ ছিল সব লুটপাট, সব অন্যায়, সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনসঙ্গতভাবে ব্যবস্থা নেব। আমরা নিজেরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না।" তিনি বলেন, "সেই থেকে আজ পর্যন্ত শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেরে নিজেদেরকে গর্বিত মনে করছি।"

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, "আগে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হতো। আমরা সেটা বন্ধ করেছি। এখানে যে শ্রম দিতে পারবে, যার দক্ষতা আছে, আমরা তাকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।"

তিনি আরও বলেন, "আপনারা বিশ্বাস রাখবেন মন্ত্রীর নামে যে বরাদ্দ আসবে, তার প্রত্যেকটা পাই-পয়সা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এখানে (শৈলকুপায়) আমার কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ আনতে পারবে না। আমাদের দলীয় কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতও নয়।"

সভায় শৈলকূপা উপজেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব মিয়ার সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা ঠান্ডু। এতে বক্তব্য দেন মেহেদী হাসান সবুজ, আবুল কালাম আজাদ, সাইদুর রহমান ও জাকির হোসেন মোল্লাসহ অন্যান্যরা।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সভায় স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা পরিচালক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


নেত্রকোনায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা পরিচালক গ্রেপ্তার

নেত্রকোনার পূর্বধলায় একটি দোকানে কাজ করা এক শিশুকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ একটি মাদরাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল (৫০)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল পূর্বধলা উপজেলার একটি মাদরাসার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার একটি ফার্মেসির দোকানও রয়েছে, যেখানে শিশুটি কাজ করত।

শিশুটির বাবার দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন রাতে ফার্মেসির কাজ শেষ করে শিশুটি বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দুলাল তাকে ডেকে নিজ শোবার ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের বিষয়টি জানায়। পরে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে অভিযুক্ত দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে, নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মন্তব্য করেছেন যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।

তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ‘ইএসজি প্লাটফর্ম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বড় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে নতুন আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীর আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি এসেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তরুণ ও শিক্ষিত জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাঁচ বছর ধরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। আগের সরকারের সময়ে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে পার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস সাধারণত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তুলনায় কম এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে। তবে সংস্কার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন প্রবৃদ্ধির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা এগোচ্ছে। অতীতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতিকে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পাঁচটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে। এগুলো হলো নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশের উন্নয়ন, অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পণ্য পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, করনীতিতে পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ বাড়ানো এবং ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, পণ্য পরিবহনের গতি বাড়ানো, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে করের হার না বাড়িয়েও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা সহজ হবে।

বিজিএমইএর উদ্যোগের প্রশংসা করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন সংক্রান্ত মানদণ্ড অনুসরণ করলে শিল্প খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড যেন ম্লান না হয়, সেজন্য পদত্যাগ করলেন ইশরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড যেন ম্লান না হয়, সেজন্য পদত্যাগ করলেন ইশরাক

রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করার পর বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের ইমেজ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, “আমার কারণে যেন প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা পোষণ করেছি।”

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের সম্মুখীন হন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং অন্যান্য মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএনপি সরকারের মাত্র ৮ মাসের মাথায় সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, যে এলাকায় তিনি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন, সেটি মাদকের ডিস্ট্রিবিউশন হাবে পরিণত হয়েছে। সেখানে অর্থ ও অস্ত্র সবই রয়েছে।

তিনি জানান, যে অস্ত্রটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা বৈধ এবং আত্মরক্ষার জন্য কিছু সময়ের জন্য হাতে নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশ সেখানে যেতে চায় না।

বিতর্কের জন্য মিডিয়াকে দায়ী করে ইশরাক বলেন, “সেখানে আমি জমি দখল বা চাঁদাবাজি করতে যাইনি। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম। মিডিয়া সেই অবজেক্টিভ ধ্বংস করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি মাদককে নির্মূল করতে চাই— এই জায়গা থেকে পুরো দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের নিরাপত্তার জন্য বৈধ অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম। কিন্তু নানা মহলে এই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে।”

ইশরাক হোসেন জানান, অভিযানে যাওয়ার দিন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে তিনি জানিয়েছিলেন। কোন সময় তারা আসবে, সেটিও তাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন। তার সেখানে প্রবেশের পর প্রায় ২৫-৩০ জন লোক ছুটাছুটি শুরু করে এবং অন্য একটি দল তাদের দিকে আসতে থাকে। তখন তার নিরাপত্তার জন্য যে অস্ত্রটি ছিল, সেটি তিনি হাতে রেখেছিলেন। কিন্তু কিছু গণমাধ্যমে ন্যারিটিভ তৈরি করে মূল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আজকের দিন হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। তিনি সেই সুযোগ দিয়েছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বলি, ‘আমার মাদকবিরোধী অভিযান কেবল শুরু হলো, এটা চলবে। আমার কারণে যেন আপনার এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়, সেজন্য আমি পদত্যাগ করতে চাই।’”

গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর এলাকায় অভিযানের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদক নির্মূল করা। কিন্তু, গণমাধ্যমের একটি অংশ অস্ত্র হাতে তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশ করায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে গেছে।

ইশরাক বলেন, “যুদ্ধটা তো মাদকের বিরুদ্ধে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই, দলীয় কোনো স্বার্থ নেই, রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ নেই।”

তার দাবি, ঘণ্টিঘর এলাকায় শুধু মাদক সেবন নয়, মাদক সরবরাহের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ফজলুল হক মহিলা কলেজ, গেন্ডারিয়া কলেজ ও মনিজা রহমান কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক সরবরাহের অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে জানিয়েছেন। মাদকের মূল সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করা ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। রাস্তার পর্যায়ের বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে স্থায়ী সমাধান হবে না।

এজন্য মাদকের মূল সরবরাহকারী ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সবার সহযোগিতা চান ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, নিরাপদ থাকতে মেনে চলুন অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, নিরাপদ থাকতে মেনে চলুন অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে বৃদ্ধি পায়। তাই অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক, নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি, এবং নিজেকে নিরাপদ রাখা উচিত, পাশাপাশি অন্যদেরও নিরাপদ রাখতে হবে।

অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয়

১. আইন মেনে চলুন: ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

২. ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: ভবন নির্মাণকালে ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ করুন এবং এর সব শর্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করুন।

৩. রান্না শেষে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন: রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখুন। গ্যাসের চুলা নিভাতে ফুঁ দেবেন না; চুলার নবটি ভালোভাবে বন্ধ করুন।

৪. ধূমপানে সতর্ক থাকুন: বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলুন।

৫. শিশুদের নিরাপদ রাখুন: ছোট শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেবেন না।

৬. দাহ্যবস্তুর কাছে আগুন ব্যবহার করবেন না: দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। অন্যান্য স্থানে এগুলো ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

৭. রান্নাঘরে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন: গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন। গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

৮. বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বজায় রাখুন: বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ত্রুটিপূর্ণ তার ও অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলুন।

৯. অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখুন: বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন করুন। এগুলোর ব্যবহার শিখুন এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া আয়োজন করুন।

১০. প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।

১১. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে প্রবেশে সতর্ক থাকুন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বসতঘর বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত সময় বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন। গ্যাসের গন্ধ বা জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ, আগুন বা দিয়াশলাই জ্বালাবেন না। নিরাপদ স্থান থেকে জরুরি সহায়তা নিন।

১২. জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণ করুন: নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করে রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।

১৩. হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সতর্ক থাকুন: গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা ও বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং অগ্নিনিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করুন।

মনে রাখবেন

অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষার জন্য প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়। অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতন থাকুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%