প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে বৃদ্ধি পায়। তাই অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক, নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি, এবং নিজেকে নিরাপদ রাখা উচিত, পাশাপাশি অন্যদেরও নিরাপদ রাখতে হবে।
অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয়
১. আইন মেনে চলুন: ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: ভবন নির্মাণকালে ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ করুন এবং এর সব শর্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করুন।
৩. রান্না শেষে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন: রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখুন। গ্যাসের চুলা নিভাতে ফুঁ দেবেন না; চুলার নবটি ভালোভাবে বন্ধ করুন।
৪. ধূমপানে সতর্ক থাকুন: বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলুন।
৫. শিশুদের নিরাপদ রাখুন: ছোট শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেবেন না।
৬. দাহ্যবস্তুর কাছে আগুন ব্যবহার করবেন না: দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। অন্যান্য স্থানে এগুলো ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।
৭. রান্নাঘরে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন: গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন। গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৮. বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বজায় রাখুন: বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ত্রুটিপূর্ণ তার ও অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলুন।
৯. অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখুন: বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন করুন। এগুলোর ব্যবহার শিখুন এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া আয়োজন করুন।
১০. প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।
১১. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে প্রবেশে সতর্ক থাকুন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বসতঘর বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত সময় বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন। গ্যাসের গন্ধ বা জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ, আগুন বা দিয়াশলাই জ্বালাবেন না। নিরাপদ স্থান থেকে জরুরি সহায়তা নিন।
১২. জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণ করুন: নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করে রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।
১৩. হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সতর্ক থাকুন: গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা ও বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং অগ্নিনিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করুন।
মনে রাখবেন
অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষার জন্য প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়। অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতন থাকুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন