বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৭ পি.এম
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) নতুন ৩৩ সদস্যের কমিটি ভাসানী পরিষদের ঘোষণা করা হয়েছে।
এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে মুহাম্মদ ইপিয়ার হোসেন এবং সদস্য সচিব হিসেবে হাবিবুর রহমান নিযুক্ত হয়েছেন। তারা আগামী এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা কবি বুলবুল খান মাহবুব ও সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাভাবিপ্রবি শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়।
কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মো. মিজানুর রহমান মাসুম এবং মোহাম্মদ ইলিয়াস কামালকে মনোনীত করা হয়েছে। যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল আলীম সরকার ও মো. লুৎফর রহমান।
সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, মো. ইসমাইল হোসাইন, কাজী শহীদুল ইসলাম, দেওয়ান মো. কামাল উদ্দীন, এস. এম. সেলিম মিয়া, মোহাম্মদ মেহের আলী, খন্দকার হাবিল উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান বাবু, রাশেদুল ইসলাম রাসেল, মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ জুয়েল, মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ শামীম হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, মো. মফিজুল মন্ডল, মো. ফখরুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. রিপন তালুকদার, কামরুজ্জামান, মো. মোশারফ হোসেন রিন্টু, মো. আমিনুর ইসলাম, মো. আজিজুল হাকিম, মো. মামুন কবির খান, মো. বারিক আহম্মেদ, আহাম্মদ আলী এবং মো. লাবু মিয়া।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ ইপিয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, "মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তার আদর্শ বুকে নিয়ে দেশের ও মানুষের কল্যাণে আমরা কাজ করতে চাই।"
সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, "মাওলানা ভাসানীর আদর্শ ও দর্শনকে ধারণ করে ভাসানী পরিষদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণের পাশাপাশি দেশের মানুষের অধিকার ও কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া হবে।"
নেতারা উল্লেখ করেন, মাওলানা ভাসানীর আদর্শ ও জনকল্যাণের চেতনাকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করবে নবগঠিত কমিটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পুলিশ আমিনুল ইসলাম (৬৪) নামের এক মাদরাসাশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে। পরে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উল্লাশ্বর এলাকা থেকে জামিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার ওই শিক্ষককে আটক করে শাহরাস্তি থানার পুলিশ।
তথ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উল্লাশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী প্রতিদিন আমিনুল ইসলামের বাসায় আরবি শিখতে যেত। এই সুযোগে আমিনুল ইসলাম শিশুটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করতেন। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটির সঙ্গে একই ঘটনা ঘটলে শিশুটি স্কুলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বিষয়টি স্কুলশিক্ষিকা সামছুন্নাহারের নজরে পড়লে শিশুটি তাকে ঘটনার কথা জানায়।
পরে ওই স্কুলশিক্ষিকা শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি জানালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন শাহরাস্তি মডেল থানায় জানান।
এরপর শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে ঐদিন গভীর রাতে আটক করেন। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "সংবাদ পেয়েই গুরুত্বের সাথে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছি। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জো রুট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি বিরল মাইলফলক অর্জন করেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের শুরুতে রুট ২৩ হাজার রান থেকে মাত্র তিন রান দূরে ছিলেন। ইনিংসের শুরুতেই একটি দারুণ রিস্ট ফ্লিকের মাধ্যমে বল সীমানাছাড়া করে ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করেন।
রুট ২৩ হাজার আন্তর্জাতিক রান পূর্ণ করতে ৫২১ ইনিংস খেলেছেন। এর ফলে তিনি দ্রুততম ২৩ হাজার রানের তালিকায় ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলেছেন। শচীন এই মাইলফলক অর্জন করেছিলেন ৫২২ ইনিংসে।
তবে তালিকার শীর্ষে এখনও রয়েছেন ভারতের বিরাট কোহলি, যিনি মাত্র ৪৯০ ইনিংসে ২৩ হাজার আন্তর্জাতিক রান পূর্ণ করেছিলেন।
রুটের এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩ হাজার বা তার বেশি রান করা ব্যাটারের সংখ্যা আটজনে দাঁড়াল। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন শচীন টেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি, রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, রিকি পন্টিং ও জ্যাক ক্যালিস।
দীর্ঘদিন ধরে তিন ফরম্যাটে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হিসেবে পরিচিত রুট এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই রান-তালিকায় জায়গা করে নিয়ে ক্যারিয়ারে আরও একটি বিরল অর্জন যুক্ত করলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘রূপা কোথায়, জানি না’— খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সবুজ দাস তার নাবালিকা বোনের সন্ধানের জন্য অপেক্ষা করছেন, এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর তার বোন রূপা দাসকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করা হলেও, এখনও তার সন্ধান মেলেনি। রূপাকে উদ্ধারের জন্য বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে তার পরিবার।
একটি পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন অপেক্ষাগুলোর মধ্যে একটি হলো প্রিয়জন কোথায়, কেমন আছে, এবং আদৌ নিরাপদে আছে কিনা— এই প্রশ্নের কোনো উত্তর না পাওয়া। নাবালিকা রূপা দাসের পরিবারও গত কয়েক দিন ধরে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা জানে না, মেয়েটি কোথায় এবং কেমন আছে।
ঘটনার পর একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, তিনি পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, এমনটি জানিয়েছেন রূপার ভাই সবুজ দাস। মামলার অন্যান্য সন্দেহভাজনরাও আগাম জামিন পেয়েছেন বলে তার দাবি। তবে এত কিছুর পরেও রূপার সন্ধান মেলেনি।
সবুজ দাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের ২১ ব্যাচের (২০২০-২১ সেশন) শিক্ষার্থী। নিজের বোনের সন্ধান না পাওয়ার বিষয়টি তার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সবুজ দাস বলেন, ‘আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কেস নং-১৭-এর ভিকটিম রূপা দাসের ভাই। অত্যন্ত মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন হয়ে জানাচ্ছি যে, গত ১৩ তারিখে আমার নাবালিকা বোন রূপা দাসকে অপহরণ করা হয়েছে।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মামলার অন্যান্য সন্দেহভাজনরাও আগাম জামিন পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও পরিবারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়টি বদলায়নি— রূপা এখন কোথায়?
সবুজ দাস বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো আমার নাবালিকা বোন রূপা দাসকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একজন ভাই হিসেবে প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোনকে দ্রুত উদ্ধার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আমরা নড়াইলে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমার ও আমার পরিবারের এই কঠিন সময়ে সব আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং মানবিক ও সচেতন নাগরিকদের মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এজন্য ৩৭০ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির দপ্তরসমূহ, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য এবং সারাদেশের যত হাট-বাজার বা গ্রোথ সেন্টার রয়েছে, তাদের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ বরাদ্দ থেকে টাকা ছাড় করা হয়েছে এবং আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মোট ৩৭০ কোটি টাকা এ কাজে ছাড় করা হয়েছে।
মীর শাহে আলম জানান, প্রাথমিকভাবে উৎপাদনের পরিমাণ হবে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। তবে প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দের অর্থের সঙ্গে নিজস্ব রাজস্ব যোগ করে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা যে ১৫০ মেগাওয়াট ব্যবহার করবে, বাকি ১৫০ মেগাওয়াট সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্যাকেজ অনুযায়ী নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে পাওয়া অর্থে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে সরকারের দেওয়া অর্থ উঠে আসবে। এর ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত রাজস্ব আয় হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে স্বাচ্ছন্দ্য আসবে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় সুবিধা হবে।
তিনি বলেন, বিক্রি করলে আমরা হিসাব করে দেখেছি, আমরা যে টাকা ছাড় করছি এবং তারা যে টাকা ব্যয় করবে, ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে তারা যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে, তাহলে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ আমাদের উঠে আসবে। পরবর্তী সময়গুলোতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের একটি ইনকাম থাকবে, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না যাওয়ার একটি গ্যারান্টি থাকবে এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।
মীর শাহে আলম বলেন, সোলার প্যানেল স্থাপনকারী বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে আমরা একটি স্ট্যান্ডার্ড হিসাব নিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও তার একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। ৫.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনে খরচ হবে প্লাস-মাইনাস ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
তিনি জানান, এ হিসাব অনুযায়ী দেশের যেসব ইউনিয়ন পরিষদের ভবন রয়েছে, সেসব ইউনিয়ন পরিষদে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাট-বাজারের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ থেকেও ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আলাদা চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, হাট-বাজারের উন্নয়নের অর্থ ব্যবহার করে হাটের রূপটপ বা ছাদে প্যানেল স্থাপন করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল, গ্রামীণ শক্তিসহ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তালিকাভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালা অনুযায়ী ২০ বছরের একটি চুক্তি সই করবে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে। সেই চুক্তি অনুযায়ী ওইসব প্রতিষ্ঠান ২০ বছর ফ্রি সার্ভিসিং বা ওয়ারেন্টি দেবে আমাদের।
তিনি জানান, চুক্তির ফলে ২০ বছর সোলার প্যানেলের সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিশ্চয়তা থাকবে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মনিটরিং করবে, মেইনটেন্যান্স করবে এবং কোনো সমস্যা হলে তা ঠিক করবে।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের দেওয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্যাকেজ অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা বিক্রির সুবিধা নিতে চায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বায়ত্তশাসিত, তারা সরকারের টাকার পাশাপাশি তাদের সবারই নিজস্ব ইনকামের একটি ব্যবস্থা আছে। খেয়াঘাট বলেন, হাট-বাজার বলেন, তারপর পৌরসভার মধ্যে পরিবহন যাতায়াত করলে সেখান থেকে তারা একটি ট্যাক্স নেয়। এ রকম বিভিন্ন খাত থেকে, ট্রেড লাইসেন্স থেকে, হোল্ডিং থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ট্যাক্স আদায় করে। এভাবে রাজস্ব আহরণের ব্যাপারে তাদের নিজস্ব একটি নীতিমালা আছে বা সক্ষমতা আছে।
তিনি বলেন, এই রাজস্ব আহরণের সঙ্গে আমরা নতুন করে একটি প্লাস করে তাদের দিতে চাই, উৎসাহিত করতে চাই যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য তারা এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেরা ব্যবহার করবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎটা তারা সরকারের কাছে, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বিক্রি করে তাদেরও একটি নিজস্ব রাজস্ব আয় হবে।
প্রতিমন্ত্রী আবারও বলেন, ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা গেলে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ উঠে আসবে। পরবর্তী ২০ বছর পর্যন্ত সেবা ও ওয়ারেন্টির সুবিধার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারবে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম জানান, প্রায় ৩ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ৫.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ভ্যাট ও আয়কর কাটার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নিজস্ব রাজস্বের অর্থ থেকেও সোলার প্যানেল স্থাপনে ব্যয় করতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ হাট-বাজার থেকে ৫ শতাংশ এবং ভূমি রেজিস্ট্রেশন থেকে ১ শতাংশ রাজস্ব পায়। সেখান থেকে বলছি যে আপনারা আমাদের টাকার সঙ্গে আপনাদের রাজস্ব যোগ করে ডাবল বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন। নিজেরা ব্যবহার করবেন এবং জাতীয় গ্রিডে দেবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশনগুলোকে ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদকে ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভাকে ৬৪ কোটি টাকা এবং জেলা পরিষদকে ১২ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ