বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০০ পি.এম
সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী অক্টোবরে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাবের উদ্বোধন করা হবে।
কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে প্রতারণা কঠোরভাবে দমনের জন্য পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিশেষায়িত ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন এবং অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে।
সিআইডি জানিয়েছে, বিশেষায়িত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের জন্য চলতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্নত ল্যাব পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, "সাইবার জালিয়াতি, হ্যাকিং ও অনলাইন হয়রানি সংক্রান্ত যেসব মামলা সিআইডিতে আসে, তা পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে কর্মরত অফিসারদের সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (এফটিআই) ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে (ডিটিএস) চলমান ট্রেনিংয়ে নতুন নতুন মডিউল সংযোজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের উদ্যোগে দেশব্যাপী সাইবার ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স চালু করা হয়েছে, যেখানে সিআইডি’র অফিসাররা অংশগ্রহণ করছেন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত জিআর ৩২টি এবং সিআর ১৫৯টি মিলিয়ে মোট ১৯১ মামলা হয়েছে। এছাড়া সাইবার অপরাধের ঘটনায় এক বছরে ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিআইডির তথ্যমতে, সাইবার অপরাধীরা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনুমতি ছাড়া অন্যের ফেসবুক, ই-মেইল বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে প্রতারণা করছে। ভুয়া লিংক বা ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীর গোপন পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যের পরিচয় বা জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে প্রতারণা করা হয়ে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইন্টারনেটে বিভিন্ন জনকে ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও মানহানি করে সাইবার অপরাধীরা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশ যেকোনো অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে। সমাজ থেকে অপরাধ দমন ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশ বর্তমানে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত জোরদার ও তৎপর ভূমিকা পালন করছে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার, অনলাইন প্রতারণা এবং আর্থিক জালিয়াতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তোলার জন্য বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তের ওপর ১০ দিনের একটি বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যারা পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত বিশেষায়িত এই কোর্সের উদ্বোধন করেন।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশ দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। সাইবার অপরাধীদের দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবিতে) একটি সাইবার ল্যাব রয়েছে এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমে (সিটিটিসি) একটি ফরেনসিক ল্যাব চালুর অনুমোদন হয়েছে। ডিজিটাল মামলা তদন্তে ডিএমপি থেকে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাইবার অপরাধে রাজধানীর রমনা বিভাগে ৮৮টি মামলা ও ১৬৩ জনকে গ্রেফতার, লালবাগ বিভাগে ২২টি মামলা ও ২৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ওয়ারী বিভাগে ১২টি মামলা ও ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মতিঝিল বিভাগে ৩৩টি মামলা ও ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার, তেজগাঁও বিভাগে ৫৩টি মামলা ও ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার, মিরপুর বিভাগে ৩৩টি মামলা ও ২৭ জনকে গ্রেপ্তার, গুলশান বিভাগে ৩৮টি মামলা ও ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং উত্তরা বিভাগে ২৬টি মামলা ও ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, ভুয়া লিংক এবং আর্থিক প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের তথ্যমতে, দেশে সাইবার অপরাধের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে হ্যাকিং, আর্থিক প্রতারণা এবং নারী ও শিশুদের টার্গেট করে করা অপরাধের হার বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই-ভিত্তিক ভয়েস বা ভিডিও ক্লোনিং (ডিপফেক) ব্যবহার করে পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নতুন অপরাধচক্র তৎপর রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরির চেয়ে বর্তমানে সাইবার ক্রাইম বা ডিজিটাল জালিয়াতি অনেক বেশি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক জান্তার দ্বারা পরিচালিত একটি ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় কিয়াকতাউ শহরের একটি জনবহুল পাইকারি বাজারে জান্তার একটি যুদ্ধবিমান দুটি বোমা ফেলে।
আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, বাজার এবং সংলগ্ন একটি সেতু লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে এবং ৫৮ জনের বেশি আহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং জানিয়েছেন, হামলার শিকার বাজারটি ওই অঞ্চলের মূল অর্থনৈতিক কেন্দ্র ছিল। এটি সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর মধ্যে একটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্বারা ছড়িয়ে দেওয়া ছবিতে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন জ্বলছে, যানবাহন ধ্বংস হচ্ছে এবং সেতুর অংশ ভেঙে পড়ছে।
জান্তা সরকার বরাবরের মতোই এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা পূর্বে বেসামরিক এলাকা টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে তারা কেবল 'সন্ত্রাসবাদী' বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বৈধ সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত সংসদের মাধ্যমে নিজেকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে ক্ষমতা সুসংহত করেন সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং।
এদিকে, রাখাইনের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। এর প্রতিশোধে জান্তা সেখানে অবরোধ আরোপ করায় চরম খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের ফলে শুধুমাত্র রাখাইনেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়া, সংঘাতের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতায় মিয়ানমারে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের লিখিত নথি এবং ঘটনার দুই দিন পর পাঠানো কিছু খুদে বার্তা সামনে আসার পর ২০২৪ সালের ঘটনার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৌঁসুলির দপ্তর মামলাটির ফৌজদারি তদন্ত নতুনভাবে শুরু করেছে।
মামলার নথিতে ২০ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষার্থীকে ‘জেন ডো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের (Chi Phi fraternity) বাড়িতে তাকে মাদক খাওয়ানো হয় এবং একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সম্প্রতি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওই সময়ের সাত ভ্রাতৃসংঘ সদস্যের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন।
সিবিএস নিউজ নিউইয়র্কের হাতে আসা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের নথি অনুযায়ী, ঘটনার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর ১৪ নভেম্বর জেন ডোর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পরবর্তী দিনও তার জিজ্ঞাসাবাদ চলে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগের একজন তদন্তকারী উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিনের সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত তদন্তকারী, একজন ভুক্তভোগী সহায়তাকারী এবং জেন ডোর একজন পরামর্শদাতাও ছিলেন।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেন ডো ওই রাতে মদ্যপান ও মাদক গ্রহণের কথা জানান এবং তার স্মৃতিতে কিছু অংশ অস্পষ্ট ছিল বলে উল্লেখ করেন। প্রথমে ঘটে যাওয়া যৌন কর্মকাণ্ড এবং পরে যা ঘটেছে—দুটিকে তিনি আলাদা করে বর্ণনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক যৌন কর্মকাণ্ডে তিনি সম্মত ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তখন তিনি খুব মাতাল ছিলেন, তবে ওই অংশ নিয়ে তিনি মোটামুটি স্বস্তিতে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সে সময় তাকে খুব জোরে শারীরিকভাবে আঘাতও করা হচ্ছিল। পরে রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি পুলিশকে বলেন, তিনি শতভাগ নিশ্চিত যে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারী তার বক্তব্য লিখিত আকারে তৈরি করেন এবং প্রতিটি অংশ পড়ে শোনান। নথি অনুযায়ী, জেন ডোকে বক্তব্যের কোনো অংশ পরিষ্কার বা সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দিনে তিনি ছয় পৃষ্ঠার সংশোধিত বক্তব্যটি পড়ে দেখেন। স্বাক্ষর করার আগে তার পরামর্শদাতা তাকে আরও একজনের সঙ্গে বক্তব্যটি পর্যালোচনা করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। নথি অনুযায়ী, স্বাক্ষরের আগে জেন ডো জানান, নিজের বক্তব্য নিয়ে তিনি খুবই আত্মবিশ্বাসী।
এদিকে সিবিএস নিউজ নিউইয়র্কের হাতে আসা কিছু খুদে বার্তায়ও ঘটনার নতুন তথ্য উঠে এসেছে। সূত্রের দেওয়া ওই বার্তাগুলো জেন ডো ও মামলার এক অভিযুক্তের মধ্যে আদান-প্রদান হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বার্তাগুলো কথিত ঘটনার মাত্র দুই দিন পর পাঠানো হয়েছিল।
বার্তায় ওই ব্যক্তি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান, তার নিজের স্মৃতিও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তিনি আরও লেখেন, তিনি ও আরেক ব্যক্তি অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
জবাবে জেন ডো লেখেন, তার নিজেরও স্মৃতি খুব অস্পষ্ট এবং সবাই অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ত ছিল। প্রকাশিত বার্তায় তিনি ওই সময়ের যৌন কর্মকাণ্ডকে অবৈধ মনে হয়নি বলেও লেখেন। পাশাপাশি তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে আবার ধূমপান করার প্রস্তাব দেন, তবে অতিরিক্ত লোকজন ও কেটামিন ছাড়া।
তবে জেন ডোর আইনজীবী থমাস জিউফ্রা জানান, তার মক্কেল ঘটনার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন বলে তিনি নিশ্চিত, কিন্তু প্রকাশিত ছবিগুলোই সেই নির্দিষ্ট বার্তা কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তাঁর দাবি, ঘটনার পর জেন ডো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং কী ঘটেছিল তা বোঝার চেষ্টা করছিলেন।
কেন তদন্ত আবার শুরু হলো
টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে দেওয়া জেন ডোর শপথ করা বক্তব্য এবং সম্প্রতি করা দেওয়ানি মামলার অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তার মতে, আগের বক্তব্যে জেন ডোকে জোর করে মাদক খাওয়ানো বা একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে—এমন অভিযোগ ছিল না। বরং সেই বক্তব্যে মাদক গ্রহণ ও যৌন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণকে স্বেচ্ছাসম্মত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। ওই বক্তব্য পর্যালোচনার পর তখন অভিযোগ আনা হয়নি বলে জেলা অ্যাটর্নি জানান।
তবে সম্প্রতি দেওয়ানি মামলা দায়ের হওয়ার পর এবং বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার পর ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেয়। নতুন তদন্তে জেন ডোর বক্তব্যের পাশাপাশি দেওয়ানি মামলায় উঠে আসা নতুন তথ্যও বিবেচনা করা হবে। পরে বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন জেলা অ্যাটর্নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তেও শাস্তি
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ও ২০২৪ সালের ঘটনায় আলাদা তদন্ত করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত ও শুনানি শেষে অভিযুক্তদের কয়েকজনকে বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়। ভ্রাতৃসংঘটির শাখাটিও ২০২৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এখনও ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে মামলায় অভিযুক্ত দুজনের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের একজনের আইনজীবীর দাবি, ভ্রাতৃসংঘের কথোপকথনে আপত্তিকর বার্তা থাকলেও সেটিকে যৌন নিপীড়নের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।
জেন ডোর আইনজীবী অবশ্য দাবি করেছেন, ঘটনার পর তার মক্কেল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং তদন্তকারীরা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি।
মামলাটির ফৌজদারি তদন্ত এখন পুনরায় শুরু হয়েছে। জেন ডোর চূড়ান্ত ছয় পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক দেখেনি বলে জানিয়েছে। ফলে প্রকাশিত জিজ্ঞাসাবাদের নথি ও খুদে বার্তাগুলো মামলার সামগ্রিক প্রমাণের একটি অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ , সিবিএস নিউজ ২
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরে মসজিদের মাইকে ডাকাত সন্দেহে পাঁচ যুবককে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে বেশ কয়েকজন যুবক বালিয়াডাঙা গ্রামে প্রবেশ করেন। তাদের আচরণ দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ডাকাত হওয়ার সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এ সময় বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকা থেকে তাদের ধাওয়া করা হয়। এক পর্যায়ে মান্দারতলায় প্রাইভেটকারটি ফেলে তারা বিভিন্ন দিকে পালানোর চেষ্টা করেন।
পরে মালোপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা পাঁচজনকে ধরে ফেলেন। তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয় এবং পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একইসাথে মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। তাদের পুলিশ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন, আটককৃতদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন, কিন্তু তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, হাসপাতালে নেওয়ার পর আটক ব্যক্তিরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করতে থাকেন। একজন দাবি করেন, তারা এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। অপর একজন বলেন, তাদের একজনের স্ত্রীকে নিতে তারা এলাকায় এসেছিলেন, কিন্তু গ্রামবাসী তাদের ডাকাত মনে করেন। অন্য একজন জানান, তিনি কিছুই জানেন না।
আটক ব্যক্তিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে ঘটনার রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, "তারা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ডাকাতির কোনো ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত) ত্রিশিতা মওলাসহ একটি প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎকালে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপি কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান, কারণ জিএসএফ হাইতি মিশনে ডিএমপির সোয়াট সদস্য ও বোম্ব টেকনিশিয়ান সরবরাহ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে পূর্বের মতো প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে রাজধানীর পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিয়ার টিম গঠন করায় ডিএমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন (ক-৯) টিমের মতো বিশেষায়িত টিম গঠন এবং বাংলাদেশে উগ্রবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন টিমের কার্যক্রম পরিদর্শন করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রম, সক্ষমতা ও ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।
মার্কিন প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপমিশন প্রধান লোগান কলিন্স, সহকারী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট সুলিভান এবং জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ হাবিব।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ