বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০০ পি.এম
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক জান্তার দ্বারা পরিচালিত একটি ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় কিয়াকতাউ শহরের একটি জনবহুল পাইকারি বাজারে জান্তার একটি যুদ্ধবিমান দুটি বোমা ফেলে।
আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, বাজার এবং সংলগ্ন একটি সেতু লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে এবং ৫৮ জনের বেশি আহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং জানিয়েছেন, হামলার শিকার বাজারটি ওই অঞ্চলের মূল অর্থনৈতিক কেন্দ্র ছিল। এটি সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর মধ্যে একটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্বারা ছড়িয়ে দেওয়া ছবিতে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন জ্বলছে, যানবাহন ধ্বংস হচ্ছে এবং সেতুর অংশ ভেঙে পড়ছে।
জান্তা সরকার বরাবরের মতোই এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা পূর্বে বেসামরিক এলাকা টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে তারা কেবল 'সন্ত্রাসবাদী' বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বৈধ সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত সংসদের মাধ্যমে নিজেকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে ক্ষমতা সুসংহত করেন সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং।
এদিকে, রাখাইনের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। এর প্রতিশোধে জান্তা সেখানে অবরোধ আরোপ করায় চরম খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের ফলে শুধুমাত্র রাখাইনেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়া, সংঘাতের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতায় মিয়ানমারে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের লিখিত নথি এবং ঘটনার দুই দিন পর পাঠানো কিছু খুদে বার্তা সামনে আসার পর ২০২৪ সালের ঘটনার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৌঁসুলির দপ্তর মামলাটির ফৌজদারি তদন্ত নতুনভাবে শুরু করেছে।
মামলার নথিতে ২০ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষার্থীকে ‘জেন ডো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের (Chi Phi fraternity) বাড়িতে তাকে মাদক খাওয়ানো হয় এবং একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সম্প্রতি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওই সময়ের সাত ভ্রাতৃসংঘ সদস্যের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন।
সিবিএস নিউজ নিউইয়র্কের হাতে আসা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের নথি অনুযায়ী, ঘটনার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর ১৪ নভেম্বর জেন ডোর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পরবর্তী দিনও তার জিজ্ঞাসাবাদ চলে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগের একজন তদন্তকারী উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিনের সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত তদন্তকারী, একজন ভুক্তভোগী সহায়তাকারী এবং জেন ডোর একজন পরামর্শদাতাও ছিলেন।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেন ডো ওই রাতে মদ্যপান ও মাদক গ্রহণের কথা জানান এবং তার স্মৃতিতে কিছু অংশ অস্পষ্ট ছিল বলে উল্লেখ করেন। প্রথমে ঘটে যাওয়া যৌন কর্মকাণ্ড এবং পরে যা ঘটেছে—দুটিকে তিনি আলাদা করে বর্ণনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক যৌন কর্মকাণ্ডে তিনি সম্মত ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তখন তিনি খুব মাতাল ছিলেন, তবে ওই অংশ নিয়ে তিনি মোটামুটি স্বস্তিতে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সে সময় তাকে খুব জোরে শারীরিকভাবে আঘাতও করা হচ্ছিল। পরে রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি পুলিশকে বলেন, তিনি শতভাগ নিশ্চিত যে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারী তার বক্তব্য লিখিত আকারে তৈরি করেন এবং প্রতিটি অংশ পড়ে শোনান। নথি অনুযায়ী, জেন ডোকে বক্তব্যের কোনো অংশ পরিষ্কার বা সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দিনে তিনি ছয় পৃষ্ঠার সংশোধিত বক্তব্যটি পড়ে দেখেন। স্বাক্ষর করার আগে তার পরামর্শদাতা তাকে আরও একজনের সঙ্গে বক্তব্যটি পর্যালোচনা করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। নথি অনুযায়ী, স্বাক্ষরের আগে জেন ডো জানান, নিজের বক্তব্য নিয়ে তিনি খুবই আত্মবিশ্বাসী।
এদিকে সিবিএস নিউজ নিউইয়র্কের হাতে আসা কিছু খুদে বার্তায়ও ঘটনার নতুন তথ্য উঠে এসেছে। সূত্রের দেওয়া ওই বার্তাগুলো জেন ডো ও মামলার এক অভিযুক্তের মধ্যে আদান-প্রদান হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বার্তাগুলো কথিত ঘটনার মাত্র দুই দিন পর পাঠানো হয়েছিল।
বার্তায় ওই ব্যক্তি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান, তার নিজের স্মৃতিও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তিনি আরও লেখেন, তিনি ও আরেক ব্যক্তি অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
জবাবে জেন ডো লেখেন, তার নিজেরও স্মৃতি খুব অস্পষ্ট এবং সবাই অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ত ছিল। প্রকাশিত বার্তায় তিনি ওই সময়ের যৌন কর্মকাণ্ডকে অবৈধ মনে হয়নি বলেও লেখেন। পাশাপাশি তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে আবার ধূমপান করার প্রস্তাব দেন, তবে অতিরিক্ত লোকজন ও কেটামিন ছাড়া।
তবে জেন ডোর আইনজীবী থমাস জিউফ্রা জানান, তার মক্কেল ঘটনার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন বলে তিনি নিশ্চিত, কিন্তু প্রকাশিত ছবিগুলোই সেই নির্দিষ্ট বার্তা কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তাঁর দাবি, ঘটনার পর জেন ডো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং কী ঘটেছিল তা বোঝার চেষ্টা করছিলেন।
কেন তদন্ত আবার শুরু হলো
টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে দেওয়া জেন ডোর শপথ করা বক্তব্য এবং সম্প্রতি করা দেওয়ানি মামলার অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তার মতে, আগের বক্তব্যে জেন ডোকে জোর করে মাদক খাওয়ানো বা একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে—এমন অভিযোগ ছিল না। বরং সেই বক্তব্যে মাদক গ্রহণ ও যৌন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণকে স্বেচ্ছাসম্মত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। ওই বক্তব্য পর্যালোচনার পর তখন অভিযোগ আনা হয়নি বলে জেলা অ্যাটর্নি জানান।
তবে সম্প্রতি দেওয়ানি মামলা দায়ের হওয়ার পর এবং বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার পর ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেয়। নতুন তদন্তে জেন ডোর বক্তব্যের পাশাপাশি দেওয়ানি মামলায় উঠে আসা নতুন তথ্যও বিবেচনা করা হবে। পরে বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন জেলা অ্যাটর্নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তেও শাস্তি
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ও ২০২৪ সালের ঘটনায় আলাদা তদন্ত করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত ও শুনানি শেষে অভিযুক্তদের কয়েকজনকে বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়। ভ্রাতৃসংঘটির শাখাটিও ২০২৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এখনও ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে মামলায় অভিযুক্ত দুজনের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের একজনের আইনজীবীর দাবি, ভ্রাতৃসংঘের কথোপকথনে আপত্তিকর বার্তা থাকলেও সেটিকে যৌন নিপীড়নের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।
জেন ডোর আইনজীবী অবশ্য দাবি করেছেন, ঘটনার পর তার মক্কেল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং তদন্তকারীরা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি।
মামলাটির ফৌজদারি তদন্ত এখন পুনরায় শুরু হয়েছে। জেন ডোর চূড়ান্ত ছয় পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক দেখেনি বলে জানিয়েছে। ফলে প্রকাশিত জিজ্ঞাসাবাদের নথি ও খুদে বার্তাগুলো মামলার সামগ্রিক প্রমাণের একটি অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ , সিবিএস নিউজ ২
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরে মসজিদের মাইকে ডাকাত সন্দেহে পাঁচ যুবককে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে বেশ কয়েকজন যুবক বালিয়াডাঙা গ্রামে প্রবেশ করেন। তাদের আচরণ দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ডাকাত হওয়ার সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এ সময় বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকা থেকে তাদের ধাওয়া করা হয়। এক পর্যায়ে মান্দারতলায় প্রাইভেটকারটি ফেলে তারা বিভিন্ন দিকে পালানোর চেষ্টা করেন।
পরে মালোপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা পাঁচজনকে ধরে ফেলেন। তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয় এবং পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একইসাথে মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। তাদের পুলিশ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন, আটককৃতদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন, কিন্তু তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, হাসপাতালে নেওয়ার পর আটক ব্যক্তিরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করতে থাকেন। একজন দাবি করেন, তারা এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। অপর একজন বলেন, তাদের একজনের স্ত্রীকে নিতে তারা এলাকায় এসেছিলেন, কিন্তু গ্রামবাসী তাদের ডাকাত মনে করেন। অন্য একজন জানান, তিনি কিছুই জানেন না।
আটক ব্যক্তিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে ঘটনার রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, "তারা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ডাকাতির কোনো ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত) ত্রিশিতা মওলাসহ একটি প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎকালে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপি কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান, কারণ জিএসএফ হাইতি মিশনে ডিএমপির সোয়াট সদস্য ও বোম্ব টেকনিশিয়ান সরবরাহ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে পূর্বের মতো প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে রাজধানীর পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিয়ার টিম গঠন করায় ডিএমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন (ক-৯) টিমের মতো বিশেষায়িত টিম গঠন এবং বাংলাদেশে উগ্রবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন টিমের কার্যক্রম পরিদর্শন করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রম, সক্ষমতা ও ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।
মার্কিন প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপমিশন প্রধান লোগান কলিন্স, সহকারী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট সুলিভান এবং জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ হাবিব।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা কমানোর একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে মেরিন বাহিনীর ঘাঁটিতে সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে দেওয়া এক বিরল ভাষণে তিনি এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এই পরিকল্পনার আওতায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পদসংখ্যা ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে হেগসেথ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল ও পতাকাবাহী কর্মকর্তাদের সংখ্যা অন্তত ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ন্যাশনাল গার্ডের জেনারেল কর্মকর্তাদের ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। নতুন পরিকল্পনায় সামগ্রিক কাটছাঁটের লক্ষ্য দ্বিগুণ করে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে।
হেগসেথের পূর্ববর্তী নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক স্তর কমিয়ে কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা এবং নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও সহজ করা অপরিহার্য। তাঁর মতে, অতিরিক্ত পদ ও কাঠামো কমানোর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে নতুনত্ব এবং কার্যকর নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেরিন বাহিনী, বিমানবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনী মিলিয়ে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা ছিল ৮৫১ জন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৮৪৮। দেশটির আইনে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা এ ধরনের কর্মকর্তার সর্বোচ্চ সংখ্যা ৮৫৭ নির্ধারিত রয়েছে।
হেগসেথের এবারের বক্তব্যের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। ঠিক এক বছর আগে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে কোয়ান্টিকোতে ডেকেছিলেন। ওই বৈঠকে তিনি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন মানদণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে আরও কঠোর শৃঙ্খলা ও মান বজায় রাখার কথা বলেন।
হেগসেথ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অন্তত ২০ জন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও বেসামরিক সামরিক কর্মকর্তা তাদের পদ হারিয়েছেন বা পদ ছেড়েছেন। তাঁদের মধ্যে যৌথ বাহিনীর প্রধান এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সেনা ও নৌবাহিনীর বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও পরিবর্তন করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীতে জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা কমানো প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মতভেদ রয়েছে। কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচকদের মতে শীর্ষ পর্যায়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ধীর হতে পারে এবং সামরিক ব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, এর বিপরীত মত হলো—আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে সামরিক সমন্বয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ শীর্ষ কর্মকর্তা প্রয়োজন।
ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর মার্ক কেলি হেগসেথের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি তার রাজনৈতিক মতামত; হেগসেথ প্রশাসন শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামোকে ছোট ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ