মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৫ পি.এম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এই আধুনিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যাবে, চুল্লির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যাবে এবং কেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের কোনো প্রকল্পে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রোসাটম) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস সরবরাহ করা এই স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের আওতায় প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সাত হাজারের বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে চুল্লির স্থিতিশীলতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে, যা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ এবং দক্ষ পরিচালনায় সহায়ক হবে।
এছাড়া, এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) যুক্ত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ইউনিটের ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে (আরএএসইউ) এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে সিস্টেমটি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এটি স্টার্টআপ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
ওআইএসএস- এর মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন পরিচালন প্রক্রিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। সিস্টেমটি ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সিস্টেম থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম এবং সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে ৮০টিরও বেশি নির্দেশিকার ভিত্তিতে অপারেটরদের পরামর্শ দেয়া হবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ কারিগরি তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওআইএসএস জটিল পরিচালন-সংক্রান্ত তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করে অপারেটরদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীরা আরও কার্যকর সহায়তা পাবেন।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ এ বিষয়ে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্প হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রোসাটমের একটি অগ্রণী প্রকল্প। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
লিখাচেভ আরও বলেন, এই ব্যবস্থা বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাড়া দেওয়ার সময় কমাতে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করতে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের জন্য নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারবে।
জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। উভয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার স্থাপন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালন-সংশ্লিষ্ট আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে হেনস্তার চেষ্টা হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এক বিবৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে অবিলম্বে তাদের বিচারের দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। তিনি বলেন, "আমরা ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের এমন অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি।" তিনি আরও বলেন, তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই।
এনসিপির এই আহ্বায়ক দেশ ও বিদেশে সক্রিয় এই নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিস্ট আমলের গুম, খুনে জড়িতদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে।" তিনি বলেন, "এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে।"
সবশেষে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা।" তিনি সরকারের কাছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন সিকিউরিটি গার্ড পদে ২৫ জনের নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই পদে আবেদন করার জন্য অষ্টম শ্রেণি পাস পুরুষ প্রার্থীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সরাসরি অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচিত প্রার্থীদের মাসিক বেতন হবে ১০ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি, সম্পূর্ণ ফ্রি থাকা-খাওয়া, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ২ ঈদে বোনাস এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হবে।
পদের নাম ও বিবরণ
প্রতিষ্ঠানের নাম: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
পদের নাম: সিকিউরিটি গার্ড
পদসংখ্যা: ২৫
দায়িত্বসমূহ
শিক্ষাগত যোগ্যতা: সর্বনিম্ন অষ্টম শ্রেণি পাস
অভিজ্ঞতা: ২ বছর
প্রার্থীর ধরন: পুরুষ
বয়সসীমা: ২৫-৫০ বছর
চাকরির ধরন: বেসরকারি, ফুল টাইম
বেতন: ১০,০০০ টাকা।
অন্যান্য সুবিধা: থাকা-খাওয়া সম্পূর্ণ ফ্রি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ২ ঈদে বোনাস ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট।
কর্মস্থল: যেকোনো জেলা
আবেদন যেভাবে: সরাসরি/কুরিয়ার
আবেদনের ঠিকানা: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, প্লট-৬২, রোড-৩, ব্লক-এ, আফতাবনগর, ঢাকা-১২১২।
আবেদনের সময়সীমা: ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রচণ্ড রোদ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা এবং সুস্থ থাকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়। অতিরিক্ত গরম কেবল অস্বস্তিই তৈরি করে না, বরং শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, হিটস্ট্রোক, হিট এক্সহস্টশন, পানিশূন্যতা ইত্যাদি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই কিছু সচেতনতা এবং সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে আমরা সহজেই এই তীব্র গরম থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি।
প্রচণ্ড রোদে সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। গরমের সময় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, ফলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই দিনে কমপক্ষে ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত এবং বাইরে থাকলে আরও বেশি পানি পান করতে হবে। শুধু পানি নয়, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ওআরএস কিংবা ফলের রসও শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক। যারা বেশি ঘামেন, তাদের জন্য লবণ-চিনি মিশ্রিত পানীয় বিশেষভাবে উপকারী।
দিনের সবচেয়ে গরম সময় অর্থাৎ দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে বাইরে যাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এই সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সবচেয়ে বেশি তীব্র থাকে, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এবং শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে। যদি একান্তই বাইরে যেতে হয়, তাহলে চেষ্টা করুন ছায়াযুক্ত পথ ব্যবহার করতে বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিয়ে বের হতে।
পোশাকের ব্যাপারেও সচেতন হওয়া জরুরি। গরমে সবসময় হালকা রঙের, ঢিলেঢালা এবং সুতির কাপড় পরা উচিত। সুতির কাপড় ঘাম শোষণ করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গাঢ় রঙের কাপড় তাপ বেশি শোষণ করে, ফলে শরীর আরও গরম হয়ে যায়। এছাড়া মাথা ঢাকার জন্য ক্যাপ বা টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে মাথাকে রক্ষা করবে।
বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়। এটি সরাসরি রোদ থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কম রাখে। পাশাপাশি সানগ্লাস ব্যবহার করলে চোখও সুরক্ষিত থাকে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে চোখে জ্বালা বা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা এভাবে এড়ানো সম্ভব।
ত্বকের সুরক্ষার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা যায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাদের জন্য এটি অপরিহার্য।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। গরমের সময় তেল-ঝাল ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল বেশি খাওয়া ভালো। তরমুজ, শসা, আনারস, পেঁপে ইত্যাদি ফল শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং পানির ঘাটতি পূরণ করে। দই বা লাচ্ছিও শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর।
অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলা উচিত। প্রচণ্ড রোদে ভারী কাজ বা ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি কাজ করতেই হয়, তাহলে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম করুন। অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা বমি ভাব হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গরমে সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘাম বেশি হলে শরীরে জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার কাপড় পরা এবং ঘাম শুকনো রাখা প্রয়োজন। এতে শরীর সতেজ থাকবে এবং রোগের ঝুঁকিও কমবে। ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখা উচিত। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। প্রয়োজনে ফ্যান, এক্সহস্ট ফ্যান বা এয়ার কুলার ব্যবহার করতে পারেন। দিনে পর্দা টেনে রাখলে ঘরের ভেতর সরাসরি রোদ ঢোকা কমে এবং ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তারা গরমে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই তাদের নিয়মিত পানি পান করানো, রোদে কম বের করা এবং আরামদায়ক পরিবেশে রাখা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা হিটস্ট্রোক এর ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে, পানি খাওয়াতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
প্রচণ্ড রোদ থেকে বাঁচার জন্য খুব জটিল কিছু করতে হয় না। কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই যথেষ্ট। সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গরমের সময়ও সুস্থ, সতেজ ও নিরাপদ থাকতে পারবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল সরকারি কলেজে বর্তমানে প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। কিন্তু কলেজের পুরো ক্যাম্পাসে বর্জ্য ফেলার জন্য কোনো নির্ধারিত স্থান বা ডাস্টবিন নেই। এ কারণে একাডেমিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণ, প্রশাসন ভবন এবং খেলার মাঠের আশপাশে প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের কাপ, পলিথিন ও উচ্ছিষ্ট খাবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এর ফলে একদিকে পরিবেশের অবনতি ঘটছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
সরেজমিনে কবি নজরুল সরকারি কলেজের প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে দেখা যায়, এখানে একটি জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর চিত্র বিরাজমান। কলেজের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ছড়াছড়ি। প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন এবং ঐতিহ্যবাহী লাল ভবনের কোণগুলোতে জমে আছে পলিথিন, অপচনশীল প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট ও কাগজের কাপ।
ক্লাসের বিরতিতে বা অবসরে শত শত শিক্ষার্থী এখানে নাশতা বা চা-পান করলেও বর্জ্য ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিনও খুঁজে পান না। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে ওয়ানটাইম গ্লাস, চায়ের কাপ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ খোলা জায়গায় বা ড্রেনের ওপর ফেলে রাখছেন। বাতাস প্রবাহিত হলে এসব উচ্ছিষ্ট ও কাগজ পুরো মাঠ ও হাঁটার রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, যা এক নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি করছে।
একই পরিস্থিতি দেখা গেছে কলেজের শ্রেণিকক্ষগুলো ও বাইরের বারান্দায়। কোথাও স্থায়ী তো দূরের কথা, অস্থায়ী বা প্লাস্টিকের কোনো আবর্জনা ফেলার পাত্র বা ড্রামও চোখে পড়েনি। বিশেষ করে বর্ষার দিনে ড্রেনের মুখে জমা প্লাস্টিকের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জমে থাকা পচা ময়লা থেকে মশা ও মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এদিকে ক্যাম্পাসের এই বেহাল দশার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা থাকলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আবর্জনার স্তূপ জমে থাকলেও তা অপসারণের জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেবল দায়িত্বহীনতার কারণে ক্যাম্পাসের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
ক্যাম্পাসের এই পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, "আমরা প্রতিদিন ক্লাসে আসি, কিন্তু কোথাও একটা ময়লা ফেলার ডাস্টবিন পাই না। চা বা নাশতা খাওয়ার পর বাধ্য হয়েই কাপ বা প্যাকেট মাটিতে ফেলতে হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবহেলা আর পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় পুরো ক্যাম্পাসের আশেপাশে ময়লা পড়ে থাকে। আমি মনে করি, এর একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি।"
এ বিষয়ে কবি নজরুল কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী শরীফ হোসেন বলেন, "প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক সময় আবর্জনা যত্রতত্র ফেলতে হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত দেখা মেলে না। একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটি অত্যন্ত মৌলিক একটি সুবিধা। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস নিশ্চিতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, "কলেজে তো বেশ কয়েকটি ডাস্টবিন ছিল, সেগুলো এখন কোথায়? যাইহোক, ক্যাম্পাস ছোট হওয়ার কারণে ডাস্টবিন বসানোর পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তবে তোমরা যেহেতু বিষয়টি আমাদের অবগতির জন্য করছো, তাই আমরা কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় একটি ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেব। আর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের অবহেলার বিষয়টি নিয়ে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ