ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘গবেষণা নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারলে শিক্ষার অগ্রগতি সম্ভব নয়’


‘গবেষণা নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারলে শিক্ষার অগ্রগতি সম্ভব নয়’

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যদি আমরা গবেষণা-নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে অক্ষম হই, তাহলে শিক্ষার অগ্রগতি কখনোই সম্ভব নয়। তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আরও বেশি গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন; সেই সঙ্গে এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উপাচার্যদের সংলাপের শেষ দিনের সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয় এবং এভাবে এসব বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ক্ষেত্র বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। গবেষণার বিনিময়ে শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা বাজেটের যে সমস্যা আছে তা সমাধান হবে।

রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, এ দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদেশে ব্যতিক্রমী ফলাফল দেখাচ্ছে। একই সাথে গবেষণা ক্ষেত্রেও তারা বৃহত্তর সাফল্য অর্জন করছে। তাই শিক্ষকদের এবং শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সেই মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জেড এন তাহমিদা বেগম।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষক কার্ড সম্পর্কে জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৬ পি.এম


কৃষক কার্ড সম্পর্কে জরুরি নির্দেশনা

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের জন্য দেশব্যাপী কৃষক ও সার ডিলারদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও হালনাগাদের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) দিয়েছে। এই জরুরি নির্দেশনায় সব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএই’র মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সই করা একটি চিঠিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক কার্ড প্রদানের অংশ হিসেবে কৃষক ও সার ডিলারদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংগৃহীত তথ্যের নিয়মিত যাচাই ও অনুমোদনের পাশাপাশি তথ্যের সঠিকতা ও পূর্ণতা নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলোতে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং সংগৃহীত তথ্য নিয়মিতভাবে যাচাই ও অনুমোদন করতে হবে। সেই সঙ্গে সার ডিলারদের তথ্য বিদ্যমান অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যে দু’টি ব্লকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো বাদে বাকি দু’টি ব্লকের তথ্য আগামী রবিবার (২৩ আগস্ট) এর মধ্যে সংগ্রহ শেষ করতে বলা হয়েছে। আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট) এর মধ্যে অবশিষ্ট সব ব্লকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ক্ষেত্রে আপাতত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ডিলারদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের আওতাধীন সব বিদ্যমান ব্লকের নাম সিস্টেমে সংযুক্ত করতে হবে। তবে কোনো ব্লক বাদ না পড়ার বিষয়টি চিঠিতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্লকের আওতাধীন সব মৌজা ও গ্রামের তথ্য যথাযথভাবে ওই ব্লকের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চিঠিতে আরও বলা হয়, তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে তথ্যের নির্ভুলতা ও পূর্ণতা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক কার্ড কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষক ও সার ডিলারদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও হালনাগাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করে তথ্যভান্ডার সঠিক ও হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চা খেয়ে রাতে একা বাড়ি ফিরছিলেন বৃদ্ধ, পথে পায়ের রগ কেটে দিল ঝালু বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


চা খেয়ে রাতে একা বাড়ি ফিরছিলেন বৃদ্ধ, পথে পায়ের রগ কেটে দিল ঝালু বাহিনী

মাদারীপুরের কালকিনির ঘটনার জেরে মো. এছাহাক সরদার (৭৫) নামের একজন বৃদ্ধকে কুপিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ঐ বৃদ্ধের বাড়িতে হামলা, দুটি বসতঘর ভাঙচুর এবং অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ এসেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বাধা দিতে গিয়ে তিন যুবকও আহত হন। ঘটনাটির পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে মো. এছাহাক সরদারের সাথে এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পাশের দোকান থেকে চা খেয়ে বৃদ্ধ এছাহাক একা বাড়ি ফিরছিলেন, তখন আগে থেকেই অবস্থান করা কয়েকজন তার গতিরোধ করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা এবং লিমন মোল্লাসহ কয়েকজন প্রথমে এছাহাককে কুপিয়ে জখম করে। পরে তার দুই পায়ের রগ কেটে তাকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এরপর শনিবার দুপুরে ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারসহ কয়েকজন আবার সেই বাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময় বাড়ির সামনে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং দুটি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে জাহিদ খান (২৫), রাজিব সরদার (২৫) এবং নাজমুল ব্যাপারী (২৩) আহত হন যা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র কালকিনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুনভাবে সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহত এছাহাক সরদারের আত্মীয় ইসমাইল জানিয়েছেন, পূর্বশত্রুতার কারণে ঝালু মোল্লা ও তার সহযোগীরা এছাহাক সরদারকে কুপিয়ে দুটি পায়ের রগ কেটে দেয়। এর পরদিন আবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণ করে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রত্যাশা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঝালু مোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেছেন, জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এক ব্যক্তির পায়ের রগ কেটে দেওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শন করলেন তেজগাঁও থানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শন করলেন তেজগাঁও থানা

আজ বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর আওতাধীন তেজগাঁও থানা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন।

এ পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা পাওয়ার মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি থানা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে অবস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কক্ষ, ডিউটি অফিসারের কক্ষ, তদন্ত কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ, হাজতখানা এবং পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যারাক ও ডাইনিং স্পেস (মেস) ঘুরে দেখেন।

ব্যারাক পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থা, মেসের সার্বিক খাদ্যের মান এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

একই সঙ্গে থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের নাইট ডিউটি ও শিফটিং ডিউটির সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় পরিদর্শনকালে মন্ত্রী তেজগাঁও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন। জিডি (সাধারণ ডায়েরি) বা অভিযোগ জমা দিতে আসা ভুক্তভোগীদের সমস্যার কথা তিনি ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং তাদের অভিযোগগুলো দ্রুততম সময়ে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তির জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-সহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মূল কাজই হলো : জনগণের সুরক্ষা ও সেবা প্রদান করা। থানাকে প্রতিটি মানুষের আস্থা ও ভরসাস্থল হতে হবে। নাগরিকরা যেন নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে থানায় আসতে পারেন এবং কোনো মাধ্যম ছাড়া নিজের সমস্যা সরাসরি জানাতে পারেন— আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজয়ের ধুমধাম করে ১১২তম মেয়ের বিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৯ পি.এম


বিজয়ের ধুমধাম করে ১১২তম মেয়ের বিয়ে

এক দশক ধরে বাবা নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্টে মেয়েকে বড় করেছেন মা। জীবনের নানাবিধ প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে মেয়েকে মানবিকভাবে গড়ে তুললেও মেয়ের বিয়ের বয়সে এসে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় তার বিয়ে। সামর্থ্যের অভাবে বড় কোনো আয়োজন নিয়ে চিন্তা করতেই পারেননি মা।

ঠিক তখনই পাশে এসে দাঁড়ালেন একজন মানবিক মানুষ। শুধু বিয়ের খরচ বহন করাই নয়, নিজ মেয়ের মতো করে আয়োজন করলেন ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান। বরযাত্রীদের আপ্যায়ন থেকে শুরু করে খাবারের আয়োজন এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা—কোনো কিছুতেই ছিল না কমতি।

এভাবে গত ২৪ বছরে ১১২ জন অসহায়, হতদরিদ্র ও এতিম মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের রুহুল আমিন রুবেল। তার উদ্যোগের মাধ্যমে এবার রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা এলাকার বালাদিয়া গ্রামের ১৯ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার তিথির বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার বালাদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই পুরো বাড়িতে উৎসবের আমেজ। বাড়ির সামনে বিয়ের কারুকাজ করা গেট। অতিথি ও বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য chairs এবং tables সাজানো রয়েছে। বাড়ির এক পাশে রান্নার ব্যস্ততা চলছে। গরু, খাসি, মুরগি, ডিম এবং পোলাওসহ নানা পদের খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে।

চারপাশের এই আয়োজন দেখে বোঝার উপায় ছিল না—এটি একজন বাবা হারানো অসহায় মেয়ের বিয়ে।

বাড়ির জরাজীর্ণ একটি কক্ষে তখন বউ সাজানো হচ্ছিল তিথিকে। একদল নারী ব্যস্ত তাকে সাজাতে। বাইরে উৎসবের ব্যস্ততা, ভেতরে কনের সাজ—সব মিলিয়ে মুখর পুরো বাড়ি।

প্রায় ১০ বছর আগে বাবাকে হারান সুমাইয়া আক্তার তিথি। এরপর তার মা জহুরা খাতুনই হয়ে ওঠেন তার একমাত্র অবলম্বন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং সংসার চালিয়েছেন। অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করলেও মেয়েকে আগলে রেখেছেন নিজের মতো করে।

কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স এলে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েন জহুরা খাতুন। তিনি মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা রাখলেও বড় আয়োজনের সামর্থ্য ছিল না।

এর মধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুহুল আমিন রুবেলের অসহায় ও এতিম মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম দেখতে পান। এরপর তিনি রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিজাতের টেকনাফ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়ার পর বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান রুবেল।

এরপর ঠিক হয় দিন-তারিখ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুক্রবার দিনভর চলে বিয়ের নানা আনুষ্ঠানিকতা।

জুমার নামাজের পর বর তরিকুল ইসলাম ও তার বরযাত্রীরা কনে বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। পাশের রাজশাহীর তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা তরিকুলকে সোনার আংটি দিয়ে বরণ করে নেন রুহুল আমিন রুবেল। এরপর সম্পন্ন হয় বাঙালি বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা।

একটি সাধারণ ঘর সেদিন যেন পরিণত হয় আনন্দের ঠিকানায়। যে বাড়িতে এতদিন অভাব ছিল, সেই বাড়িতেই বেজে ওঠে বিয়ের সানাই। মায়ের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দ।

তিথির মা জহুরা খাতুন বলেন, মেয়ের বিয়ে নিয়ে তিনি অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলেন। রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি সব দায়িত্ব নেন। নিজের মেয়ের মতো করে বিয়ের আয়োজন করেছেন রুবেল। এমন আয়োজন তাদের পরিবারের কাছে ছিল কল্পনারও বাইরে।

নববধূ সুমাইয়া আক্তার তিথি এবং বর তরিকুল ইসলামও রুবেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিথি জানান, বাবা না থাকলেও বিয়ের দিন বাবার অভাব তেমনভাবে অনুভব করতে পারেননি। এত বড় আয়োজন দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়েছেন।

বর তরিকুল ইসলামও জানান, কনে বাড়ির আতিথেয়তা এবং বিয়ের আয়োজন তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নবদম্পতি তাদের নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং এলাকাবাসীও রুবেলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, অসহায় ও এতিম মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে বছরের পর বছর বিয়ের দায়িত্ব পালন করা নিঃসন্দেহে একটি মহৎ এবং মানবিক কাজ। যদি সমাজের বিত্তবানরা এমন কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে আরও অনেক অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফিরবে।

তবে রুহুল আমিন রুবেলের কাছে এসব বিষয় যেন কোন প্রচারের বিষয় নয়। তার ভাষ্য, কোনো উদ্দেশ্যে নয়, পরকালের জন্যই তিনি গত ২৪ বছর ধরে অসহায়, হতদরিদ্র এবং এতিম মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন।

রুবেল বলেন, এটি তার ১১২তম মেয়ের বিয়ে। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কেউ যোগাযোগ করলে তিনি খোঁজখবর নেন। সত্যিই যদি কেউ অসহায় হয় তবে তিনি নিজের তহবিল থেকে বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করেন। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের দায়িত্ব এবং সৌভাগ্য মনে করেন।

একজন বাবা তার মেয়ের বিয়েতে যে দায়িত্ব পালন করেন, তিথির বেলায় সেই দায়িত্বই যেন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রুবেল। রক্তের সম্পর্ক নেই, কিন্তু তবুও মেয়ের বিয়েতে বাবার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

তিথির জীবনে বাবার শূন্যতা হয়তো কখনও পূর্ণ হবে না। তবে বিয়ের এই দিনটিতে একজন মানুষ তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন—রক্তের সম্পর্কের বাইরেও কিছু সম্পর্ক তৈরি হয় ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং মানবিকতা দিয়ে।

১১২টি বিয়ে তাই শুধুমাত্র একটি সংখ্যার হিসাব নয়, এটি ১১২টি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর একটা গল্প। এটি এমন এক মানুষের গল্প, যিনি নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্যের ঘরে আনন্দের আলো জ্বালিয়ে চলেছেন বছরের পর বছর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%