ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এক সেতুতে বদলে গেছে খুলনার সাত ইউনিয়নের চিত্র


এক সেতুতে বদলে গেছে খুলনার সাত ইউনিয়নের চিত্র

একটি সেতু খুলনার একটি গ্রামীণ জনপদের চিত্রকে পাল্টে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের জন দুর্ভোগের অবসান ঘটেছে। ফলে, এই জনপদের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করা জনপদের নাম দাকোপ উপজেলা। এই উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর বাজার সংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে স্বপ্নের সেতু। তবে, যাতায়াত ও যোগাযোগের পাশাপাশি, এই সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন।

এক পাড়ে বাড়ি, অন্য পাড়ে স্কুল-বাজার; মাঝখানে ভদ্রা নদী। এতদিন নদী পার হতে খেয়া কিংবা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারই ছিল একমাত্র ভরসা। মুমূর্ষু রোগী, স্কুল শিক্ষার্থী, কৃষক কিংবা ব্যবসায়ী, সবাইকে নদী পারাপারের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই দুর্ভোগের অবসান ঘটতে চলেছে। ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত গার্ডার সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও, সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এতে দাকোপের নদীর দুই পাড়ের সাত ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

দাকোপ ইউনিয়নের শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর বাজার সংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। প্রতিদিন বিকেলে সেতুটি দেখতে কয়েকশ’ মানুষ ভিড় করছেন।

সেতুটি চালু হওয়ায় দাকোপ উপজেলা সদর ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সাত ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। একইসঙ্গে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা থেকে মোংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগও সহজ হবে। এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ভৌগোলিক কারণে দাকোপ উপজেলা ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার নামে পরিচিত তিনটি পৃথক দ্বীপ নিয়ে গঠিত। ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান বাধা ছিল ভদ্রা নদী। এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যেতে এতদিন খেয়া বা ট্রলারই ছিল একমাত্র ভরসা। এ কারণে সেতু নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছিলেন।

সেতুর পশ্চিম পাশে ৩২ নম্বর পোল্ডারে কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন রয়েছে। পূর্ব পাশে ৩৩ নম্বর পোল্ডারে দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন অবস্থিত। সেতুটি চালু হওয়ায় এসব এলাকার কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত, ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন এবং রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

এলজিইডির ‘গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সেতু নির্মাণ’ ও ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ’ প্রকল্পের আওতায় কালিনগর জিসি-খুটাখালী জিসি সড়কের শূন্য চেইনেজে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত সেতুটির এক্সটেনশনসহ দৈর্ঘ্য ৬৬১ দশমিক ৬৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। সংযোগ সড়ক বা ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ১৪০ দশমিক ১৬ মিটার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট কাজ শুরু করে ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় কার্যাদেশ বাতিল হয়। পরে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দ্বিতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হলেও তারাও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এরপর তৃতীয় দফায় ঢাকার এমবিইএল-এইসি-কেই (জেভি) কাজের দায়িত্ব পায়। সব মিলিয়ে সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা।

কালিনগর বাজারের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী দেবাশিষ রায় বলেন, সেতুর অভাবে এতদিন মুরগিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। সেতুটি চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী।

গ্রাম্য চিকিৎসক হরিপদ হালদার বলেন, খেয়া পারাপারের কারণে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত উপজেলা বা জেলা সদরে নেওয়া কঠিন ছিল। এখন সড়ক পথে দ্রুত রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

কালিনগর জিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, খেয়া পার হতে দেরি হওয়ায় অনেক সময় তারা স্কুলে সময়মতো পৌঁছাতে পারত না। সেতু চালু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ আর থাকবে না।

এলজিইডি খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, সেতুটি চালু হলে দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। কৃষি ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে বলে আশা করছেন তিনি। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহনগঞ্জের মাদ্রাসায় ১১ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪১৩ শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


মোহনগঞ্জের মাদ্রাসায় ১১ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪১৩ শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত

মোহনগঞ্জ উপজেলার খালুয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘ সময় ধরে ১১টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র ১০ জন শিক্ষক দিয়ে ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালাতে গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশব্লক এবং যাতায়াতের উপযোগী সড়ক না থাকার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত খালুয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং শিক্ষকের সংখ্যা ১০ জন। অফিস সহকারীসহ অন্যান্য পদে পাঁচজন স্টাফ কর্মরত আছেন। তবে, প্রতিষ্ঠানে মোট ১১টি শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম থাকায় বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য পদে শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শুধু শিক্ষক সংকট নয়, অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি টিনশেড কক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। পাশাপাশি, একটি পুরোনো ও জরাজীর্ণ একতলা ভবনও রয়েছে। ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাও নেই। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়াশব্লক না থাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে নতুন ভবন অনুমোদনের দাবি জানান তাঁরা। ওয়াশব্লকসহ প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি তাঁদের।

এদিকে, মাদ্রাসাটিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভোগান্তি। পাকা সড়ক থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তাটি এখনো কাঁচা। বর্ষাকালে রাস্তাটিতে কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

খালুয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ আ. হেলিম ১১ জন শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ছোটদের সময়’ প্রকাশনীর নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


‘ছোটদের সময়’ প্রকাশনীর নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উৎসব

শিশুদের মেধা বিকাশ, সৃজনশীল মনন গঠন এবং বৈষম্যহীন সমাজভাবনায় নতুন সাহিত্য যোগ করার উদ্দেশ্যে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে ‘ছোটদের সময়’ প্রকাশনীর ৮টি মানসম্মত নতুন বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বরেণ্য শিশুসাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে রচিত আটটি ভিন্নধর্মী বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইগুলো হলো— কবি ও শিশুসাহিত্যিক আবদুল হাই শিকদারের মুক্তিযুদ্ধের কিশ‘টম একাত্তর’, বিখ্যাত ছড়াকার আবু সালেহের শিশুতোষ ছড়ার ব‘মুখে মুখে ছড়া, খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ফারুক হোসেনের ‘ভালো হওয়ার গল্প’, শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ‘সবুজ পাহাড়ে কালো ভূত’, শিশুসাহিত্যিক রেজাউল করিম খোকনের রূপকথার গল্প ‘হনমুন দ্বীপে ভয়ংকর অভিযানে’, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আমিরুল মোমেনীন মানিকের শহীদ উসমান হাদীকে নিয়ে লিখিত কিশোর উপন্যাস ‘হাদী ফিরলেন রাষ্ট্র প্রধান হয়ে’, চিকিৎসক ও কবি ফাতেমা কাওসারের কবিতার বই ‘লাল জুলাইয়ের বাংলাদেশ’ এবং শিশুসাহিত্যিক মামুন সারওয়ারের ছড়ার ‘ছড়াগুলো মননের জন্য’।

প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন শিশুসাহিত্যিক আশরাফুন্নেছা দুলু। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরেণ্য শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার মাহমুদ উল্লাহ। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক শওকত হোসেন, কবি ও শিশুসাহিত্যিক মনসুর আজিজ। স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আয়োজক প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও লেখক মামুন সারওয়ার।

আলোচনা পর্বে লেখক ফারুক হোসেন তার রচিত বই সম্পর্কে বলেন, "জুলাই বিপ্লবের পর একটি বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতিহীন ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তরুণ সমাজ দেখিয়েছে, তাদের সেই একাগ্রতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেই ‘ভালো হওয়ার গল্প’ বইটি রচিত হয়েছে।"

অন্যান্য লেখকদের মধ্যে ভিয়েতনামের রূপকথা অবলম্বনে রচিত রহস্যকাহিনির পেছনের গল্প তুলে ধরেন রেজাউল করিম খোকন। এ ছাড়া লেখক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান তার বইয়ের গল্প শোনান এবং ছড়াকার আবু সালেহ শৈশব ও বর্তমান প্রজন্মের মনন গঠনে ছড়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এই গ্রন্থগুলো শিশু-কিশোরদের নতুন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সুস্থ সাহিত্য চর্চাকে তরান্বিত করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির অবিশ্বাস্য ফ্রি কিকেও ইনজুরি টাইমে মায়ামির হার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


মেসির অবিশ্বাস্য ফ্রি কিকেও ইনজুরি টাইমে মায়ামির হার

ফ্রি কিকে গোল করা লিওনেল মেসির জন্য যেন একটি স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রোববার কলম্বাস ক্রুর বিরুদ্ধে যে কোণ থেকে গোলটি করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা, সেটি ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য। প্রায় অসম্ভব এক কোণ থেকে নেওয়া মেসির বাঁ পায়ের ফ্রি কিক জালে জড়ালেও, শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমের গোলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইন্টার মায়ামিকে।

ম্যাচের ২৮ মিনিটে ইয়ানিক ব্রাইটের ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় কলম্বাস। ২৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হওয়া জোসেফ মার্তিনেজ স্পট কিক থেকে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন।

তবে পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। ডান প্রান্তরেখা থেকে প্রায় ৭ গজ দূরত্বে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে অসাধারণ এক শটে বল জালে পাঠান তিনি। মেসির বাঁ পায়ের বাঁকানো শট গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্টের বাড়িয়ে দেওয়া হাতের ওপর দিয়ে, ক্রসবারের নিচ দিয়ে এবং পেছনের পোস্ট ঘেঁষে সাইড-নেটে গিয়ে লাগে।

প্রথমার্ধে মায়ামির একমাত্র শট ছিল মেসির সেই ফ্রি কিক।

দ্বিতীয়ার্ধেও মেসি একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। ৬২ মিনিটে তার শট ঠেকিয়ে দেন শুল্টে। পরে আরও দুটি শট পোস্টে রাখলেও গোলের দেখা পাননি মায়ামির অধিনায়ক।

ম্যাচের একপর্যায়ে ডেভিড আয়ালা গোল করলেও সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় মায়ামির।

পুরো ম্যাচে অবশ্য আক্রমণে আধিপত্য ছিল কলম্বাসের। স্বাগতিকরা নেয় ১৪টি শট, যেখানে মায়ামির শট ছিল মাত্র পাঁচটি। লক্ষ্যে কলম্বাসের সাতটি শটের বিপরীতে মায়ামি রাখতে পারে তিনটি। মায়ামির গোলরক্ষক চারটি সেভ করলেও, শেষ পর্যন্ত দলকে রক্ষা করতে পারেননি।

ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে জামাল তিয়ারের শটে জয় নিশ্চিত করে কলম্বাস। এর মাত্র দুই মিনিট আগে তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মায়ামির সান্তিয়াগো মোরালেস। ফলে ম্যাচের শেষটা ১০ জন নিয়ে করতে হয় মায়ামিকে।

এটি চলতি মৌসুমে মায়ামির দ্বিতীয় হার। তবে শেষ ১০ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়ায় দলটির ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়ল। ২৭ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে মায়ামি। কয়েক সপ্তাহ আগেও দলটি ছিল মেজর লিগ সকারের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।

নিয়মিত মৌসুমের আর সাত ম্যাচ বাকি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে মায়ামি এখন পিছিয়ে ১৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে, এই জয়ে প্লে-অফের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ পেয়েছে কলম্বাস। ২৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে দ্বাদশ স্থানে, প্লে-অফের জায়গা থেকে চার পয়েন্ট দূরে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়ায় রেহানা পারভীনের লাশ মাটিচাপা দিয়ে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


অস্ট্রেলিয়ায় রেহানা পারভীনের লাশ মাটিচাপা দিয়ে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ

সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর তার মরদেহ সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দেওয়া এবং সেখানে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে।

প্রায় দুই বছর পর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক তানভীর হাসান খান।

অভিযুক্তদের মধ্যে আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে।

চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে রেহানা পারভীন অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন। তার স্বামী আওলাদ হোসাইন ২৯ জুন দেশে ফেরেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বিপুল সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধের কারণে রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা রেহানাকে মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর আমজাদ তার পা এবং কবীর দুই হাত চেপে ধরেন। একপর্যায়ে আওলাদ রেহানার পেটের ওপর বসে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হত্যার পর ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত করে রেহানার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনা গোপন করতে ওই স্থানে সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

রেহানার নিখোঁজের ঘটনায় তার মা আইরিন আক্তার অপহরণ মামলা করেন। পরে ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রেহানার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মামলাটি হত্যা ও মরদেহ গুমের ধারায় রূপান্তর করা হয়।

মামলায় গ্রেপ্তার পাপিয়া, কবীর ও আমজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রেহানার নাবালিকা মেয়েও তার বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান। তবে সেখানেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মামলা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া এবং তদন্ত প্রভাবিত করতে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানোর অভিযোগে সম্প্রতি ব্রিসবেন থেকে আওলাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে রেহানার অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

বর্তমানে আওলাদ অস্ট্রেলিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলায় আমজাদ ও কবীর কারাগারে রয়েছেন। আর জামিনে রয়েছেন দুই বোন পাপিয়া ও মাকসুদা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%