০৯:৫২ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে চলমান মারাত্মক সংঘাতের কারণে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি ওয়াশিংটনকে কঠোর শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সামরিক হামলা ইরানের উপর চালিয়ে যায়, তবে তেহরানের জন্য একটি ‘অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক শিক্ষা’ অপেক্ষমাণ রয়েছে। একইসাথে, দুই দেশের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা বারবার লঙ্ঘন করা জন্য তিনি সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে পাঠানো এক বিশেষ লিখিত বিবৃতিতে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় স্মারক বারবার লঙ্ঘিত হওয়ায় ওয়াশিংটন আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো আইনি মূল্য বা বৈধতা নেই। তার মতে, মহাশয়তান মার্কিন প্রশাসন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এটি পরিষ্কার করেছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর বর্তমানে সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। আমেরিকার রাষ্ট্রীয় নীতি ও মতবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো দাদাগিরি, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বিবৃতিতে আরও বলেন, যখন আমেরিকা যুদ্ধ আরও উসকে দিতে চায় ও নিজেদের জন্য বড় মূল্য ডেকে আনতে চায়, তাদের জানা উচিত—প্রিয় ইরানি জাতি এবং পুরো প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এক অবিস্মরণীয় শিক্ষা অপেক্ষা করছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর নিয়ে এই যুদ্ধকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে বিবেচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের সামনে, তেহরান নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছে না।
সম্প্রতি ইরানে মার্কিন হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রেলপথ ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বহু জনগুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর উপর একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে। তেহরান কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সম্পদ ও দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সফলভাবে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। এরপর কুয়েতের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং এটি আমেরিকার অর্থনীতির উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরানের প্রধান মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যেকোনো সময় ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটি হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও নতুন করে মূল্যস্ফীতির সৃষ্টি হতে পারে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মূখ্য লক্ষ্য ছিল এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিবেশ তৈরি করা। তবে পরবর্তীতে উভয়পক্ষ পৃথক দেশকে চুক্তির লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে সেই শান্তি সমঝোতা আর কার্যকর নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন