০৫:২৬ পি.এম
হাসপাতালের রান্নাঘরে সরাসরি ঢুকে পড়েন এমপি। ব্রয়লার মুরগির মাংসের ওজন যাচাই করেন। এক টুকরো মাংস পাওয়া যায় চল্লিশ গ্রাম, এবং আরও পাঁচ টুকরো মেপে পাওয়া যায় ২৫ থেকে ৩৫ গ্রাম। অথচ দুপুরের খাবারে প্রত্যেক রোগীকে ১৯০ গ্রাম মাংস সরবরাহ করার কথা।
গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে দুপুরে এমপি মো. আব্দুল করিম হাতে নাতে এমন অনিয়ম ধরেন। সংসদ সদস্য বলেন, স্বচক্ষে এমন অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবী করেন, রোগীদের মাংসের পাশাপাশি ডাল-সবজির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বরাদ্দ আছে- তবে এখানে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। এমপি বার বার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে রোগীদের দৈনিক খাবারের রুটিন দেখতে চেয়েও পাননি। তাই তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহকে নির্দেশ দেন রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের সঠিক ওজন নিশ্চিত করার জন্য।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
তিনি বলেন, আজ রাত থেকে যেন রুটিন ও সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী রোগীদের খাবার সরবরাহ করা হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আড়াইশ রোগীর জন্য খাবার বরাদ্দ থাকলেও রোগীর চাপ বেশি থাকায় চিকিৎসাধীন চারশ রোগীকে খাবার সরবরাহ করতে হয়। রুটিন অনুযায়ী ১৯০ গ্রাম মাংসের বদলে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম কেন সরবরাহ করা হচ্ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, আজ রাত থেকে খাবারের সঠিক ওজন নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে হাসপাতাল চত্বর পরিদর্শন করতে গিয়ে যত্রতত্র মেডিকেল বর্জ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি। তিনি মন্তব্য করেন, বেলা সাড়ে বারোটা পার হলেও হাসপাতাল চত্বর থেকে মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি। এমপি মোবাইলে পৌরকর্তৃপক্ষকে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন।
এসময় রোগীদের অনেকে এমপির কাছে অভিযোগ করেন, রাতে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মোবাইল চুরি হয়। এমনকি চিকিৎসকের মোবাইল চুরি হলেও তা উদ্ধার হয়নি। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা থাকলেও তা কার্যকরী নয়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
সম্প্রতি কোনো নিয়ম নীতি না মেনেই হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ করা হয় বলেও টিক করেছেন এমপির কাছে। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধির মাধ্যমে জনবল নিয়োগ করা হয়। যাদের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের অনেককেই হাসপাতালে অনুপস্থিত দেখা যায়।
রোববার বেলা ১২টার দিকে আকস্মিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম। তিনি দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থানকালে বিভিন্ন অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালের নবনির্মিত ৯ তলা ভবন সচল করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে এমপি বলেন, তিনি স্বাস্থ্য বিভাগ ও মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একাধিকবার সংসদে কথা বলেছেন। আবারও তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেন।
গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি এই সাত উপজেলার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের ভরসা জেলা সদরের হাসপাতাল।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন