মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৩ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি মসজিদের ভেতরে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হয়েছেন ইয়ানবী (৩২) নামে এক যুবক। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বরাবো ভড়ভিটা এলাকার হাজী আব্দুর রহমান জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে। রাতের দিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা ওই যুবককে পুলিশে সোপর্দ করেন।
আটককৃত ইয়ানবী বরাবো ভড়ভিটা এলাকার অধিবাসী।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানবী নামের যুবক সোমবার বিকেলে মসজিদে প্রবেশ করে কোরআন শরীফের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ করেন। পরে তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে স্থানীয় জনগণ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করে আটক করেন। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসে ওই যুবককে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, ইয়ানবী মাদকাসক্ত এবং মানসিকভাবে অসুস্থ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, কোরআন অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে ওই যুবককে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পাশে আজমুল হোসেন নামে এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় হাসনাত হাবিব রিফাত নামে একজনকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
হত্যা মামলার তদন্তে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, হাসনাত হাবিব রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিনের ১৬ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। সম্প্রতি তিনি কৃষি ব্যাংকে চাকরি পেয়েছেন এবং আজমুলদের মেস থেকে ব্যাংকে যাতায়াত করতেন।
আটক রিফাতের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুণেরগাতী গ্রামে অবস্থিত।
নগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, আজমুলকে মারধরের সময় রিফাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে চুরির অভিযোগে আজমুলকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি চারতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ তদন্ত করছে, তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন, নাকি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে নগরীর হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ বাবা এবং ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডানে আটারকছড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—ডানে আটারকছড়া এলাকার মৃত এরফান উদ্দীন চৌধুরীর ছেলে অভিযুক্ত সৎ বাবা ফজলুল হক চৌধুরী (৬৫) এবং একই এলাকার জামাল উদ্দীনের ছেলে প্রতিবেশী যুবক শহিদুল (২৩)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে আটারকছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সৎ বাবা ফজলুল হক চৌধুরীর বাড়িতেই বসবাস করে আসছিল। গত সপ্তাহে ঘরে একা থাকার সুযোগে ফজলুল হক মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে মেয়েটির ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণ চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রতিবেশী যুবক শহিদুলও সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। স্থানীয় জানাজানি হলে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ভুক্তভোগী সঙ্গে এ ধরনের নির্মম ঘটনা ঘটে আসছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার কিছু যুবকও মেয়েটির পিছু নেয় এবং সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পাওয়ার পরপরই লংগদু থানা পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত সৎ বাবা ও ধর্ষণচেষ্টাকারী প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এই সাক্ষাৎটি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ডেপুটি স্পিকার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
ডেপুটি স্পিকার সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
তিনি সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশে তার সফরের কথা উল্লেখ করে সেখানে পাওয়া উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের বিদ্যমান সহযোগিতার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ ও চীনের জনগণের উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে চায়।" তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের চীন সফরের সময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি লাভ করে। তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-চীনের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করবে।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, "দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।"
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ সংসদীয় পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে মংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ডেপুটি স্পিকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।
সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবু তালেব, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কুক্কুরুত সেলিম’ নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এক নারীর দ্বারা ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আবু তালেব এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে, তিনি ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে হেনস্তা ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন।
লিখিত অভিযোগে আবু তালেব উল্লেখ করেন, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি, তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও পেজ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার পক্ষে তার কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হলেও তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। তার একটি ফোনালাপ কেটে-ছেঁটে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো বক্তব্য রাখেন এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ‘কুক্কুরুত সেলিম’ বলেন, কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে একজনের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানান আবু তালেব।
তিনি এ ঘটনায় বিভিন্ন পোস্ট, শেয়ার ও মন্তব্যের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করার কথাও জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ