০২:৪৭ পি.এম
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রতি তিন সেকেন্ডে একটি কন্যাশিশুর বিয়ে হচ্ছে। প্রতিবছর ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে থাকে। এর ফলে লাখ লাখ শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আজ ১১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে, যা বাল্যবিয়ে বন্ধ করার এবং কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করি, কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি’। এই প্রতিপাদ্যটি কন্যাশিশু, তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, প্রতিটি কন্যাশিশুর অধিকার রয়েছে সুন্দর শৈশব, শিক্ষা গ্রহণ, বেড়ে ওঠা, নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের। কিন্তু বাল্যবিয়ের কারণে অনেক কন্যাশিশু এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলে বাল্যবিয়ের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৩১ শতাংশ কন্যাশিশুর বিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
বাল্যবিয়ে কন্যাশিশুর পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে পারে, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং তাদের সহিংসতার মুখে ঠেলে দিতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, বিষণ্নতা এবং মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। জাতিসংঘ জানাচ্ছে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণের মধ্যে আত্মক্ষতি রয়েছে।
তবে জাতিসংঘ মনে করে, বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব। গত ২৫ বছরে কন্যাশিশুর শিক্ষায় বিনিয়োগ, আইন সংস্কার এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আনুমানিক ৬ কোটি ৮০ লাখ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।
বাল্যবিয়ে বন্ধ করার জন্য কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং পরিবার ও সমাজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অপরিহার্য। এছাড়া ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতি পরিবর্তন, কন্যাশিশুর নেতৃত্বের বিকাশ এবং তাদের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
জলবায়ু সংকটও কন্যাশিশুদের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এ বছরের ‘বিশ্বের কন্যাশিশুদের অবস্থা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে পাঁচ হাজার কিশোরী ও তরুণীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কিভাবে তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জলবায়ু সংকটের সঙ্গে যৌন সহিংসতা, বাল্যবিয়ে এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকির সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালনের পেছনে ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব নারী সম্মেলনের উদ্যোগ রয়েছে। ওই সম্মেলনে গৃহীত বেইজিং ঘোষণা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। পরে ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
জাতিসংঘের আহ্বান, কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাল্যবিয়ে বন্ধে কার্যকর আইন, নীতিমালা এবং বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কন্যাশিশুদের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে। কন্যাশিশুরা নিরাপদে বেড়ে উঠতে, শিক্ষা পেতে এবং নিজেদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারলে পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সূত্র: জাতিসংঘ , প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন