সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৫ পি.এম
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্ট যে রায় প্রদান করেছে, তা আপাতত বহাল রেখেছে চেম্বার আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের রায় স্থগিত করার জন্য গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। আদালত জানায়, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই মামলায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
এদিন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করার জন্য আবেদন করা হয় চেম্বার আদালতে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, যিনি ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ দ্বারা সহযোগিতা পান।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে দুটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। এনবিআর যে অতিরিক্ত ট্যাক্স দাবি করেছে, সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য যে দুটি রিট করা হয়েছিল, সেগুলো গত ১০ তারিখে নামঞ্জুর হয়েছে। এজন্য তারা একটি স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, চেম্বার জজের কাছে সিএমপি ফাইল করে। চেম্বার জজ বলেন, যেহেতু হাইকোর্ট এখনও কোনো রায় দেয়নি এবং তারা তা পাননি, তাই এই বিষয়ে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। সুতরাং, রায় প্রকাশ হলে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেয়। ওইদিন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় প্রদান করে। রায়ে আদালত উল্লেখ করে, আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে এবার বড় পরিসরে ‘বোলার হান্ট’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। পূর্বে আলাদাভাবে পেসার হান্ট ও স্পিনার হান্ট আয়োজন করা হলেও, এবার বিসিবি পেসার কিংবা স্পিনার, কোনো নির্দিষ্ট বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সব ধরনের বোলারকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্য এবারের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে ক্রিকেটের প্রতিভা অন্বেষণের কার্যক্রম নতুন নয়। বিসিবির পূর্বের আয়োজনে পেসার হান্ট থেকে উঠে এসে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। গ্রামীণফোন পেসার হান্ট থেকে জাতীয় দলের সাবেক পেসার রুবেল হোসেন এবং পরবর্তীতে রবি পেসার হান্টের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ইবাদত হোসেন। উভয়েই পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন।
সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় বিসিবি এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন ‘বোলার হান্টে’ পেসার ও স্পিনারদের জন্য আলাদা আয়োজন থাকবে না। বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সম্ভাবনাময় সব বোলার একই আয়োজনে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।
বিসিবির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ঘরোয়া ক্রিকেটের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী করা। জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের জন্য নিয়মিত নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার পাশাপাশি সুযোগের অভাবে হারিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদেরও সামনে নিয়ে আসতে চায় দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি স্পিনেও বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। তাই কোনো একটি বিভাগকে আলাদা গুরুত্ব না দিয়ে সব ধরনের বোলিং প্রতিভাকে একই আয়োজনের আওতায় আনার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সঠিক বাছাই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। রুবেল ও ইবাদতের মতো আরও প্রতিভাবান বোলারের উঠে আসার পথ তৈরি হতে পারে এই ‘বোলার হান্ট’ থেকে।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোলার হান্ট’ নিয়ে বিস্তারিত জানাবে বিসিবি। জানা গেছে, এবারের বড় পরিসরের এই কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে রবি। মিরপুরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বোলার হান্টের কার্যক্রম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পরও নির্ধারিত সরকারি দায়িত্ব পালনে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান।
দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে, যখন ইউএনওর সরকারি গাড়িটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাহেব সরকার বাড়ি গেট এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসনের একটি মিটিংয়ে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ইউএনও মেহেদী হাসান এবং তার গাড়িচালক হেলাল মিয়া আহত হন।
ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চালক হেলাল মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং এক্স-রে করানো হয়েছে। তবে ইউএনও মেহেদী হাসান গুরুতর আহত না হওয়ায়, দুর্ঘটনার পরও তিনি হবিগঞ্জে গিয়ে মিটিংয়ে অংশ নেন। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি মাধবপুর থানায় আটক রয়েছে এবং পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করছে।
দুর্ঘটনার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সরকারি দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে মিটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ইউএনও মেহেদী হাসানের দায়িত্ববোধ ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা। ব্যক্তিগত অসুবিধার মধ্যেও দায়িত্ব পালনে তার এই আন্তরিকতা একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার পেশাদারিত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার পরিচয় বহন করে বলে অনেকেই মনে করছেন।
সাংবাদিক শাবানা চৌধুরী মন্তব্য করেন, "ইউএনও সাহেব অত্যন্ত দায়িত্বপরায়ণ। দুর্ঘটনার পরও সরকারি দায়িত্ব পালনে তিনি হবিগঞ্জে গিয়েছেন।"
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ বলেন, "বিষয়টি আমি জেনেছি। ইউএনও তেমন আহত হননি বলে জানতে পেরেছি।"
ইউএনও মেহেদী হাসান জানান, "আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ আছি। বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অবৈধভাবে ড্রেজার ব্যবহার করে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন দুটি ড্রেজার মেশিন এবং প্রায় ৮ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করেছে। অভিযানের সময় রমজান মিয়া (৫৮) নামের একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ, ভাটামাথা ও তন্তর এলাকায় এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন এবং প্রায় ৮ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। রমজান মিয়াকে আটক করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটির কারণে আরও ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে ৬০ জন মারা গেছেন। আগের আগস্ট মাসে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে জানানো হয়েছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৭৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৭০ জনে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ১ হাজার ২৮২ জন ছাড় পেয়েছেন। মোট ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, সংখ্যা ৭০১ জন। খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, বরিশালে ১৯১ জন, চট্টগ্রামে ১৯১ জন, ময়মনসিংহে ১১০ জন, রংপুরে ৮৬ জন এবং রাজশাহীতে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ