০২:৪২ পি.এম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, চলাচলের রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং ঘরের চারপাশে ঝোপঝাড় বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের অধিকাংশ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে ৫২টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনো রকমে বসবাস করছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে প্রকল্পটি পরিদর্শন করার সময় দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘরগুলোর চারপাশে লতাপাতা ও ঝোপঝাড় গজিয়ে গিয়ে পুরো এলাকা অনেকটা জঙ্গলের মতো হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার কারণে ঘরের বারান্দা, উঠান ও বাথরুমের সামনেও দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে। এর ফলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একদিন বৃষ্টি হলে অনেক সময় কয়েক দিন ধরে পানি জমে থাকে। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি কাদায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়েছে। এ অবস্থায় অনেক পরিবার প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার বলেন, "বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে কয়েক দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ঘর ও বারান্দায় পানি ঢুকে পড়ে, এমনকি বাথরুমেও পানি জমে থাকে। প্রতিদিন পানি সেচতে হয়। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বাধ্য হয়ে এখানেই বসবাস করছি।"
আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, "বৃষ্টির পর ঘরের সামনে দিনের পর দিন পানি জমে থাকে। কয়েক দিন আগে তার আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে যায়। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনার অভিযোগ থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘর ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় সেগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এসব স্থানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসার অভিযোগও করেছেন।
ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, "প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্দশার বিষয়টি আমি দেখেছি। সেখানে বসবাসের পরিবেশ বর্তমানে ভালো নয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।"
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি আরও বলেন, "প্রকল্পটি নির্মাণের সময় মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন পুরো এলাকা মাটি দিয়ে ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে চারপাশে পাকা ড্রেন নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, "বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করা হলে প্রকল্পটির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে অসহায় পরিবারগুলোও নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন