রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫২ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি অমিমুল হাসান সাদ (১৯) গ্রেপ্তার হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাব-১১ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১-এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এফরান খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া অমিমুল হাসান সাদ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র।
র্যাব-১১ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে অমিমুল হাসান সাদ ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে তার নিজ বাড়ির চারতলার একটি নির্মাণাধীন কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। কিশোরী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ইট দিয়ে মুখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে অমিমুল হাসান সাদ ওই কিশোরীকে চারতলা থেকে টেনে হিঁচড়ে নিচে এনে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ডিবিকেপি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে কিশোরীকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে অমিমুল হাসান সাদকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো শিল্পায়ন হতে পারে না, উন্নয়ন ও শিল্পায়ন অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আকিজ ইস্পাত কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণ ও খাল ভরাটের অভিযোগ শুনে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের উন্নতির জন্য প্রোডাকশনের প্রয়োজন, আমাদের শিল্পায়নের প্রয়োজন। কিন্তু এটি অবশ্যই হতে হবে পরিবেশবান্ধব। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পরিবেশের ক্ষতি না হয়। কারণ, যদি আমরা বাঁচতেই না পারি, তাহলে আমাদের টাকা-পয়সা দিয়ে কোনো লাভ নেই।"
পরে, প্রতিমন্ত্রী উপজেলার বাউশিয়ায় গজারিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই পলিথিন ও প্লাস্টিকদূষণমুক্ত বাংলাদেশ। প্রাকৃতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। আপনারা গাছ লাগান, সেই গাছের পরিচর্যা করুন। একদিন এই গাছই আপনাদের সম্পদে পরিণত হবে।”
তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে দেশে ৩ কোটি গাছ রোপণ করেছে এবং আরও ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, পলিথিন ও প্লাস্টিকদূষণ বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "প্লাস্টিক ও পলিথিন পচনশীল নয়। ফলে এগুলো দীর্ঘদিন পরিবেশে টিকে থেকে মাটি ও পানিদূষণ ঘটায়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাছ ধরার সময় ট্রলারে বজ্রপাতের ফলে দুই জেলের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার সাথে আরো তিন জেলে আহত হয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার তুফানিয়া ও চরহেয়ারের মধ্যবর্তী বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের হাবিব খাঁর ছেলে ইমন খাঁ (২২) এবং একই গ্রামের শহিদুল শিকদারের ছেলে শাকিব শিকদার (২৩)।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সুমন খাঁর মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে পাঁচজন জেলে নদীতে মাছ ধরার জন্য যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নদীতে জাল ফেলার সময় হঠাৎ ট্রলারটির ওপর বজ্রপাত ঘটে। এতে ট্রলারে থাকা পাঁচজন জেলে আহত হন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইমন খাঁ ও শাকিব শিকদারকে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিন জেলের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাইদুল প্যাদা দুই জেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাঙ্গাবালী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আন নূরে জায়েদ বলেছেন, "বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি হাইস্কুলের মেয়েদের লকার রুমে চারটি গোপন ক্যামেরা বা রেকর্ডিং ডিভাইসের সন্ধান পাওয়ার পর স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে, তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের নাম এরিক জেমস (৫৩)। তিনি ওয়েলসবার্গের ব্রুক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, স্কুলের মেয়েদের শরীরচর্চার লকার রুমে চারটি রেকর্ডিং ডিভাইস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি আলাদা একটি লকার রুমে এবং অন্যটি স্কুলের ড্যান্স দলের সদস্যদের ব্যবহৃত ড্রেসিং এরিয়ায় ছিল।
বুধবার শিক্ষার্থীদের ছুটি হওয়ার পর ব্রুক কাউন্টি স্কুলস কর্তৃপক্ষকে লকার রুমে রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের অভিযোগ সম্পর্কে জানানো হয়। এরপর স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী, কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ডিভাইসগুলো ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তের সময় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমসের বাড়ি থেকেও অতিরিক্ত কয়েকটি রেকর্ডিং ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেমসকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে নর্দার্ন রিজিওনাল জেলে রাখা হয়েছে এবং তার জামিনের পরিমাণ ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে তারবার্তা, মৌখিক বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ গোপনে ধারণ করা বা ধারণের চেষ্টা এবং আবাসিক নয় এমন স্থাপনায় বেআইনিভাবে প্রবেশ।
তদন্ত চলাকালে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্কুলের কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্রুক কাউন্টি স্কুলস।
স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা তাদের মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্বের সঙ্গে আপস করে এমন কোনো আচরণ সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন নাগরিকরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। একটি জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগ ও চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর জন্য ফোকালডেটার করা জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্ট। মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই জরিপে এটি সর্বনিম্ন হার। আগের মাসের তুলনায় ট্রাম্পের অনুমোদন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা হতাশা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে, তার বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন।
প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, মার্কিন অর্থনীতি ভুল পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিচালনা নিয়ে সমর্থন কমেছে। মাত্র ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট কম।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচও বেড়ে গেছে। শুক্রবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
তবে ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করে এটিকে তুলনামূলক ছোট সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়ে তিনি দাবি করেছেন, নতুন পাইপলাইন, নৌপথ ও স্থলপথে তেল পরিবহনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনসমর্থনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিপরীতে, রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ২৫ শতাংশ।
দুই দলের মধ্যে ৬ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। ফলে নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ