ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যনগরে স্কুলের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সমগ্র অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি


মধ্যনগরে স্কুলের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সমগ্র অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের পলমাটি সরকারি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থী ও জনস্বার্থে সরকার "পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ" প্রকল্পে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ২৫০০০০ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। স্হানীয় ৯ নং ওয়াডের মেম্বার সুজন মিয়া এই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে উক্ত প্রকল্পের সমগ্র টাকা উত্তোলন করেন। পলমাটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় এক টাকার মাটিও কাটা হয়নি, এমনকি আমাদেরকে যা বলতে হয়নি যে সরকার আমাদের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের রাস্তা নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশিত হলে এবং প্রকল্পের পুরো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠলে, স্থানীয় ৯নং ওয়াডের সুজন মেম্বার উক্ত প্রকল্পে কোন অর্থ বরাদ্দ হয়নি বলে অস্বীকার করেন, বরং সাংবাদিকদের হলুদ সাংবাদিক বলে কটুক্তি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন। সত্য গোপন করে কিছু অসাধু সাংবাদিক দিয়ে সংবাদ দিগন্তে প্রতিবাদ সংবাদ প্রকাশ হয়। মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ পি আই ও সাবের আন্তরিকতায় সত্য উদঘাটন করেন, যাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে "পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ" প্রকল্পে ২৫০০০০ টাকা বরাদ্দ এবং সাবেক ইউ এন ও, সাবেক পি আই ও, ও সাবেক ডিসির অনুমোদিত স্বাক্ষর রয়েছে। পলমাটি গ্রামের বাসিন্দা ও মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন-- আমাদের গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের চলাচলের রাস্তা নির্মাণের টাকা আত্মসাৎকারী ও অনুমোদনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আমরা প্রত্যাশা করি উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় রাস্তা গ্রহণ করবে। আব্দুল আউয়াল মিছবাহ আরও বলেন—গ্রামবাসীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে এই লুটপাট ও প্রকল্পের সমগ্র অর্থ আত্মসাৎ এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও মাননীয় সংসদ সদস্য বরাবর আবেদন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্কুলের রাস্তা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপকৃত হতেন। তারা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ৯নং ওয়াডে এতো বড় পুকুর চুরির ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে, সুজন মেম্বার এক টাকার কাজও করেনি, আমাদেরকে কোন দিন জানাইওনি যে স্কুলের রাস্তায় টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এবং আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব কামরুজ্জামান সাহেবের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত ফেরত চাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুজন মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ঐ নামে কোন প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ হয়নি বলে অস্বীকার করেন। উপজেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদিত স্বাক্ষর সংযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাগজ প্রদর্শন করিলে তিনি স্হানীয় সাংবাদিকদের দোষারোপ করে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ির পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি প্রদান করে ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় ঘোষ বলেন, "বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও লোক মারফত সুজন মেম্বারের লুটপাট ও দূর্নীতির কথা জানতে পেরে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর তার মাধ্যমে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান সরকারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেন বেরোবির শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


পাকিস্তান সরকারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেন বেরোবির শিক্ষার্থীরা

পাকিস্তান সরকারের উচ্চশিক্ষা বৃত্তির আওতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে পাকিস্তান সরকারের উচ্চশিক্ষা বৃত্তির যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

দেশব্যাপী নির্ধারিত ছয়টি আঞ্চলিক পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম একটি কেন্দ্র হিসেবে এ পরীক্ষার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩-এ দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় রংপুর অঞ্চলের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মোট ১৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে এ বৃত্তির আওতায় সম্পূর্ণ টিউশন ফি, আবাসন, ভাতা এবং অন্যান্য শিক্ষা-সহায়তা প্রদান করা হবে।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর রাও মুহাম্মদ আজহার, ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের কালচারাল সেক্রেটারি (সাংস্কৃতিক সচিব) আনিল আসগর কালহোরো এবং প্রটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট মুহাম্মদ আনোয়ার।

পরিদর্শন শেষে অতিথিরা পরীক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ আয়োজনের প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এ বৃত্তি কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়া সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাম কমতেই বেড়েছে কেনাকাটা, বিশ্ববাজারে চাঙ্গা স্বর্ণের বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


দাম কমতেই বেড়েছে কেনাকাটা, বিশ্ববাজারে চাঙ্গা স্বর্ণের বাজার

এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর, দরপতনের সুযোগে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের কেনাকাটা বাড়িয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকেও কড়া নজর রাখছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর পূর্ববর্তী দিন, ১ জুলাইয়ের পর, স্বর্ণের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৭ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। স্টোনএক্সের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট বব হ্যাবারকর্ন মন্তব্য করেছেন, 'আগের দিনের দরপতনের পর বাজারে আবারও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।' তিনি বলছেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার-সংক্রান্ত নীতি। যদি ফেড আরও নমনীয় নীতি গ্রহণ করে, তাহলে স্বর্ণ ও রূপার দাম উঠতে পারে। তবে যদি ফেড সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, তাহলে এই দুই মূল্যবান ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হবে। এদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আমেরিকার সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় তিন সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু উচ্চ সুদের হার সুদ-আয়কারী সম্পদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, যা স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির প্রায় ৬৩ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এদিকে জুনে অনুষ্ঠিত মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সভার কার্যবিবরণী অনুসারে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কয়েকজন নীতিনির্ধারক সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিলেও, শেষে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যের দিকে নজর রাখছেন। এই সব তথ্য থেকে ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, এইচএসবিসি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নোটে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের গড় দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে। ব্যাংকটি ২০২৬ সালের পূর্বাভাস ৪ হাজার ৮৬৪ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৫৬০ ডলার এবং ২০২৭ সালের পূর্বাভাস ৫ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৯২৫ ডলারে দাঁড় করিয়েছে। অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৪ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬২৮ দশমিক ২২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৫৬ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ও আমদানি নীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ও আমদানি নীতি

দেশের বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকিকরণ নিয়ে তিনটি বড় খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদন হয়েছে।

চলতি মেয়াদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে এর মধ্যে সংগতি অনুযায়ী ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরকে গতিশীল করার জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানা গেছে।

দেশের বিনিয়োগকারীদের সেবা পেতে আরও সহজ ও দ্রুত করতে সরকারের তরফ থেকে বড় ধরনের সংস্কার হাজির হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে তৈরি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি আজ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভা।

নতুন এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) কার্যক্রমকে একক কাঠামোর মধ্যে উপস্থিত করা। প্রস্তাবিত নতুন কর্তৃপক্ষ হবে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা।

এর ফলে, বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’-এর মাধ্যমে লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিবন্ধন সহ যাবতীয় সরকারি সেবা পাবেন। এতে বিভিন্ন সংস্থার কাজের দ্বৈততা কমবে। সরকারের অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা বা শেয়ার উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে এই আইনে। ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহজ পদ্ধতিতে অনুমোদন দিতে পারবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের তৈরি ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ খসড়াটি অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ৩১টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নির্ধারিত করতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে এই কৌশলপত্রে রুফটপ সোলার, স্মার্ট গ্রিড, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও কর অবকাশের (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রায় একই সঙ্গে একটি বিশেষ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এই খাতের প্রযুক্তিগত জনবল তৈরিতে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এবং পুরো কার্যক্রম তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ‘জাতীয় পলিসি কাউন্সিল’ ও রিয়াল-টাইম অনলাইন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

নতুন নীতি আদেশে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে অর্থ পরিশোধ পদ্ধতিতে। এখন থেকে প্রচলিত এলসি বা লেটার অব ক্রেডিটের পাশাপাশি ‘ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি’ (সেলস কনট্রাক্ট) এবং ওপেন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মূল্যসীমা ছাড়াই পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ব্যবসায়ীরা।

রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন কাঁচামাল ‘ফ্রি অব কস্ট’ (এফওসি) বা বিনা মূল্যে আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও পুনঃরফতানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

নতুন নীতি আদেশে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসীরা যাতে দেশে এসে সহজে বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপন করতে পারেন, সেজন্য ক্যাপিটাল মেশিনারি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর প্রমাণিত কয়েকটি কীটনাশক আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। তবে দেশের প্রাণিসম্পদের প্রজনন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বার্থে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট প্যাথোজেনমুক্ত (এসপিএফ) এবং বিএসই-মুক্ত গরু, মহিষ ও ছাগলের সিমেন আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম নিয়ে এনসিটিবিতে আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম নিয়ে এনসিটিবিতে আলোচনা সভা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) আজ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই সভায় দেশের বিভিন্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের (প্রেস) মালিকরা অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা।

মতবিনিময় সভায়, প্রেস মালিকরা পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এনসিটিবির আশা, সরকার, এনসিটিবি এবং মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%