০৬:১৪ পি.এম
১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই তারা ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বাস্তবায়নে হবিগঞ্জে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় তাদের গাড়িবহরকে ট্রাক দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়। কিন্তু, সাড়ে ৪টার দিকে যখন গাড়িবহরটি শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পৌঁছায়, তখন একটি ট্রাক সড়কের ওপর আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে পুলিশ গাড়িবহরটি আটকে দেয়।
এনসিপির গাড়িবহরটিতে দলের আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এনসিপি নেতাদের বহরে মোট ১০টি মাইক্রোবাস রয়েছে। অন্যদিকে, চা-কন্যা এলাকায় শতাধিক পুলিশ মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহনগুলো আটকে রেখেছেন। এরপর এনসিপি নেতারা গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে ১৪৪ ধারার মধ্যে পুলিশ এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে যেতে বাধা দেন। এনসিপি নেতারা পুলিশ বাধা তুলে নেয়ার দাবিও করছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত মন্তব্য করেন, মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে এনসিপি নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর একটি ব্রিজের ওপর ট্রাক দিয়ে আটকাতে পুলিশ বাধা প্রদান করে। সেখানে দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ এনেছে এনসিপি নেতারা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এই ঘটনার মধ্যে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
হবিগঞ্জের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানালেন, তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পুলিশ উপস্থিত রয়েছেন এবং তারা সতর্কতা অবলম্বন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। সেই সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় দলে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলার হাত থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন, পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন। এই অবস্থায় বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ১৪৪ ধারাও জারি করে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন