শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৯ এম
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া ফোরসাইট নেটওয়ার্কের (এসএএফএন) সম্মানসূচক (অনারারি) সিনিয়র ফেলো হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী।
এ তথ্য বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে।
এসএএফএন, যা দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের অধীনে পরিচালিত, মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, ভূরাজনীতি ও নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা ও সংলাপের আয়োজন করে।
নিয়োগের ঘোষণায় আনসারীর জনসেবা, গণমাধ্যম ও কূটনীতিতে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়, তার এই অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনা এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের গবেষক ও বৃহত্তর পাঠকসমাজও তার চিন্তা ও বিশ্লেষণ থেকে উপকৃত হবে।
নতুন ভূমিকায় আনসারী নীতিবিষয়ক সংলাপ ও গবেষণায় অবদান রাখবেন। তিনি ওয়াশিংটনে এসএএফএনের যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে নেটওয়ার্কটির গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবেন।
মুশফিকুল ফজল আনসারী, জনসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গণমাধ্যমে দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমানে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আছেন।
তিনি এর আগে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একই সঙ্গে কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসে সমবর্তী দায়িত্বে ছিলেন। কূটনৈতিক দায়িত্বের আগে তিনি হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য অন্যান্য সিনিয়র ফেলোদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক এরিক সোলহেইম, শ্রীলঙ্কার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান গগন বুলাথসিংহলা, মালদ্বীপের কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত ওমর আবদুল রাজ্জাক প্রমুখ।
এছাড়া, এসএএফএনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মহসিন বেপারী
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে শুধুমাত্র পুলিশি অভিযান বা গ্রেফতার যথেষ্ট নয়; বরং মূল হোতাদের চিহ্নিত করা, পারিবারিক নজরদারি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সচেতন ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
তাদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পারিবারিক দূরত্ব, শিক্ষাজীবনে অনিয়ম, অবসর সময়ের সদ্ব্যবহার না থাকা এবং অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের প্রভাব কিছু কিশোরকে অপরাধী চক্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এজন্য অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই শনাক্ত করে সহায়তা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৩৮৬টি কিশোর গ্যাং গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১৫৯টি এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় ২২৭টি গ্রুপের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নেপথ্যের হোতা, মদদদাতা, আশ্রয়দাতা এবং মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক পরিবেশ এবং কিশোরদের মানসিক বিকাশের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বাসসকে জানান, পারিবারিক নজরদারির অভাব, বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব, পারিবারিক কলহ, শিক্ষাজীবনে অনিয়ম এবং অবসর সময় ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের সুযোগের অভাব কিশোরদের অপরাধী চক্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল মনে করেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব, অনলাইন কার্যক্রম এবং আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বাসসকে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের হালনাগাদ তালিকা ধরে অভিযান চলছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি তাদের মূল হোতা, মদদদাতা, আশ্রয়দাতা এবং মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা এবং প্রাপ্ত আইনগত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, পূর্বে যৌথ পরিবারে অন্যান্য সদস্যরা শিশু-কিশোরদের দেখাশোনা করতেন। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক নজরদারির অভাব দেখা যাচ্ছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব, পারিবারিক কলহ, স্কুলে অনিয়মিত উপস্থিতি, স্কুল থেকে পালানো বা ঝরে পড়া এবং অবসর সময় ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের সুযোগের অভাব কিশোরদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে এলাকার বড় ভাইদের অনুসরণ, আড্ডা, মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে কিশোরদের মধ্যে দলীয় সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। পরে কিছু ক্ষেত্রে এসব সম্পর্কের সঙ্গে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারি কিংবা অস্ত্র বহনের মতো অপরাধ যুক্ত হতে পারে।
রেজাউল করিম সোহাগের মতে, স্থানীয় অপরাধীরা অনেক সময় কিশোরদের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে। বয়স কম হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিক চাপ তুলনামূলক কম হবে—এমন ধারণা থেকে কেউ কেউ কিশোরদের অপরাধে সম্পৃক্ত করে থাকে।
এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের চিহ্নিত করে কাউন্সেলিং, শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্মার্টফোন ব্যবহারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, কিশোর গ্যাং কোনো একক কারণে তৈরি হয় না।
সন্তান নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে কি না, পড়ালেখা করছে কি না, কার সঙ্গে মিশছে এবং তার আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কি না, সেসব বিষয়ে বাবা-মাকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সন্তান মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে পড়ছে কি না, স্কুলের বাইরে কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং অনলাইনে কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে, সে বিষয়েও অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত। তার মতে, অন্তত এইচএসসি পর্যন্ত বয়সী সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে। তবে কর্মজীবী বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে ছোট বাটন ফোনের বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে।
অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, অনেক শিশু-কিশোর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় কাটায়। রাতে ঘুমের সময়ও ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও পড়াশোনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি। অপরাধ দমনে শুধু আইনের কঠোরতা যথেষ্ট নয়; কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের পোশাক, চুলের ধরন বা দলবদ্ধভাবে চলাফেরার মতো বিষয়কে এককভাবে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং আচরণগত পরিবর্তন, শিক্ষাজীবনের পরিস্থিতি ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট বুঝে দায়িত্বশীলভাবে সহায়তা দিতে হবে।
অপরাধের নেটওয়ার্ক ভাঙতে অভিযান জোরদার
এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে যাচাই এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ানো নয়, অপরাধের মূল কারণ ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে পুনরায় অপরাধ সংঘটনের সুযোগ বন্ধ করাই এ কার্যক্রমের লক্ষ্য।
ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, বসিলা, মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীসহ আরও কয়েকটি এলাকায় এসব গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সাম্প্রতিক তালিকা অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগে ৩২টি এবং তেজগাঁও বিভাগে ২৬টি কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য রয়েছে। থানা হিসেবে পল্লবীতে ১৪টি এবং মোহাম্মদপুরে ১৬টি গ্রুপের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব গ্রুপের অবস্থান ও সক্রিয়তার চিত্র পরিবর্তনশীল।
রাজধানীতে ১ হাজার ২১৯ সদস্যের তথ্য
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বাসসকে জানান, হালনাগাদ তালিকা ধরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১ হাজার ২১৯ জন সদস্য রয়েছে। তাদের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছর। স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট (এসআরইউ) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এসব অপরাধীকে গ্রেফতারে কাজ করছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
এডিশনাল আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বাসসকে বলেন, কিশোর গ্যাং কিংবা তাদের পেছনে থাকা আশ্রয়দাতা কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মূল উদ্দেশ্য শুধু গ্রেফতার করা নয়; কিশোরদের পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিট পুলিশিং, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনে গুরুত্ব
কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় পুলিশি নজরদারি জোরদার, চিহ্নিত স্থানে নিয়মিত তল্লাশি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ টহল পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধে ইন্ধনদাতা ও ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সেশন, অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের ক্ষেত্রে বয়স, অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্টতার মাত্রা এবং প্রযোজ্য আইন বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, কাউন্সেলিং, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধে ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধ থেকে ফিরে আসতে ইচ্ছুক কিশোরদের পুনর্বাসনের সুযোগ রাখতে হবে। স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, মানসিক সহায়তা দেওয়া, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা গেলে কিশোরদের অবসর সময় ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও কমিউনিটির সমন্বিত ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একদিকে অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যদিকে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সামাজিক ও পারিবারিক কারণগুলো দূর করতে হবে। পরিবারে দায়িত্বশীল নজরদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ এবং পুনর্বাসনমূলক সহায়তা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের পাশে দাঁড়ানো। আইন প্রয়োগ, অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা—এই তিনটি ক্ষেত্রের সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখার পথ তৈরি করতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বি এম নূর আলম
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব স্থাপন, বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান এবং একটি স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি, সাইবার অপরাধের মামলার তদন্তে দক্ষ জনবল তৈরি করতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে জোরদার করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধের ফলে পারিবারিক কলহ, মানসিক বিপর্যয় এবং সামাজিক মর্যাদাহানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইনে হয়রানি, হুমকি এবং প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই মানসিক চাপ, ভয় ও হতাশায় ভুগছেন। ভুয়া আইডি খুলে মিথ্যা তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাইবার অপরাধের কারণে আর্থিক ক্ষতি, মানসিক বিপর্যয়, সামাজিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং এবং ভুয়া লিংকের মাধ্যমে প্রতারকরা মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে সেগুলো প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে জানান, ‘সাইবার জালিয়াতি, হ্যাকিং ও অনলাইন হয়রানি-সংক্রান্ত যেসব মামলা সিআইডিতে আসে, সেগুলো পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাইবার অপরাধ দমনে নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাইবার অপরাধ তদন্তে কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এফটিআই) ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে (ডিটিএস) চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন নতুন মডিউল যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশ সদরদপ্তরের উদ্যোগে সম্প্রতি দেশব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স চালু করা হয়েছে। এতে সিআইডির কর্মকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন।’
সিআইডির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত জিআর (জেনারেল রেজিস্টার) ৩২টি ও সিআর (ক্রিমিনাল রেজিস্টার) ১৫৯টিসহ মোট ১৯১টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সাইবার অপরাধের অভিযোগে এক বছরে ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, সাইবার অপরাধ দিন দিন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
অনলাইনে প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ঘরে বসে খণ্ডকালীন কাজ করে আয় কিংবা ইউটিউবের ভিডিওতে ‘লাইক’ দিয়ে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে সাধারণ গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। শুরুতে এক হাজার বা দুই হাজার টাকা বোনাস দিয়ে তাঁদের আস্থা অর্জন করা হয়। পরে বিভিন্ন ‘টাস্ক’ পূরণের নামে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত এক বছরে এ ধরনের আর্থিক প্রতারণায় সাধারণ গ্রাহকরা শত শত কোটি টাকা হারিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশ যেকোনো অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে। সমাজ থেকে অপরাধ দমন ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার বুলিং ও অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মিথ্যা সংবাদ ও ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে সমাজে আতঙ্ক, বিভ্রান্তি ও বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তাঁরা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অপরিচিত লিংক ও ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়ায়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, ‘প্রযুক্তির জয়যাত্রার সমান্তরালে দেশজুড়ে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। এ অপরাধের জালে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে পড়ছেন সমাজের সাধারণ ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ। ওটিপি শেয়ারিং, ভুয়া ফোনকল, ডিপফেক ভিডিওর মাধ্যমে প্রতারণা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারাচ্ছেন। অনেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, আবার কেউ কেউ মৃত্যুর দিকেও ধাবিত হচ্ছেন।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অচেনা কাউকে পিন বা ওটিপি দেওয়া যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশ দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়াতে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) একটি সাইবার ল্যাব রয়েছে। এ ছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমে (সিটিটিসি) একটি ফরেনসিক ল্যাব চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল অপরাধের মামলা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।’
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাজধানীর রমনা বিভাগে সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত ৮৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লালবাগ বিভাগে ২২টি মামলায় ২৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ১২টি মামলায় ২৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৩৩টি মামলায় ৪৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৩টি মামলায় ৪৯ জন, মিরপুর বিভাগে ৩৩টি মামলায় ২৭ জন, গুলশান বিভাগে ৩৮টি মামলায় ৩৭ জন এবং উত্তরা বিভাগে ২৬টি মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে সরকার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।
এছাড়া ১ অক্টোবর ঢাকায় একটি স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হয়েছে। ইউনিটটিতে ৪ হাজার ৫৯২ জন পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মী রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে ইউনিটটি পরিচালিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়েও সাইবার অপরাধ তদন্তের জন্য পৃথক কার্যক্রম বা ডেস্ক রয়েছে।
সম্প্রতি মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তের ওপর ১০ দিনব্যাপী বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁরা পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় রাতে টহল দেওয়ার সময় কাভার্ড ভ্যানের আঘাতে পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন– কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার পুত্র রফিক মোল্লা (৪৫)। আহতদের মধ্যে উপপরিদর্শক জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮) অন্তর্ভুক্ত। জাবেদ ওমর বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল। এক পর্যায়ে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, জাবেদ ওমর এবং রাব্বি। ঠিক তখনই একটি কাভার্ড ভ্যান ঘোড়াশালমুখী হয়ে তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।
পরে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে রাত ৩টা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানুর রহমান ও জাবেদ ওমরকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, রাতের টহল চলাকালীন সময়ে তাদের গাড়িচাপা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু ঘটে। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় একজনেরও মৃত্যু হয়েছে।
চাপা দেওয়া গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ২০০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক, ৬৫৩ পিস ওষুধ এবং একটি ইজিবাইক জব্দ করেছে। এ সময়, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করার সময় এক দালালসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর আনুমানিক বেলা ২টা ২০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নতুনপাড়া বিওপির একটি দল সীমান্ত পিলার-৬৬/৭-এস থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালায়। নায়েব সুবেদার মোহাঃ শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একটি আম বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০০ প্যাকেট ভারতীয় অবৈধ কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, ২১ অক্টোবর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খোসালপুর বিওপির একটি টহল দল যোশপুর গ্রাম থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় তিন বাংলাদেশি এবং এক দালালকে আটক করে। আটককৃত দালাল হলেন মহেশপুর থানার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৩৫)। আটক হওয়া তিন বাংলাদেশি নাগরিক হলেন—কুমিল্লার সায়েদ আলম (২২), সাব্বির হোসাইন (২৩) এবং চাঁদপুরের মো. মাহমুদুল হাসান (২১)। তাদের কাছ থেকে একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়।
এদিকে, আজ ২৩ অক্টোবর ভোরে যাদবপুর বিওপির এলাকা থেকে নায়েব সুবেদার মো: আবু বকরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বেতবাড়িয়া এলাকার একটি খেতের পাশ থেকে ৬৫৩ পিস ভারতীয় চোরাচালানি ওষুধ উদ্ধার করে বিজিবি।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী এমদাদুর রহমান জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে উদ্ধারকৃত মালামাল ও ইজিবাইকসহ তাদেরকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ