০৬:০৯ পি.এম
পুলিশ দুই বছর পর একটি ‘নিখোঁজ’ যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে। যুবকের নাম মোস্তফা কামাল (২৮)। তাকে অপহরণের অভিযোগে হত্যা করে মরদেহ গুমের মামলাও করা হয়েছিল। তবে এতে ঠিকাদার জামান মিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার সত্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ৯ জুলাই রাতে, গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকা থেকে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
শেরপুরের বাসিন্দা মোস্তফা কামাল দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি নিখোঁজ হন এবং তার মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন যে, ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, মোস্তফা কামালের সঙ্গে জামান মিয়ার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ছিল এবং সেই বিরোধ থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ মামলার পর পুলিশ জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে, যিনি প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।
তদন্তে পরে মামলার তথ্য নিয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে, মোস্তফা কামাল জীবিত অবস্থায় গাজীপুরে অবস্থান করছেন।এর ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই রাতে গাজীপুরের ডেগেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সেখানে সে পরিচয় গোপন করে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিয়েও করেছেন এবং একটি নতুন সংসার গড়েছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
উদ্ধারের পরদিন ১০ জুলাই, কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলামের আদালতে মোস্তফা কামালের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল হক।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, ‘তদন্তের সূত্র ধরেই গাজীপুর থেকে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তার আত্মগোপনের বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই জানতেন। তবে তারা দুই বছরেও পুলিশকে বিষয়টি জানাননি।’
এদিকে, জামান মিয়া মিথ্যা মামলায় কারাভোগের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো অপরাধ না করেও আমাকে চার মাস জেলে থাকতে হয়েছে। আমার ব্যবসা ও সামাজিক সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় আমি অভিযুক্ত হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে মোস্তফা কামাল বা তার পরিবারের কোনো সদস্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করে থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ঘটনাটি প্রকাশের পর কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজনকে হত্যা করা হয়েছে— এমন অভিযোগে মামলা হওয়ার পর সেই ব্যক্তির দুই বছর পর জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন