ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিনাবাদাম চাষে বদলে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের কৃষকদের ভাগ্য


চিনাবাদাম চাষে বদলে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের কৃষকদের ভাগ্য

জেলার দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে চিনাবাদামের ব্যাপক ফলন হওয়ায় কৃষকরা আনন্দিত হয়ে ওঠেছেন। চলতি খরিপ-১ মৌসুমে চরের অনাবাদি জমিতে এই অর্থকরী ফসলটি ঘরে তোলার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, সাধারণত বেলে মাটিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে চরাঞ্চলের যে সকল জমি সারা বছর পতিত পড়ে থাকত, সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু স্থানীয় কৃষক চিনাবাদাম চাষ শুরু করেছেন। তাদের সাফল্য দেখে এখন অনেক কৃষক যমুনা ও পদ্মা নদীর বিশাল চরাঞ্চলে চিনাবাদাম চাষ করছেন।

স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় চরের কৃষকরা মান অনুযায়ী প্রতি মণ চিনাবাদাম ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা দরে বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডিএই-এর তথ্যমতে, জেলায় খরিপ-১ মৌসুমে মোট ৩,৬৪২ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে এবং ৭,১৫৫ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর কালিকাপুরের কৃষক রিফাজ উদ্দিন জানান, তিনি এ মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন ও দাম পাচ্ছেন।

কৃষক হাবিল উদ্দিন বাসসকে জানান, চরাঞ্চলে চিনাবাদাম চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ এটি বেলে ও অনাবাদি জমিতে ভালো জন্মায় এবং এতে কোনো সেচের প্রয়োজন পড়ে না।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তিনি আরও বলেন, চিনাবাদাম এখন চরাঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। বছরে শীত ও গ্রীষ্ম, এই দুই মৌসুমে এর চাষ করা হয়ে থাকে।

কৃষকদের কাছ থেকে চিনাবাদাম কেনার জন্য অনেক ব্যবসায়ী এসব এলাকায় আসেন এবং কিছু মধ্যস্বত্বভোগীও নিয়মিতভাবে এর কেনাবেচা করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ জানান, চরাঞ্চলের বেলে মাটি চিনাবাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং জেলার দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলায় এর চাষাবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই চীনাবাদাম চাষের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সংস্কার ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সংস্কার ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ

বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গুরুত্বারোপ করেছেন এই খাতের উদ্যোক্তা, সংস্কৃতিকর্মী এবং বিশেষজ্ঞরা করনীতি সংস্কার, কপিরাইট সুরক্ষা, লাইসেন্সিং সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সহায়ক নীতিগত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর।

শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ফেসবুক লাইভ আলোচনা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: স্লোগান অর আনট্যাপড পটেনশিয়াল?’-এ বক্তারা বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিকে শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে নয়, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং রপ্তানির সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ৫০০ কোটি টাকা সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো জিডিপিতে খাতটির অবদান বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলা।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর, চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, নাট্যকার ও তারুয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন এবং ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের (সিএইচপি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম।

চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর বলেন, চলচ্চিত্রসহ সৃজনশীল শিল্পের জন্য পৃথক করনীতি ও কর-সুবিধা চালু করা হলে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, চলচ্চিত্র এবং ওটিটি খাতের বিকাশে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর ও লাইসেন্সিং নীতির সংস্কার অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং দেশীয় প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, দেশে সৃজনশীল প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সেই প্রতিভাকে বিকশিত ও বাণিজ্যিকভাবে সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম এখনো গড়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রে সরকারের কাঠামোগত সহায়তা আবশ্যক।

নাট্যকার ও তারুয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল বলেন, নাটক ও অন্যান্য শিল্পকলাকে এখনো অর্থনৈতিক খাত হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। শিল্পীদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে টেকসই সৃজনশীল শিল্প নির্মাণ সম্ভব হবে না।

ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রকাশনা শিল্প দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। কপিরাইট আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, পাইরেসি প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে তুলে ধরার উদ্যোগ বৃদ্ধি পানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম বলেন, হস্তশিল্পসহ সৃজনশীল পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে মান সনদ, কমপ্লায়েন্স এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং অত্যাবশ্যক।

সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না; সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য কার্যকর নীতির কর্মপরিকল্পনা, কর-সহায়তা, রয়্যালটি বণ্টন, কপিরাইট সুরক্ষা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

আজ শনিবার, অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনাটি দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর পূর্বে, ১০ জুলাই রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় আলোচনা করা হয়, বন্যাকবলিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের প্রয়োজন হলে ছুটি বাতিল এবং সাত দফা বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণের।

এছাড়া, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলায়, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে যথাযথ ফোকাল পারসন নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। এই ফোকাল পারসনরা কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখবেন এবং তাদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত সব উপজেলায় এবং জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এখন, বন্যা মোকাবিলার কার্যক্রম জানাতে গণমাধ্যমকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন অথবা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে, আগামী ১২ জুলাই বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া, সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সকল উপজেলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনবোধে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয় করে এই সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করতেও বলা হয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন উপজেলা ও জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজনে ছুটি বাতিলের কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে আটকা পড়া চার পর্যটককে উদ্ধার করেছে বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


বান্দরবানে আটকা পড়া চার পর্যটককে উদ্ধার করেছে বিজিবি

জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম থুইসা খিয়াংপাড়ায় আটদিন ধরে আটকে থাকা চারজন পর্যটক এবং একজন স্থানীয় গাইডকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে।

আজ শনিবার সকালে বিজিবি’র বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) একটি টহল দল দুর্গম পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে পর্যটকদের উদ্ধার করে। প্রথমে তাদের নেওয়া হয় নিয়াপিউ ম্রোপাড়া বিজিবি ক্যাম্পে। পরে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় একটি জিপে করে তাদের নিরাপদে থানচি সদরে পাঠানো হয়েছে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, চারজন পর্যটক ও একজন স্থানীয় গাইড গত ৪ জুলাই আমিয়াখুম ও বেলাখুম ভ্রমণে গিয়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের থুইসা খিয়াংপাড়ায় আটকা পড়ে যান। ওই সময়ে গ্রামের এক বাসিন্দা মানবিক কারণে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি’র বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেনের নির্দেশনায় জিন্নাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা শুক্রবার বিকেলে দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পর্যটকদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আজ শনিবার সকালে বিজিবি সদস্যরা পর্যটকদের উদ্ধার করে প্রথমে নিয়াপিউ ম্রোপাড়া বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরে, উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় একটি জিপে করে তাদের থানচি সদরে পাঠানো হয়।

বিজিবি’র বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকল করতে বাধা দেওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ভাঙচুর, ১০ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


নকল করতে বাধা দেওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ভাঙচুর, ১০ জন আহত

ভোলার চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে না পেরে কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষার কেন্দ্রের ওপর হামলা ও ভাঙচুর করেছে।

এই ঘটনায় বাসার শিক্ষক, গভর্নিংবডির সভাপতি, এবং পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হামলাকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে হামলার ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হলে শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে কলেজের গেইটে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে তারা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ অন্যান্য কক্ষে ভাঙচুর চালাতে শুরু করে। পুলিশ পরে গিয়ে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, তার কেন্দ্রে ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন নিয়মিত পরীক্ষা করছে। এই পরীক্ষার্থীরা সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। আজ তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা ছিল। প্রশ্ন কমন না হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা নকলের চেষ্টা করতে গেলে কক্ষ পরিদর্শকেরা তাদের বাধা দেন। এতে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে পরীক্ষা দেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর পরীক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য শান্ত হলেও সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়ার পর আবারও কক্ষ পরিদর্শকদের সাথে খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। তারা হॉल এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পুলিশ পরে সেখানে অতিরিক্ত আসে।

দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সবাই কলেজের প্রধান গেইটে অবস্থান নেয়। সকলেই একযোগে কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতে থাকে। তা ব্যর্থ হয়ার পর তারা পিছনের গেটে ভেঙে এবং ওয়াল টপকিয়ে কলেজের বিভিন্ন কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর করতে থাকে। এক পর্যায়ে, তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে করে কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ ৪-৫ জন শিক্ষক আহত হন।

হামলাকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে আরও বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছে। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেলে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। যদি মামলা হয় তবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ার কারণে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ জরুরি বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%