০৩:৩৯ এম
ঝালকাঠির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতের কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকের মুখোমুখি হচ্ছেন। ঝালকাঠি শহরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা জানান, তিনি মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছেন। পাশে তার বাবা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। গত দুই মাস ধরে দিনে ও রাতে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের কারণে তার মতো শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, জেলার সাধারণ গ্রাহকরাও তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। গ্রাহকরা লোডশেডিং বন্ধ, গ্রাহক হয়রানি ও বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছেন প্রতিবাদে। তবে দাবি করেছেন যে এতে কোনো প্রতিকার মিলছে না। লোডশেডিংয়ের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী রাতের বেলা মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে দোকান চালাচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস-আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। কলকারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ছোট জেলা শহরটি প্রায় মোটামুটি অন্ধকারে ডুবে যায়। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঝালকাঠি জেলাজুড়ে দিন-রাত ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ অকালে চলে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতেও সমস্যা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি এবং ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝালকাঠি জেলায় ওজোপাডিকোর আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট।
এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। গ্রাহকরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঝালকাঠি শহরের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান মন্তব্য করেন, “দিন ও রাতে মিলিয়ে ছয় থেকে সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এই তীব্র গরমে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি।” নলছিটি শহরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ঘুমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়। এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে।” নলছিটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা বলেন, ‘পরীক্ষার সময় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে খুব সমস্যায় পড়ছি। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। গরমে সঠিকভাবে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। এতে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ ঝালকাঠি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। আমাদের জেলায় চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৬ মেগাওয়াট। বেশি বিদ্যুৎ বরাদ্দ পেলে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন