ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঝালকাঠিতে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা


ঝালকাঠিতে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

ঝালকাঠির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতের কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকের মুখোমুখি হচ্ছেন। ঝালকাঠি শহরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা জানান, তিনি মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছেন। পাশে তার বাবা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। গত দুই মাস ধরে দিনে ও রাতে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের কারণে তার মতো শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, জেলার সাধারণ গ্রাহকরাও তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। গ্রাহকরা লোডশেডিং বন্ধ, গ্রাহক হয়রানি ও বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছেন প্রতিবাদে। তবে দাবি করেছেন যে এতে কোনো প্রতিকার মিলছে না। লোডশেডিংয়ের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী রাতের বেলা মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে দোকান চালাচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস-আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। কলকারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ছোট জেলা শহরটি প্রায় মোটামুটি অন্ধকারে ডুবে যায়। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঝালকাঠি জেলাজুড়ে দিন-রাত ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ অকালে চলে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতেও সমস্যা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি এবং ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝালকাঠি জেলায় ওজোপাডিকোর আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট।

এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। গ্রাহকরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঝালকাঠি শহরের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান মন্তব্য করেন, “দিন ও রাতে মিলিয়ে ছয় থেকে সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এই তীব্র গরমে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি।” নলছিটি শহরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ঘুমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়। এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে।” নলছিটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা বলেন, ‘পরীক্ষার সময় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে খুব সমস্যায় পড়ছি। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। গরমে সঠিকভাবে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। এতে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ ঝালকাঠি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। আমাদের জেলায় চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৬ মেগাওয়াট। বেশি বিদ্যুৎ বরাদ্দ পেলে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে জাল সনদে চাকরি, ২ শিক্ষকের এমপিও বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ এম


পিরোজপুরে জাল সনদে চাকরি, ২ শিক্ষকের এমপিও বাতিল

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল নিবন্ধন সনদ ও ভুয়া সুপারিশপত্রের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের এমপিও বাতিল করেছে। পাশাপাশি, ইনডেক্স নম্বর কর্তন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুস সাকিব। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থশাখা থেকে ৩০ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন- বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার এবতেদায়ী বিভাগের প্রধান মো. আব্দুর রহমান এবং এবতেদায়ী শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ।

বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়, জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) দ্বারা সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ ও সুপারিশপত্র জাল অথবা ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সেই মোতাবেক, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী গঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাদের এমপিও বাতিল করা হয়েছে এবং ইনডেক্স নম্বর কর্তন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের উত্তোলিত বেতন-ভাতাসহ সরকারি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করারও নির্দেশ দিয়েছে।

বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুস সাকিব বলেন, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধা নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাল সনদ ও ভুয়া সুপারিশপত্র ব্যবহার করে নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি: গ্রেফতারের পর মঠবাড়িয়ার সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ এম


প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি: গ্রেফতারের পর মঠবাড়িয়ার সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে এক যুবককে আটকে রেখে চাঁদা দাবি ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, পিরোজপুর জেলা শাখা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিটি বলছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মঠবাড়িয়ায় এক যুবককে আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে কেএম ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ এম


পটুয়াখালীতে ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও পরবর্তী সময়ে লঘুচাপের দূরবর্তী প্রভাবে টানা ৬ দিনের বর্ষণে তলিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ উপকূলীয় জনপদের গ্রামগুলো। প্রকৃতিতে নেমে আসা এ দুর্যোগের কারণে বৈরিতার কবলে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে নিম্নাঞ্চলে। আর বিরামহীন বৃষ্টির ফলে সাধারণ জীবনযাত্রায়ও নেমে এসেছে ধীর গতি। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্য চাষিরা। প্রবল বর্ষণে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে। ফলে মৎস্য বিভাগ বলছে, এখন পর্যন্ত কলাপাড়া উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা।

যার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা হলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃষ্টির মুষলধারায় বাড়তি পানিপ্রবাহে অন্তত চার শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেছে অনেক কৃষকের স্বপ্ন। বিশেষ করে মিঠাপানির জলাশয় থেকে অসংখ্য চাষির মাছ বেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক মৎস্য ঘেরের বাঁধ ভেঙেছে এবং কোথাও পুকুর ভেসে মাছ বের হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে চাকামইয়া, চম্পাপুর, নীলগঞ্জ, ধুলসার, ধানখালী ও মহিপুরের অসংখ্য মৎস্য চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তারা বলছেন, যদি বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকে, তবে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি গো খাদ্য সংগ্রহেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।

চম্পাপুর ইউপির চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৎস্য চাষি হুমায়ূন কবির বলেন, তিন একর জমিতে চাষ করা মাছের ঘের তলিয়ে সব মাছ ভেসে গেছে। ঘেরে রুই, কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছি। অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া আমির হোসেন, মতি গাজী, ছলেমান, জিয়ান তালুকদার, শুভ গাজী, টল এনামুলসহ বহু চাষির মৎস্য ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর ফকির বলেন, আমার ইউনিয়নে অনেক এলাকায় এখন অচলাবস্থা বিরাজ করছে। নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িসহ ক্ষেত-খামার সব প্লাবিত হয়েছে। অন্তত দুই শতাধিক ঘের ও পুকুর তলিয়ে অপূরণীয় ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকদিন গোয়ালের গরু, ছাগল নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কলাপাড়া রাডার স্টেশন ও পিবিও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক জয়দীপ কবিরাজ বলেন, গত ৪ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩০৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপুসাহা জানান, চলমান এ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এ পর্যন্ত চার শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণের মাধ্যমে এর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আমরা তালিকা তৈরি করছি। পরে এ তালিকা মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন দিন ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই: ফিরে এসে আল আমিন বললেন, ‘আমার সহকর্মীরা বেঁচে থাকতে পারে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ এম


তিন দিন ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই: ফিরে এসে আল আমিন বললেন, ‘আমার সহকর্মীরা বেঁচে থাকতে পারে’

বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি জীবিত ফিরে এসেছেন জেলে আল আমিন।

ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে উপরে ভেসে থাকার সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমানে তিনি হাসপাতালের শয্যায় রয়েছেন। কিন্তু নিজের ফিরে আসার আনন্দের চেয়ে, এখনো নিখোঁজ থাকা পাঁচ সহকর্মীদের চিন্তাই তাকে বেশি কাঁদাচ্ছে।

তার বিশ্বাস রয়েছে, তারা যদি ট্রলার থেকে বেরিয়ে না গিয়ে থাকেন, তাহলে তারা এখনো জীবিত থাকতে পারেন।

আল আমিনের এই বিশ্বাস স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারকে।

আল আমিন গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে। গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ভোলার ঢালচর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় ভোলার একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে স্বজনরা তাকে স্পিডবোটে করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী তার চিকিৎসা ও সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কাঁপা কণ্ঠে আল আমিন জানিয়েছেন, "আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। যদি তারা ট্রলার না ছেড়ে থাকে, তাহলে ওরা এখনো বেঁচে থাকতে পারে। দ্রুত খুঁজলে হয়তো ওদের পাওয়া যাবে।"

তিনি আরও জানান, গত ৫ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। অনেকে সাগরে ছিটকে পড়েন এবং কেউ ট্রলারের ভেতরে আটকা পড়েন।

আল আমিনের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের ভেতরে তিনজন ছিলেন এবং আটজন পানিতে ভেসে ওঠেন। তিনি, আক্কাস এবং হারুন ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে ভেসে ছিলেন। ট্রলারের ভেতরে থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন পরে ঢেউয়ের তোরে বেরিয়ে এলেও একজন বের হতে পারেননি।

টানা তিন দিন তিন রাত ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়াই করেছেন তারা। চারদিকে শুধু অথৈ পানি। ছিল না কোনো খাবার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

বৃষ্টির পানি মুখে নিয়ে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করেছেন। দিনের প্রখর রোদে শরীর পুড়েছে এবং রাতের অন্ধকারে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়েছে।

একপর্যায়ে দূরে একটি ডুবোচর দেখতে পেয়ে সেটিকে তীর ভেবে সাঁতরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিন্তু কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন, সেখানে কোনো স্থলভাগ নেই।

এ সময় হারুন ও আক্কাস আবার ডুবন্ত ট্রলারের কাছে ফিরে যান। কিন্তু আল আমিন আর ফিরতে পারেননি। তিনি ডুবোচরের আশপাশে ভেসে থাকতে থাকেন। অবশেষে বুধবার বিকেলে ভোলার একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন।

আল আমিন প্রশাসনকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ জেলেরা যদি ট্রলার ছেড়ে না গিয়ে থাকেন, তাহলে তারা কাউয়ারচরের পশ্চিমে হাসাখালী এলাকার সাগরে থাকতে পারেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, আল আমিন জীবিত ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই, নিখোঁজ পাঁচ জেলের পরিবারে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

কয়েকদিন ধরে কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনরা এখন প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠা এবং প্রার্থনায়।

কেউ ঘাটে অপেক্ষা করছেন, কেউ মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন, আবার কেউ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন প্রিয় মানুষটি যেন জীবিত ফিরে আসেন।

গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, বুধবার চরফ্যাসনের দুলাল মাঝির মাধ্যমে আল আমিন জীবিত উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্পিডবোটে সেখানে যাই। চিকিৎসা শেষে তাকে গলাচিপায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন আমরা চাই, বাকি জেলেদেরও দ্রুত উদ্ধার করা হোক।

গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আল আমিনের দেওয়া তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বর্ণনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্ভাব্য এলাকায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

আমরা আশা করছি, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান পাওয়া যাবে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন নিখোঁজদের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেই তথ্য যাচাই করে কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই রাতে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে গলাচিপার ১১ জেলেকে নিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। পরদিন পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তিন দিন পর আল আমিনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ জেলে। তারা হলেন হারুন হাওলাদার, এমাদুল, ফোরকান, সায়েম এবং আক্কাস।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%