০৫:৫৩ পি.এম
নেত্রকোণায় সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে দীর্ঘদিনের সীমান্ত জটিলতা শেষে শূন্য রেখায় নতুন সড়ক তৈরি হচ্ছে। নতুন ব্রিজ এবং সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে অবহেলিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ বিজিবি সদস্যদের যাতায়াতও সহজ হবে, এটি বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন। তারা মনে করছেন, নির্মাণ কাজ বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধা নয়, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও উন্নতির আশা রয়েছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সীমান্তের জটিলতা কাটিয়ে নদী শাসনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে রয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল, ভবানীপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ভারতীয় বিএসএফ চলাচলের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের কারণে তারা পিছু হটে। সীমান্তের এই শূন্য রেখা কয়েক হাজার বাসিন্দার চলাচলের একমাত্র পথ হিসাবে কাজ করছে।
অবশেষে, শূন্য রেখার ওপর দেশের মাটিতেই নির্মাণ করা হচ্ছে রাস্তা। সোমেশ্বরী নদীর পাড় বাঁধাই করে সড়ক নির্মাণের কাজ আগাচ্ছে অনেকটাই। এর ফলে দুর্গাপুরের ভবানীপুর গ্রামে দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে যে সমস্যা ছিল তা নিরসনের আশা করছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
উজানের পাহাড়ি ঢলে দিন দিন গ্রামটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর ভাঙ্গনের ফলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর চলাচলের সড়ক না থাকার কারণে শূন্যরেখাটি ছিল একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘বিজয়পুর আইসা বাদে নৌকা দিয়ে আসতে হয়। রাস্তাঘাট খুব খারাপ অবস্থা। কোনো বাচ্চাকাচ্চা স্কুলে পাঠাইতে পারতাছি না। রাস্তাঘাট সমস্যা। নতুন যে ব্রিজ ছিল সেটাও ভাইঙে গেছে।’
গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ব্রিজটি পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত থেকে শুরু করে সবকিছুতেই ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে। সীমান্তে থাকা বিজিবি সদস্যরাও দুর্ভোগের শেষ নেই। অবশেষে, বিজিবির মধ্যস্থতায় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নদীর ভেতরেই রাস্তাটি তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে সড়ক বিভাগ এবং এলজিইডির কাছে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
ঠিকাদার বলেন, ‘এখন নদী শাসনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হবে।’
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘নতুন রাস্তা যদি আজ হয়, তাহলে আমাদের সুবিধা হবে, ভালো হবে। দ্রুত যেন ওই রাস্তাটি হয়ে যায়, আমাদের সুবিধা হবে।’
শূন্যরেখার ৫৫ মিটার দূর দিয়ে ১ হাজার ৪৪০ মিটার সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বিজিবি। নির্মাণ সম্পন্ন হলে গ্রামবাসীরা এর সুফল পাবেন বলে বিজিবির অধিনায়ক জানিয়েছেন। এদিকে বিলীন হওয়া সড়ক চ্যালেঞ্জ নিয়েই বিজিবির সহায়তায় কাজের শেষের দিকে রয়েছে, এ তথ্য জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী।
নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী পিএসসি বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা ২০২৪ সাল থেকে এখানে রাস্তাটি নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ, ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং আমরা আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে এই রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন হবে।’
নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাজ সম্পন্ন হলে এলজিইডি একটি রাস্তা নির্মাণ করবে। আমরা গ্রাউন্ডটি ডেভেলপ করে দিয়েছি, এটি ভবানীপুর গ্রামে যাওয়ার রাস্তা, যে রাস্তা এখন পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারবে লোকজন।’
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
দুর্গাপুর উপজেলার ভবানীপুরে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১৩ কোটি ২৮ লাখ ও ৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি প্যাকেজের আওতায় ৫৫ মিটার মাটি ভরাটসহ ৩৬০ মিটার নদীর পাড় বাঁধাই কাজ চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন