০২:৫২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের আকাশে এ সপ্তাহান্তে মেরুজ্যোতির (Northern lights) বর্ণিল আলোর দেখা মিলতে পারে। সূর্য থেকে শক্তিশালী কণার নির্গমনের ফলে ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় রোববার (১১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই আলোর প্রদর্শন ঘটতে পারে। তবে আবহাওয়া, মেঘ এবং কৃত্রিম আলোর উপস্থিতির কারণে সব স্থানে মেরুজ্যোতি দেখা নাও যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের মহাকাশ আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র রোববার মাঝারি মাত্রার ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাস অনুসারে, ৭ ও ৮ অক্টোবর সূর্য থেকে দুটি বিশাল পদার্থ ও চৌম্বকক্ষেত্রের উদগিরণ ঘটেছে। এগুলোকে করোনাল মাস ইজেকশন বলা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, দ্রুতগতির উদগিরণটি পৃথিবীর দিকে আসার পথে আগেরটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এর ফলে সৃষ্ট ভূচৌম্বকীয় ঝড় মেরুজ্যোতি দেখার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে পশ্চিমে আইডাহো অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত কিছু অঞ্চলে মেরুজ্যোতি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্য-পশ্চিমের ওপরের অংশের বাসিন্দাদের এ দৃশ্য দেখার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তবে কোন অঙ্গরাজ্যে নিশ্চিতভাবে মেরুজ্যোতি দেখা যাবে, তা বলা যাচ্ছে না। ঝড়ের প্রকৃত শক্তি, আকাশে মেঘের উপস্থিতি এবং শহরের কৃত্রিম আলো এ দৃশ্য দেখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিষ্কার ও কম আলোকদূষণযুক্ত স্থান থেকে আকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
কেন দেখা যায় মেরুজ্যোতি?
সূর্য থেকে আসা বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত কণা পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ও বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করলে আকাশে নানা রঙের আলোর সৃষ্টি হয়। এ প্রাকৃতিক আলোকচ্ছটাকেই মেরুজ্যোতি (Northern lights) বলা হয়।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
সূর্য থেকে করোনাল মাস ইজেকশনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পদার্থ ও চৌম্বকক্ষেত্র পৃথিবীর দিকে আসতে পারে। এগুলো পৃথিবীর চৌম্বক পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করলে ভূচৌম্বকীয় ঝড় তৈরি হয়। ঝড়ের শক্তি বেশি হলে মেরুজ্যোতি সাধারণ সময়ের তুলনায় আরও দক্ষিণের এলাকাতেও দেখা যেতে পারে।
ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের মাত্রা নির্ধারণে জি-১ থেকে জি-৫ পর্যন্ত পাঁচটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। জি-১ হলো দুর্বল মাত্রার ঝড়, আর জি-৫ হলো চরম মাত্রার ঝড়। ঝড়ের মাত্রা যত বাড়ে, মেরুজ্যোতি তত দূরের অঞ্চলেও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন