ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডা বসে এই মাদরাসায়


রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডা বসে এই মাদরাসায়

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দক্ষিণ সোনাতনকাটি গ্রামের সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদরাসা একসময় এলাকার মানুষের স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে এখন এটি পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ভবনে। স্থানীয় সংগঠিতরা অভিযোগ করছেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে সেখানে নিয়মিত কোনো শিক্ষার্থী নেই, নেই পাঠদানও। কিন্তু কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটি সচল রয়েছে।

মাদরাসাটিতে বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৭ জন। প্রতি বছর সরকারি বইয়ের চাহিদা দেওয়া হচ্ছে এবং উপবৃত্তির সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্থানীয়দের ভাষ্যে, দিনের বেলায় শ্রেণিকক্ষগুলো গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং রাতে সেখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয়রা ৩২ শতক জমি দান করেছিলেন, সেটি শিক্ষা কার্যক্রম হারিয়ে ফেলায়, এখন সেই জমি ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জমি দাতারা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

উপজেলার দক্ষিণ সোনাতনকাটি গ্রামে ১৯৯৮ সালে স্থানীয়দের দান করা ৩২ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদরাসা। জমিদাতা রেখা বেগম, আনোয়ারা বেগম এবং আকবর মোড়লসহ অন্যান্যরা জানিয়েছেন, জমি দানের সময় শর্ত ছিল- যদি কোনোদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে জমি দাতা বা তাদের উত্তরাধিকারীদের কাছে জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

জমিদাতা আকবর মোড়লের অভিমত, প্রতিষ্ঠার পরে কিছু বছর মাদরাসাটি স্বাভাবিকভাবে চললেও পরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ধ্বংস হয়ে যায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর থেকে কোনো শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীও নেই। নেই নিয়মিত ক্লাস, নেই কার্যকর শিক্ষা উপকরণ। তবে প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে সচল দেখিয়ে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস মাদরাসাটির উদ্বোধন করেন এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। কিন্তু পরে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সচল দেখিয়ে সরকারি সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে।

এবং অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরেও শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি পাঠ্যবইয়ের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, এই বছর ২২৫ সেট বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির জন্য ১৫ সেট এবং ষষ্ঠ থেকে দাখিল দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির জন্য ১০ সেট বই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মীর নুরে আলম বলেন, এটি একটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান। তাদের আরও বেশি বইয়ের চাহিদা ছিল, তবে কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপবৃত্তির সুবিধাও তারা পেয়ে আসছে। কীভাবে এসব সুবিধা পাচ্ছে, সেটি তদন্তের বিষয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসার শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে রাখা হয়েছে গোখাদ্য। কিছু কক্ষে ছাগল বাঁধা রয়েছে। এমনকি কোথাও কোনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল না। অধিকন্তু, প্রতিষ্ঠানের কার্যকর অফিস কক্ষও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার সহকারী শিক্ষিকা রাশিদা খাতুন বাড়ির উঠানে ধান শুকাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, "আমি এইমাত্র ক্লাস নিয়ে এলাম।" কিন্তু মাদরাসার কোথাও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রভাষক শফিয়ার রহমান বলেন, "এত বড় জালিয়াতি ও অনিয়ম আমি আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। এখানে যা কিছু সরকারি বরাদ্দ আসে, সবই স্বামী-স্ত্রী মিলে আত্মসাৎ করেন বলে এলাকায় ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।"

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

দাতা আকবর মোড়ল বলেন, "আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে জমি দিয়েছিলাম। এখন সেখানে বছরের পর বছর কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাই আমি শর্ত অনুযায়ী জমি ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছি।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একবার ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই বলেন, "পরে কথা বলছি।" এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার বাড়িতে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, "এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান পাইকগাছায় রয়েছে, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা সিআইডির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা সিআইডির

বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে, হরিদাস চন্দ্র তরণী, যিনি তৌহিদ ইসলাম নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ বিষয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র তরণী ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। জনগণের মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তিনি নিজে ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি, পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকল প্রদর্শন করতেন।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্তের বৈধ কোনো আয়ের উৎস নেই। তবে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে মোট ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ব্যক্তি তার হিসাবে অর্থ জমা করেছেন, যা তার পেশা ও পরিচয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধির প্রয়োজনীয় ধারা অনুযায়ী প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক সপ্তাহে ওজন দ্বিগুণ হলেও রোগীর ভাগে কমই মেলে মাংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


এক সপ্তাহে ওজন দ্বিগুণ হলেও রোগীর ভাগে কমই মেলে মাংস

গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের রোগীদের জন্য সরকারি বরাদ্দের মাংসের ওজন এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী ১৯০ গ্রাম বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কমিটি মাংসের ওজন মেলানোর সময় ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংস পেয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যগণ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার শাহাদত হোসেন চটেছেন।

গত ৫ জুলাই গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম হাসপাতালের রান্নাঘরে রোগীদের জন্য বরাদ্দের মাংসের ওজন করেন। ওইদিন মাংসের ওজন মেলানোর সময় এক টুকরো মাংসের ওজন ছিল চল্লিশ গ্রাম, আর পাঁচ টুকরো মাংসের মোট ওজন ছিল ২৫ থেকে ৩৫ গ্রাম। অথচ প্রত্যেক রোগীকে দুপুরের খাবারে ১৯০ গ্রাম মাংস সরবরাহ করার কথা।

সময় সংবাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানাকে সভাপতি করে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম এবং রংপুর বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. মেশকাতুল আবেদকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি সোমবার (১৩ জুলাই) হাসপাতালে সরেজমিন তদন্ত করেন। ওই সময় হাসপাতালের রান্নাঘরে রোগীদের জন্য বরাদ্দের মাংসের ওজন ছিল ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম।

তদন্তকালে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার শাহাদত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, 'হাসপাতালে ডাক্তার নেই, নার্স নেই, সেটা নিয়ে নিউজ না করে হাসপাতালের রান্নাঘরে কেন আসছেন। এতো ছোট ব্যাপারে নিউজ করতে হবে কেন?'

তদন্ত কমিটির সদস্য ও বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের জানান, 'খাদ্য সরবরাহের অনিয়ম নিয়ে তারা তদন্ত করছেন। রোগী, চিকিৎসক, ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে তারা কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেয়ার পর তারা ব্যবস্থা নেবেন।' হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রোগীদের সরবরাহ করা খাবারের ওজন মনিটরিংয়ে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সেখানেও কোনো উত্তর দিতে চাননি।

এদিকে, হাসপাতালের চত্বরে মানববন্ধন করে সচেতন নাগরিকরা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ জানান। তারা রোগীদের বরাদ্দের খাবার সরবরাহে অনিয়ম ও সম্প্রতি হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি; এই সাত উপজেলায় প্রায় ২৬ লাখ মানুষের ভরসা জেলা সদরের এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর জনবল, চিকিৎসক, সেবিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটে ভুগছে। হাসপাতালের পাশে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলেও বাড়ির প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ভবনটি সচল করা যাচ্ছে না। এ কারণে সাধারণ মানুষকে নানা দুর্ভোগের মধ্যে এখানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


ফরিদপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরে গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী লালন মোল্লাকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও এই সময়ে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই আদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমের (৪০) সঙ্গে মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের লালন মোল্লার (৫০) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরে তারা ফরিদপুর শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করে।

বিয়ের পর থেকে লালন মোল্লা তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে না দেয়ায় তিনি শুরু করেন অত্যাচার ও নির্যাতন।

অবশেষে ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে টাকা এনে না দেয়ার কারণে কথা কাটাকাটির সময় লালন মোল্লা লোহার রড দিয়ে সাজেদা বেগমকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এরপর পরদিন নিহত সাজেদা বেগমের বোন মাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ লালন মোল্লাকে গ্রেফতার করে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানি শেষে, সোমবার দুপুরে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানিয়েছেন, এ রায়ে তারা খুশি। তাদের মতে, এ রায়ের ফলে সমাজে যৌতুকের দাবিতে হত্যার ঘটনা হ্রাস পাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে জেলেই যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে জেলেই যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে কিংবা ভারতের মাটিতে যেখানেই তিনি আত্মসমর্পণ করুন, তবুও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে জেলেই যেতে হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য সরকারের নীতিনির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলে না বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গণঅভ্যূত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে তিনি প্রায় দুই বছর ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।

এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে অথবা অন্য যেকোনো স্থান থেকে আত্মসমর্পণ করেন, তবুও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য সরকারের নীতিনির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলে না।

শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু বা অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে সরকার আইনগত ও কূটনৈতিক, উভয় প্রক্রিয়াতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে বলে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%