প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফরিদপুরে গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী লালন মোল্লাকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও এই সময়ে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই আদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমের (৪০) সঙ্গে মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের লালন মোল্লার (৫০) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরে তারা ফরিদপুর শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করে।
বিয়ের পর থেকে লালন মোল্লা তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে না দেয়ায় তিনি শুরু করেন অত্যাচার ও নির্যাতন।
অবশেষে ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে টাকা এনে না দেয়ার কারণে কথা কাটাকাটির সময় লালন মোল্লা লোহার রড দিয়ে সাজেদা বেগমকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এরপর পরদিন নিহত সাজেদা বেগমের বোন মাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ লালন মোল্লাকে গ্রেফতার করে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানি শেষে, সোমবার দুপুরে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানিয়েছেন, এ রায়ে তারা খুশি। তাদের মতে, এ রায়ের ফলে সমাজে যৌতুকের দাবিতে হত্যার ঘটনা হ্রাস পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন