বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:১৮ পি.এম
সৌদি আরবের সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১) মারা গেছেন।
মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টার দিকে। তাদের প্রাইভেটকারটি রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সজীব ও সুজন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের বড় এবং মেজো ছেলে।
সজীব ও সুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাদের বাবা, ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক। তিনি জানিয়েছেন, সজীব ও সুজন জেদ্দায় ব্যবসা করেন। তারা রিয়াদ শহরে ব্যবসায়িক মালামাল ক্রয় করতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাদের গাড়িটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে পতিত হয়। এই দুর্ঘটনার ফলে তাদের গাড়ির সামনের অংশ সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় সজীব ও সুজন মারা যান।
এ ঘটনায় শোকার্ত আব্দুল মালেক বলেন, "আমার দুই ছেলে একসাথে মারা গেছে। সবাই তাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করবেন।" তিনি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, "ঘটনাটি আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার বলদিটারি গ্রামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তার নিজ বসতঘরে আগুন লাগানোর একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময়, যুবকটি দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও শাবল হাতে নিয়ে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। এর ফলে, পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। তার কাছে পৌঁছানোর সাহস কেউ খুঁজে পায়নি। এমনকি, তার স্ত্রী ও মা-বোনকেও ভয়ের কারণে তাকে কাছে যেতে দেখা যায়নি।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বরোর বলদিটারি গ্রামে ঘটে। অভিযুক্ত যুবক শামীম, যিনি মৃত আনোয়ার বিডিআরের প্রথম পুত্র, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথার ভিত্তিতে জানা যায়, শামীম হঠাৎ করে তার বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। আগুন লাগানোর পর, তিনি দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও শাবল হাতে নিয়ে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাকে আটকানোর প্রচেষ্টা করা হলে, আশপাশের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভয় দেখান। এই কারণে, পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং কেউ আগুন নেভানোর জন্য এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি।
খবর পাওয়ার পর নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হতাশাজনকভাবে, ততক্ষনে ঘরের অধিকাংশ আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান জানান, তারা জানতে পেরেছেন যে, মাদকাসক্ত এক যুবক তার বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন লাগার একটি ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টা ৮ মিনিটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের মধুমতি মডেল টাউনের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাভার ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মাইনুল রিয়াদ জানালেন, বেলা ১টা ৮ মিনিটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচাগামী লেনে একটি মাইক্রোবাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়েই সাভার ফায়ার স্টেশনের দুই ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কঠোর চেষ্টা ও কার্যক্রমের ফলস্বরূপ ২টা ১০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িতে শর্ট সার্কিটের ফলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং সরবরাহের ঘাটতির কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারে প্রবলভাবে বেড়েছে সবজির দাম। প্রায় সমস্ত ধরনের সবজির দাম প্রতি কেজি এখন ১০০ টাকারও বেশি হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে কাঁচা মরিচেও হয়েছে ডাবল সেঞ্চুরি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও নিউমার্কেটের কাঁচাবাজারে ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এখানে দেখা গেছে যে, বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। কিছু কিছু সবজির দাম কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে। যেমন, কয়েক দিন আগে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া হাইব্রিড শসার দাম এখন ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি শসার দাম গুনতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
একই চিত্র দেখা গেছে বেগুন এবং করলার ক্ষেত্রেও। ৮০ টাকা কেজির বেগুন ও করলা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। এছাড়া ফুলকপি এবং বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে এবং চিচিঙ্গার মতো সবজি, যা গত সপ্তাহে ৬০-৮০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬০ টাকা।
বাজারে কাঁচা মরিচের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকদিন আগে এক কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় কেনা যেত। বর্তমানে সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভালো মানের কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজির খেত প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে অনেক সবজি পচে যাচ্ছে এবং পরিবহন সংকটের কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এই প্রাকৃতিক সংকটের সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন।
তবে, বাজারে পেঁপে এবং টমেটোর দাম উল্টো চিত্র তুলে ধরেছে। ৩০ টাকা কেজির পেঁপে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৪০ টাকা কেজির টমেটোর দাম কমে এখন ১৫০ টাকায় নেমে এসেছে। এ ছাড়া পেঁয়াজের দাম ৪০ এবং আলুর দাম ২৫ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
হঠাৎ দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল নাহিয়ান খান বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেকাংশে কমে গেছে। আগে যে পরিমাণ ১০০ কেজি সবজি আসত, এখন আসে ৬০ কেজি। অথচ বাজারে চাহিদা একই রকম আছে। ফলে পাইকারিতেও চড়া দামেই আমাদের কিনতে হচ্ছে।
আল নাহিয়ান খান আরও জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। নতুন করে সবজি চাষ হয়ে বাজারে না আসা পর্যন্ত এই চড়া দাম বজায় থাকতে পারে।
এদিকে সবজির দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হুমায়রা হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি হলে সরবরাহ কিছুটা কমবে, সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু সে তুলনায় দাম যে হারে বেড়েছে, তা অস্বাভাবিক। কাঁচা মরিচের দাম তো ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ হয়ে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে একটি বিশাল অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরের সময় উপজেলার ৫ নম্বর পুল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায় যোবায়ের আহমেদের বাড়িতে এই সাপটি দেখা যায়।
বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে তাদের হাঁস ও মুরগির বাচ্চাগুলো নিখোঁজ হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তারা দেখতে পান যে একটি অজগর সাপ বাড়ির দেয়াল বেয়ে পাশের একটি গাছে উঠছে। তখন তারা ধারণা করেন, হারিয়ে যাওয়া হাঁস ও মুরগির বাচ্চাগুলো সম্ভবত সাপটির শিকার হয়েছিল।
এই ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় সেখানে গিয়ে অজগর সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
পরে উদ্ধার করা অজগরটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বন বিভাগ জানিয়েছে, সাপটিকে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ