ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে স্বাস্থ্য পরিচালককে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে অপসারণ দাবি


বরিশালে স্বাস্থ্য পরিচালককে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে অপসারণ দাবি

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীনকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণের ব্যানারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে বিক্ষুব্ধরা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। তবে সে সময় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

পরিচালকের দাবী, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সক্রিয় সদস্য হওয়ায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন বলে জানিয়েছেন ড্যাব বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম সাদ।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হবে। এমনটাই জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান প্রিন্স বলেন, ‘ডাক্তার মনিরুজ্জামান একটানা চার বছর শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের সময় তাদের নিজস্ব দলের সক্রিয় সদস্য না হলে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতো না।

তিনি জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হওয়া শান্তি মিছিলে অংশ নিয়েছেন। এখন তিনি পুনরায় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিষয়টি আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না তাই তার প্রত্যাহার দাবি করছি।

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম সাদ বলেন, ‘ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীন আমাদের সংগঠনের সদস্য হলেও তিনি জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শান্তি সমাবেশ অংশ নিয়েছেন। তাই তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তিনি বলেন জুলাই এর বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, ‘ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এরপর থেকে তিনি আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।

তবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সময় কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তেমনি একটি কর্মসূচির ছবি নিয়ে শুনেছি বিক্ষোভ হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীন জানান, তিনি সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেওয়ার জন্য গিয়েছেন। শুনেছেন তাকে স্বৈরাচার দাবি করে একটি গ্রুপ বিক্ষোভ করছে। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠনের বরিশালে দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপ তাকে সমর্থন করছেন অপর গ্রুপ তার বিরোধিতা করছেন।

গ্রুপিং এর কারণে তার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রজীবন থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। শেবাচিম হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ও উপপরিচালক থাকাকালীন সময়ে বাধ্য হয়েও কিছু প্রোগ্রামে তার উপস্থিত হতে হয়েছে। আর সেই প্রোগ্রামের কিছু ছবি নিয়ে এখন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

প্রসঙ্গত, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে গতকাল সোমবার (৭ জুলাই) দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীন। এর আগে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর পূর্বেতিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টানা চার বছর সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এবং পরবর্তীতে দেড় বছরেরও বেশি সময় উপপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণাঞ্চলে বেহাল ১১ শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক, কোনো টাতে বাস করে সাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১০ এম


দক্ষিণাঞ্চলে বেহাল ১১ শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক, কোনো টাতে বাস করে সাপ

বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক, যা গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান মাধ্যম, মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বরিশাল বিভাগের এক হাজারের বেশি ক্লিনিক বর্তমানে বেহাল দশা বরণ করছে। কোথাও জরাজীর্ণ ভবন রয়েছে এবং কোথাও আবার ঝোপঝাড়ে বিষধর সাপ বাসা বেঁধেছে। এছাড়া এখানে ন্যূনতম তদারকির অভাব ও ওষুধ সংকট প্রতিদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার সরকারি এই উদ্যোগটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে বসেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, বরিশাল বিভাগে মোট কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা ১ হাজার ১১৭টি। তবে এই সংখ্যা থেকে একটি বৃহৎ অংশ বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারি নথিতে এগুলোর অধিকাংশই সচল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরিশাল নগরীর কাশিপুরের ইছাকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিকটি পরিত্যক্ত ভবনের মতো ভেঙে পড়েছে। এর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বৃষ্টি হলে পানির কারণে সমস্যা দেখা দেয় এবং মাসের পর মাস বিদ্যুৎ নেই। সেই সাথে ওষুধের সংকট মোকাবেলা করেই এখানে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে।

ইছাকাঠি এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘সরকারের উদ্দেশ্য ছিল সুবিধা দেয়া, ঘরের কাছে চিকিৎসা পাওয়া। কিন্তু এখানে আসলে ছোটখাটো দুই-একটা বড়ি ছাড়া কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। ভাঙাচোরা ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসতে হয়। সেবা নিতে এসে উল্টো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে একই এলাকার ভুক্তভোগী নারী মোসাম্মৎ রেহানা বেগম বলেন, ‘বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি কাশির ওষুধ আর পরামর্শের জন্য এখানে এসেছিলাম। ডাক্তার (সিএইচসিপি) তো বসেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নেই। বেশির ভাগ ওষুধই আমাদের বাইরে থেকে কিনতে হয়। ক্লিনিক এখন নামেই আছে, কাজে নেই।’

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের করুয়াকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। মাত্র কয়েক মাস আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অফিসে বিষধর সাপ বেরিয়ে আসলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বাথরুম, মেঝেসহ ক্লিনিকের বিভিন্ন স্থানে সাপের বাসার সন্ধান মেলে। সেই সাপের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। করুয়াকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মারজিয়া খানম এ নিয়ে বলেন, ‘এখানে কাজ করা এখন জীবনযাপনের ঝুঁকি নিয়ে। অফিসের মধ্যে কখন কোথা থেকে সাপ বেরিয়ে আসে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। বর্তমানে সেবা দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

বিশ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ঝালকাঠির ৯৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের অধিকাংশই একই সমস্যা বরণ করছে। গ্রামের বনজঙ্গল ঘেরা নিচু জমিতে এই ক্লিনিকগুলো নির্মাণের পর আর কোনো বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি। ফলে সাপের আতঙ্ক এবং ঝোপঝাড়ের মধ্যেই গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা মিলছে।

এদিকে বরগুনা জেলার পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল হয়ে দুপুর হলেও সদর উপজেলার খাজুরতলা কমিউনিটি ক্লিনিক তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, ‘কোনো প্রকার তদারকি না থাকায় সিএইচসিপি সঙ্গীতা ইচ্ছামতো ক্লিনিক খুলে এবং বন্ধ করেন।’ একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী বদরখালী ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকেরও। গত বৃহস্পতিবারও বন্ধ ছিল এই ক্লিনিকটি। এতে করে চিকিৎসাসেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

অনিয়মিত ক্লিনিক খোলার বিষয়ে খাজুরতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সঙ্গীতা জানিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু জরুরি সমস্যা থাকার কারণে মাঝে মাঝে ক্লিনিকে পৌঁছাতে দেরি হয়। তবে নিয়মিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করি। স্থানীয়দের অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়।’

করপক্ষের আশ্বাস নিয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘জেলায় যে সকল কমিউনিটি ক্লিনিক জরাজীর্ণ তাদের মধ্যে কিছু সংস্কার করা হয়েছে বেসরকারি এনজিওগুলোর মাধ্যমে।’ তিনি জানান, দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে। ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির বলেন, ‘ঝালকাঠির বেশ কয়েকটি ক্লিনিকের ভবন জরাজীর্ণ এবং নিচু এলাকায় হওয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। জরাজীর্ণ ক্লিনিকগুলো দ্রুত সংস্কার ও ওষুধ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই বরাদ্দ আসবে।’ বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, ‘অনেক জায়গায় সমস্যা বিদ্যমান। তবে সেবার মান বাড়ানোর জন্য সরকারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবা যাতে কোনোভাবে ভেস্তে না যায়, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে আব্দুল আজিজ নির্যাতন মামলা: লিটু-আবুলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১২ এম


বরিশালে আব্দুল আজিজ নির্যাতন মামলা: লিটু-আবুলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

বরিশালে অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুল আজিজকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামী মোস্তাফিজুর রহমান লিটু এবং আবুল কালাম আজাদকে জেলগেটে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক নুরুন নাজনীন রিমান্ডের আবেদনটি নামঞ্জুর করে জেলগেটে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) উপপরিদর্শক শম্ভুনাথ সেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান দুই আসামীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। কিন্তু আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের জেলগেটে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ জুন নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে আব্দুল আজিজকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় তার স্পর্শকাতর স্থানে চাপ প্রয়োগ করে জোরপূর্বক একাধিক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গত ৪ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ৫ জুলাই আব্দুল আজিজ আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরদিনই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ও যুবদল কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান লিটু এবং শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ বরিশাল মহানগরের দপ্তর সম্পাদক ও জিয়া মঞ্চ বরিশাল সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন চরফ্যাশনের সোহেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২০ এম


কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন চরফ্যাশনের সোহেল

দেশের বন্যাকবলিত অঞ্চলে একসময় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল কলাগাছের ভেলা। সেই পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকল বা খোল ব্যবহার করে কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে সোহেল (২৮)। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুধু ইউটিউবের ভিডিও দেখে তিনি নিজের আগ্রহ, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির প্রযুক্তি আয়ত্ত করেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সোহেল সফলভাবে সুতা উৎপাদন শুরু করেছেন।

তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে এবং সম্ভাবনাময় একটি কুটিরশিল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় যে, তিনি বাড়ির প্রবেশমুখে একটি সুতা তৈরির মেশিন স্থাপন করেছেন। সেখানে প্রতিদিন কলাগাছের বাকল সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে সুতা উৎপাদন করছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় করছেন। সোহেল জানান, সাধারণত কলা সংগ্রহের পর গাছ কেটে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেই পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকল এখন মূল্যবান কাঁচামালে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৬০ কেজি কলাগাছ থেকে এক কেজি সুতা উৎপাদন করা সম্ভব। উৎপাদিত সুতা মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই সুতা দিয়ে ব্যাগ, দড়ি, ম্যাট, হস্তশিল্পসহ পরিবেশবান্ধব নানা পণ্য তৈরি করা যায়। তিনি আরও জানান, সুতা সংগ্রহের পর যে বর্জ্য অবশিষ্ট থাকে, তা ফেলে দেওয়া হয় না। সেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি করা হয়। এছাড়া কলাগাছের বাকল থেকে কাগজ, মশার কয়েল, মাছের খাবার এবং কলাগাছের রস থেকে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত উপাদান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে কলাগাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কাজে লাগানো সম্ভব। সোহেলের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণসুবিধা পেলে তার এই উদ্যোগকে শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব। এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও পরিত্যক্ত কলাগাছ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, চরফ্যাশনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কলাগাছ নষ্ট হয়ে যায়। এসব গাছের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের অতিরিক্ত আয়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কুটিরশিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। সোহেলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী চিন্তা থাকলে কৃষি বর্জ্যও হতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন হাতিয়ার। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নতুন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে। সরকারি সহযোগিতার সুযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থাভাবে মেরামত হয়নি ঝড়ে ভাঙা ঘর, অন্ধ স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২২ এম


অর্থাভাবে মেরামত হয়নি ঝড়ে ভাঙা ঘর, অন্ধ স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাহারা বেগম। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্বামী এবং তিন সন্তানকে নিয়ে দুঃখের দিন কাটাচ্ছেন। উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি জরাজীর্ণ ঘরে তারা বাস করছেন। গত মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে ঘরটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়। অর্থের অভাবের কারণে এখনো সাহারা বেগম ঘরটি মেরামত করতে পারেননি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, সাহারা বেগম সেলাইয়ের কাজ ও অন্যের বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে জীবনযাপন করছেন।

স্বামী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তার কাঁধে এসেছে। ঝড়ে ঘরের চাল উড়ে যায় এবং চারপাশের বেড়া, দরজা ও জানালা ভেঙে পড়ে। পরে কিছু মানুষের সহযোগিতায় চালে অল্প কিছু টিন লাগানো হলেও ঘরটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাহারা বেগম বলেন, অনেক কষ্টের পর কিছু টাকা জোগাড় করে ঘর মেরামতের কাজ শুরু করেছিলেন। পরে স্থানীয় সমাজসেবক আবদুর রহমান সোয়েব বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করে সাহারাকে সহায়তা করেন। তবে বেড়া, টিন, নির্মাণসামগ্রী ও মিস্ত্রির খরচ জোগাতে না পারায় কাজ এক মাস ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলেই তিন সন্তান ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে আতঙ্কে রাত কাটাতে হয়। ঘর কখন ভেঙে পড়ে, সে ভয় সব সময় তাড়া করে। আবদুর রহমান সোয়েব জানান, ঘরটি পুরোপুরি মেরামত করতে প্রায় ২২ হাজার টাকার প্রয়োজন।

তিনি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আহ্বান জানান যাতে তারা পরিবারের পাশে দাঁড়ান। মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এবং শিক্ষক মহিবুল্লাহ ইলিয়াস এবং জাগ্রত মনপুরা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলামও সাহারা বেগমের পরিবারের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জীবনসংগ্রামে লড়াই করা এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের জন্য জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%