বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:০৭ পি.এম
মার্কিন সেনার সদস্যদের জন্য টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
এই পরীক্ষা করতে হবে লড়াইয়ের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ৩০ বছর বয়সি এবং এর চেয়ে বেশি বয়সি সেনাদের। তবে, ৩০ বছরের কম বয়সিরা যদি চান, তাহলে তারা এই পরীক্ষা করাতে পারবেন।
ইরানসহ অন্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত বুধবার (১৫ জুলাই) তিনি এক ঘোষণায় বলেছেন, নতুন পদক্ষেপটির মাধ্যমে আমাদের যোদ্ধাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ভিত্তি বা জৈবিক সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা যাবে।
নতুন নীতির অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষাকে সেনাবাহিনীর নিয়মিত বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এক্স-এ প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় হেগসেথ জানিয়েছেন, সেনা সদস্যদের প্রতিদিন মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় কাজ করতে হয়। নতুন পরীক্ষা নিশ্চিত করবে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা রয়েছে কি না।
এছাড়া, তিনি আরো বলেছেন, যদি কোনো সেনা সদস্যের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার নিচে থাকে, তাহলে তিনি চাইলে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণ করতে পারবেন। তবে কৃত্রিমভাবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ানোর চিকিৎসা গ্রহণে আইনগত কোনো বাধা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
এই সিদ্ধান্ত নারীদের সেনা সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। কারণ নারীদের শরীরে গড়ে পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম টেস্টোস্টেরন থাকে। তবে নারীদের জন্য এ পরীক্ষার আওতায় আনা হবে কি না, সে বিষয়ে হেগসেথ কোনো মন্তব্য করেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লঘুচাপের প্রভাবে আগুনমুখা, দারছিড়া, বুড়াগৌরাঙ্গ ও রাবনাবাদ নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে জোয়ারের সময় চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে এবং কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েক ঘণ্টা পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েন।
এদিকে, সকাল থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলায় কখনো রোদ, কখনো মেঘলা আকাশ, আবার কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে দেখা গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে মাছ ধরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, গোলবুনিয়া ও বিবির হাওলা গ্রাম। জোয়ারের পানিতে বসতবাড়ির আঙিনা, রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার তাদের বাড়ি থেকে বের হতে সমস্যায় পড়েছে। কোথাও কোথাও উঠান ও ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে যায়।
অন্যদিকে, উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জোয়ার-এর পানি প্রবেশ করছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, পরবর্তী জোয়ারেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের পানি অনেক বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। এর ফলে বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষিজমি, পুকুর এবং চলাচলের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুপুর দেড়টার দিকে ভাটা শুরু হলে ধীরে ধীরে পানি নামতে থাকে। বিকেলের দিকে অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নামলেও ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার এবং স্থায়ী, টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকার বাঁধ ভেঙে থাকলেও তা স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলস্বরূপ, জোয়ার এলেই উপকূলের মানুষ বারবার দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে এক কৃষকের ৩৩ শতক জমির ফলন্ত লাউক্ষেত কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, এমনটাই দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে কৃষক আলমগীর হোসেন যখন জমিতে যান, তখন তিনি দেখতে পান, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তার লাউক্ষেতের সব গাছের গোড়া কেটে রেখেছে। কৃষক আলমগীর হোসেন, যিনি গোকুলনগর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলমগীর হোসেন বলেছেন, "সকালে জমিতে এসে দেখি আমার সব লাউগাছের গোড়া কেটে দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "একদিন পরপর ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন আমার সব শেষ করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।" তিনি উল্লেখ করেন, "গত বছরও একই জমির লাউগাছ কেটে দেওয়া হয়েছিল। এবারও একই ঘটনা ঘটল।"
প্রতিবেশী আব্দুল মালেক বলেছেন, "গত বছরও এই জমির লাউক্ষেত কেটে দেওয়া হয়েছিল। এবারও রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ক্ষেতের সব লাউগাছ কেটে দিয়েছে। এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।"
এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেছেন, "লাউক্ষেত কেটে দেওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে মানিক হোসেন (১৯) নামক একজন যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর এবং মামলা দায়েরের পর হত্যার সাথে জড়িত থাকার কারণে নিহতের বড় বোনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতের দিকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফরহাদ হোসেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার বাসিন্দা মানিকের বড় বোন (২৪) এবং প্রতিবেশী চাচা শাহাবুদ্দিন (৪৯)। গ্রেফতারকৃত বোন আদালতে একটি স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অপরদিকে, শাহাবুদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
পুলিশ জানাচ্ছে, গত বুধবার (১৫ জুলাই) মহারাজার দিঘি থেকে ভাসমান অবস্থায় মানিক হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের কাছ থেকে দুটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুট উদ্ধারসহ মরদেহের ঘটনা তদন্তে সদর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিআইডি ফরেনসিক টিম ও পিবিআই যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।
তদন্তের সময় উদ্ধার হওয়া চিরকুটকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশের দাবি, ওই চিরকুটের লেখার সূত্র ধরে নিহতের বাড়িতে বড় বোনের ঘরে তল্লাশি চালানো হয় এবং একই ধরনের হাতের লেখাযুক্ত একটি রুল টানা ক্যালেন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছেন বলে জানা যায়।
পুলিশের ভাষ্য ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই বোন অভিযোগ করেছেন যে, কয়েক মাস আগে তার ভাই তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে এবং তা মোবাইলে ধারণ করে দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেইল করছিল। এ কারণে সামাজিক সম্মান ও পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি সোমবার বিকেলে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং মানিককে দিঘির পাড়ে নিয়ে যান বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পানির সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মানিককে অচেতন করার পর মহারাজার দিঘি এলাকায় নিয়ে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেন। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে চিরকুটে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মরদেহের কোমড়ে রেখে দেয়া হয়। পাশাপাশি, তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মহারাজার দিঘির পানিতে ফেলে দেয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে চিরকুট, একটি রুল টানা ক্যালেন্ডার এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফরহাদ হোসেন সময় সংবাদকে জানান, গ্রেফতার হওয়া নিহতের বোন আদালতে হাজির হওয়ার পর তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন নিহত মানিক। তাই এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেও ব্যাপক নির্ভরযোগ্যতা রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মোট ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন রক্ষণশীল তরুণদের সমর্থন ধরে রাখতে ইসরাইল প্রতি মাসে ১৫ লাখ ডলারের একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা চালাচ্ছে, কিন্তু তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। বরং, তরুণ মার্কিন রক্ষণশীলদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন আরও কমেছে। ফলস্বরূপ, দেশটির কর্মকর্তারা বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন বলে টাইম ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পার্সকেল এই প্রচারণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ করা, মাগা সমর্থকদের লক্ষ্য করে প্রচারণা পরিচালনা করা, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল-সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনার জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। তবে, জনমতের পরিবর্তন ঠেকানো যাচ্ছে না।
টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বৈশ্বিক বিজ্ঞাপন সংস্থা হাভাস ইসরাইলের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা পরিচালনার জন্য পার্সকেলের প্রতিষ্ঠান ক্লক টাওয়ার এক্স-কে নিয়োগ দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি মাসে অন্তত ১০০টি মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করতে হবে, যাতে অন্তত ৮০ শতাংশ জেনারেশন জেডকে উদ্দেশ্য করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও পডকাস্টে প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া, প্রতি মাসে অন্তত ৫ কোটি ডিজিটাল ইমপ্রেশন তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রচারণার অংশ হিসেবে মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর চ্যাপজিপিটি, অ্যানথ্রোপিক-এর ক্লড এবং গুগল-এর জেমিনি-এর মতো এআই প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল ও তার যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্যগুলো কীভাবে উপস্থাপিত হবে, তাতেও প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ইসরাইল পার্সকেলের প্রতিষ্ঠানকে ৯০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে এবং চুক্তির মেয়াদও নবায়ন করা হয়েছে। প্রচারের অংশ হিসেবে অনলাইন বিজ্ঞাপন, মোবাইল ফোনে টেক্সট বার্তা এবং এআই সিস্টেম যে অনলাইন উৎস ব্যবহার করে, সেখানে ইসরাইলপন্থি তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়।
টাইম জানায়, প্রচার অভিযানের সঙ্গে পরিচিত তিন ব্যক্তি বলেছেন, রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যক্তিগত গ্রুপ চ্যাটে নির্দিষ্ট ভাষা বা বার্তা পাঠানো হতো এবং তাদের পোস্টের ভিউ ও সম্পৃক্ততার (এনগেজমেন্ট) ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হতো। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্য একটি প্রচারণায় অংশ নেওয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ২ হাজার ২৫০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
টাইমের প্রতিবেদনে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমরা ব্র্যাড পার্সকেলের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। তার কাজ ছিল পরিস্থিতির উন্নতি করা। আমরা তাকে অনেক অর্থ দিয়েছি। কিন্তু তিনি কী করেছেন? পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।’
পিউ রিসার্চ সেন্টারের এপ্রিলের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরাইলকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৪২ শতাংশ।
এছাড়া ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সি রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন, যা এক বছর আগে ছিল ৫০ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেন যে, অনেক মাগা-ঘনিষ্ঠ ইনফ্লুয়েন্সার একই ধরনের বার্তা দিয়ে যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস না করেই ‘আত্মসমর্পণ’ করার অভিযোগ তুলছেন।
এতে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, ইসরাইলের অর্থায়নে পরিচালিত রক্ষণশীল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা টাইমকে বলেন, বিদেশি অর্থ নিয়ে মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রেসিডেন্টের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এবং এটিকে তুচ্ছ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে ইসরাইলের ডায়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় প্রায় ২০ লাখ ডলারের একটি প্রচারণা চালায়। এর মধ্যে শত শত ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের ওপর ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
টাইমের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ায় দেশটি জনসংযোগ কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭৩ কোটি ডলার করেছে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও তরুণ মার্কিন ভোটার, ডেমোক্র্যাট এবং কমবয়সি রিপাবলিকানদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমার প্রবণতা এখনো থামানো যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ