প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে মানিক হোসেন (১৯) নামক একজন যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর এবং মামলা দায়েরের পর হত্যার সাথে জড়িত থাকার কারণে নিহতের বড় বোনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতের দিকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফরহাদ হোসেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার বাসিন্দা মানিকের বড় বোন (২৪) এবং প্রতিবেশী চাচা শাহাবুদ্দিন (৪৯)। গ্রেফতারকৃত বোন আদালতে একটি স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অপরদিকে, শাহাবুদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
পুলিশ জানাচ্ছে, গত বুধবার (১৫ জুলাই) মহারাজার দিঘি থেকে ভাসমান অবস্থায় মানিক হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের কাছ থেকে দুটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুট উদ্ধারসহ মরদেহের ঘটনা তদন্তে সদর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিআইডি ফরেনসিক টিম ও পিবিআই যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।
তদন্তের সময় উদ্ধার হওয়া চিরকুটকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশের দাবি, ওই চিরকুটের লেখার সূত্র ধরে নিহতের বাড়িতে বড় বোনের ঘরে তল্লাশি চালানো হয় এবং একই ধরনের হাতের লেখাযুক্ত একটি রুল টানা ক্যালেন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছেন বলে জানা যায়।
পুলিশের ভাষ্য ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই বোন অভিযোগ করেছেন যে, কয়েক মাস আগে তার ভাই তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে এবং তা মোবাইলে ধারণ করে দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেইল করছিল। এ কারণে সামাজিক সম্মান ও পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি সোমবার বিকেলে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং মানিককে দিঘির পাড়ে নিয়ে যান বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পানির সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মানিককে অচেতন করার পর মহারাজার দিঘি এলাকায় নিয়ে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেন। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে চিরকুটে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মরদেহের কোমড়ে রেখে দেয়া হয়। পাশাপাশি, তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মহারাজার দিঘির পানিতে ফেলে দেয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে চিরকুট, একটি রুল টানা ক্যালেন্ডার এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফরহাদ হোসেন সময় সংবাদকে জানান, গ্রেফতার হওয়া নিহতের বোন আদালতে হাজির হওয়ার পর তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন নিহত মানিক। তাই এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেও ব্যাপক নির্ভরযোগ্যতা রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মোট ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন