রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৫ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য এবং আলোচনায় ফিরে আসার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পেশ করেছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় এই শর্তগুলো মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে ইরান ‘নির্ণায়ক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই উল্লেখ করেছেন যে, কাতার ইতোমধ্যে ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে, এবং এখন তেহরান ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। যদিও সাতটি শর্তের সবকটি প্রকাশ করা হয়নি, তিনি তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন। এই দাবিগুলো হলো—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশ্বজুড়ে ইরানের জব্দ করা অর্থ মুক্ত করা, এবং তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।
মোহসেন রেজাই আরও জানিয়েছেন, নতুন করে মার্কিন হামলার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক উপায়ে দ্রুত যুদ্ধের অবসান চায় তেহরান। তবে যদি নতুন করে সংঘাত শুরু হয়, তাহলে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরে থাকা মার্কিন নৌসম্পদ এবং এই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
সাক্ষাৎকারে পারমাণবিক নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বের হচ্ছে না এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ সংক্রান্ত ধর্মীয় ফতোয়া মেনে চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে তেহরান এই অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদা প্রায় ৪০ বছর ধরে রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের হাতে রাজনৈতিক প্রচারপত্র তুলে দিচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও এই অভ্যাসটি বজায় রেখেছেন।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চিবা এলাকার মিনামি-ফুনাবাশি স্টেশনে নোদাকে দেখা গেছে। তার সরকারি কর্মসূচির অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেখানে প্রচারপত্র বিতরণের কথা ছিল। এবারের প্রচারপত্র বিতরণের সময় তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। যাত্রীদের হাতে সরাসরি প্রচারপত্র তুলে দিয়েছেন।
এই প্রচারপত্রে দুর্যোগ বীমা, শিশু সহায়তা ও প্রাদেশিক সংস্কারের মতো স্থানীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কিছু যাত্রী নোদাকে চিনে তার কাছ থেকে প্রচারপত্র গ্রহণ করেন। আবার অনেকেই তাকে না চিনেই পাশ দিয়ে চলে যান।
নোদার স্টেশনে দাঁড়িয়ে প্রচারপত্র বিতরণের অভ্যাসটি ১৯৮৬ সালে শুরু হয়। তখন তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেননি। ১৯৮৭ সালে চিবা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালে জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষে নির্বাচিত হন।
নোদা পরে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পরও স্টেশনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এই পদ্ধতি তিনি বন্ধ করেননি।
নোদার সরকারি ওয়েবসাইটে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কর্মসূচিতে বিভিন্ন রেলস্টেশনে সকালে প্রচারপত্র বিতরণের একাধিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র প্রচারপত্র বিতরণ করছেন এবং বক্তব্য দিচ্ছেন না।
জাপানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে প্রচারপত্র বিতরণ ও যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ঘটনা পরিচিত। তবে নোদার ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে তার দীর্ঘ সময় ধরে একই কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে।
প্রধানমন্ত্রীর মতো দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করার পরও প্রায় চার দশক ধরে একইভাবে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে প্রচারপত্র তুলে দেওয়ার এই অভ্যাস তার রাজনৈতিক জীবনের ভিন্ন একটি দিক তুলে ধরেছে।
সূত্র: দ্য গালফ নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি মৌসুমের শুরুটা ভালোই করেছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। তবে পঞ্চম ম্যাচে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন আর্সেনালকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে গানারদের ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাইটন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শুরু থেকেই আর্সেনালকে চেপে ধরে ব্রাইটন। প্রথম কয়েক মিনিট নিজেদের অর্ধ ছেড়ে চ্যাম্পিয়নদের বের হতে দেয়নি তারা।
প্রথম সুযোগ পায় ব্রাইটনই। চারালাম্বস কোস্তোউলাসের শট ঝাঁপিয়ে আঙুলের ছোঁয়ায় কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। গতিময় ফুটবলে গোলের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে ব্রাইটন। ৩১তম মিনিটে দূরপাল্লার গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন পাসকাল গোস।
কোস্তোউলাসের কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে একটু সময় নিয়ে শট নেন তিনি। কাছের পোস্টের ভেতরে লেগে বল জড়ায় জালে। এটি গোসের জন্য সবশেষ পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ গোল।
৪৫তম মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন বুকায়ো সাকা। খুব কাছ থেকে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি তিনি। বল যায় ব্রাইটন গোলরক্ষকের গ্লাভসে। প্রথমার্ধে তিনটি শট নিয়ে এই একটিই কেবল লক্ষ্যে রাখতে পারে আর্সেনাল। সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে সতীর্থদের পা ঘুরে ডি-বক্সের বাইরে বল পান কোস্তোউলাস। বুলেট গতির শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। গোলরক্ষকের জন্য তেমন কিছু করার ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল ভালো শুরু করে। আক্রমণাত্মক ফুটবলে চেপে ধরার চেষ্টা করে ব্রাইটনকে। কিন্তু লিগে আগের চার ম্যাচে ১৩ গোল করা দলটি রক্ষণে গুটিয়ে যায়নি। বরং পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়নি। ৫৭তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন চিমা আন্দ্রেস।
গোসের দারুণ কর্নারে চমৎকার হেডে কাছের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। ৭৮তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর খুব ভালো একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি কাই হাভার্টজ। ডি-বক্স থেকে তার শট পা বাড়িয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন ব্রাইটন গোলরক্ষক।
৮৭তম মিনিটে ম্যাট ও’রাইলির চেষ্টা ঠেকিয়ে ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি রায়া। একজনের শট রাইলির মাথায় লেগে জালের দিকে যাচ্ছিল। দারুণ রিফ্লেক্সে মাঝপথে থামান আর্সেনাল গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর আবার রাইলির চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন রায়া। পরে মালিক ইয়ালকুর শট ব্যর্থ হয় ক্রসবারে লেগে!
এই জয়ে ৫ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আর্সেনাল দুই নম্বরে নেমে গেছে। এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটি সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। তিন পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি তাদের সামনে। ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত তিন নম্বরে অবস্থান করছে ব্রাইটন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উত্তর আন্দামান সাগর ও তার আশেপাশের অঞ্চলে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় ৮টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য একটি পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এছাড়া, এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনরায় ১ নম্বর সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সকালে রাজধানীর আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, সারা দেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এদিকে, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, নেত্রকোনা, কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বরিশাল জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আট দশকেরও বেশি সময় পরেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। যুদ্ধ ও শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকারসহ সমকালীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে এ পরিষদের গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি বিষয়ক পরিচালক রিচার্ড গোয়ান জাতিসংঘের কার্যক্রম, এর সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন সামনে রেখে তিনি ইউএন নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চ হিসেবে সাধারণ পরিষদের গুরুত্ব এবং পরিবর্তনশীল ও বিভক্ত বিশ্বে এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
নিউইয়র্ক থেকে ইউএননিউজ জানায়, ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় সাধারণ পরিষদের ভূমিকা সম্পর্কে গোয়ান বলেন, প্রতিষ্ঠাতারা ধারণা করেছিলেন যে নিরাপত্তা পরিষদই অধিকাংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু হবে।
তবে জাতিসংঘের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিষদের বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে দ্রুত বিভাজন দেখা দেয়। এর ফলে অনেক রাজনৈতিক আলোচনা সাধারণ পরিষদে স্থানান্তরিত হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪০-এর দশক ও ১৯৫০-এর দশকের শুরুর দিকে ফিলিস্তিন প্রশ্ন ও কোরিয়া পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ পরিষদ মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। শীতল যুদ্ধের উত্তেজনায় নিরাপত্তা পরিষদ প্রায়ই অচলাবস্থায় পড়ত।
গোয়ান বলেন, শীতল যুদ্ধের সময় নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অচলাবস্থা দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই সমর্থনের জন্য সাধারণ পরিষদের দ্বারস্থ হতো।
কোরীয় যুদ্ধ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা অসম্ভব হয়ে পড়লে সাধারণ পরিষদই কোরিয়া পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা পরিচালনা করে।
১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট ও হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত আক্রমণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় সাধারণ পরিষদ সুয়েজ সংকটের অবসানে সহায়তার জন্য জাতিসংঘের প্রথম সামরিক শান্তিরক্ষা অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দেয়। শীতল যুদ্ধের সময় সংকট ব্যবস্থাপনায় এটি ছিল সাধারণ পরিষদের অন্যতম বড় অবদান।
১৯৬০-এর দশকে সদ্য স্বাধীন দেশগুলোর জাতিসংঘে যোগদানের ফলে সাধারণ পরিষদের সদস্যসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। গোয়ান বলেন, প্রতিষ্ঠাতারা হয়তো ধারণা করেছিলেন যে সাধারণ পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৮০ বা ৯০টি হতে পারে। কিন্তু নতুন স্বাধীন দেশগুলো সাধারণ পরিষদকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে।
তিনি বলেন, ১৯৬০-এর দশকে সাধারণ পরিষদ দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী অ্যাপারথাইড ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭০-এর দশকে অ্যাপারথাইডপন্থী দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে গোয়ান বলেন, এসব দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাপারথাইড, আফ্রিকায় পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের অব্যাহত উপস্থিতি এবং ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে সাধারণ পরিষদকে ব্যবহার করে। একই সঙ্গে তারা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈষম্য নিয়েও সরব হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে সাধারণ পরিষদ উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য আরও ন্যায়সংগত একটি নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। এর ফলে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকজুড়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈষম্য নিয়ে কঠিন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়।
ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সাধারণ পরিষদ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রধান প্ল্যাটফর্ম ছিল উল্লেখ করে গোয়ান বলেন, অ্যাপারথাইডবিরোধী আন্দোলন বৈশ্বিক রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে অ্যাপারথাইডের পতনে অবদান রাখে।
তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ না থাকলে জাতিসংঘের বিপুলসংখ্যক সদস্যরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পেত না। যদিও বৈশ্বিক দক্ষিণের জন্য আরও ন্যায়সংগত কোনো নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি, তবু সাধারণ পরিষদ বহু দেশকে বিশ্বপরিসরে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে।
শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গে গোয়ান বলেন, ওই সময়ে কূটনীতিকরা তাঁদের আদর্শগত মতপার্থক্য কিছুটা পাশে রেখে জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আরও গঠনমূলক আলোচনা করতে সক্ষম হন। এ সময় যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন পরিবেশ তৈরি হয় এবং জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের মতো নতুন উদ্যোগ গড়ে ওঠে। কমিশনটি ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয়।
২০০৮ ও ২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতিসংঘের অনেক সদস্যরাষ্ট্র মনে করেছিল, সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা থাকা উচিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রধান অর্থনীতি জি-২০-এর মাধ্যমে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়।
তবে গোয়ান বলেন, ওই সময় পরিবেশ ও পৃথিবী রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রতিষ্ঠাতারা যে ধারণা পোষণ করেছিলেন, সাধারণ পরিষদের বর্তমান ভূমিকা তার চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে গোয়ান বলেন, প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেছিলেন, জাতিসংঘের ব্যবস্থা পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী কাঠামো টিকিয়ে রাখবে। কিন্তু বাস্তবে জাতিসংঘ, বিশেষ করে সাধারণ পরিষদ, দেশগুলোকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা, বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলা এবং ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ করে দেয়।
তিনি বলেন, ঔপনিবেশিকতামুক্তির ইতিহাসে সাধারণ পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় উপস্থিত উইনস্টন চার্চিলের মতো কেউ যদি জানতে পারতেন যে সাধারণ পরিষদ এ ধরনের ভূমিকা পালন করবে, তাহলে তিনি বিস্মিত হতেন।
আজকের বিশ্বে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে গোয়ান বলেন, বিশ্বে জি-৭, ব্রিকসসহ অনেক কূটনৈতিক জোট ও ফোরাম থাকলেও বহু ছোট দেশ ও মধ্যম শক্তির দেশের জন্য সাধারণ পরিষদ এখনো প্রধান মঞ্চ। বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য এটিই তাদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে—এমন কথা প্রায়ই শোনা গেলেও প্রতি সেপ্টেম্বরেই সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য রেকর্ডসংখ্যক বিশ্বনেতা সমবেত হন।
গোয়ান বলেন, ‘এটি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বিশ্ব যখন কোনো জরুরি সংকটে প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়, তখন সাধারণ পরিষদেই আসে। এর কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, সাধারণ পরিষদকে অন্য কোনো শহরে স্থানান্তর করা সম্ভব হলেও বিশ্বের বহু নেতার কাছে নিউইয়র্কে এ সংস্থার সদর দপ্তর থাকার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, এখানে তারা বৈশ্বিক গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রস্থলে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ