০১:২১ পি.এম
বরিশালে এক তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরে দোকান ভাঙচুর, হামলা এবং দুই নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে ব্রজমোহন কলেজ (বিএম) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও, দোকান থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার দাবিতে আক্রমণকারী এলাকাবাসী নতুন বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল করেছে। গতকাল সোমবার রাতের দিকে নগরীর নতুন বাজার মরকখোলার পুল এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। আহত দোকানি রেনু বেগম ও মালা আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ফয়সাল হোসেন বলেন, মড়কখোলার পোলের নিচে বিএম কলেজের ছাত্ররা এক নারীর ভাজাপোড়ার দোকান ভাঙচুর করে। এর ফলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার শিকার রেনু বেগম অভিযোগ করেন, কাউনিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় দুপুরে ছাত্রদলের নিজেদের মধ্যে একটা ঝামেলা হয়েছিল। ঝামেলা হওয়া ব্যক্তিরা নাকি তার রেস্তোরাঁয় খাওয়া দাওয়া করে এবং দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনসহ তার অনুসারীরা তার দোকানে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা ২৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে কিছুমাত্র লোক এসে হামলা করেছে। তা ছাড়া, তিনি জানান, তাকে ও তার বোনকে শাড়ি ধরে টেনে হিঁচড়ে মারধর করা হয়েছে। তার দোকানের খাবারও রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি এর সঠিক বিচার চাই।' রেনুর বোন মালা আক্তারের অভিযোগ, নারী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের মারধর ও অন্যান্য যা কিছু করেছে তা বলার মতো নয়। তারা আমাদের ক্যাশ বাক্স থেকে ৬ হাজার টাকা ছিনতাই করেছে। জানা গেছে, বিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারিসহ সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রাতুল, ওয়ালিউল ইসলাম তামিম এবং গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিমুল ফেরদৌস হাসান এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। তারা বলেন, যাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে, তারা আমাদের রেস্তোরাঁয় আসে। এদিকে, এই ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করেছে। তারা নতুন বাজার সড়ক বন্ধ করে হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে। পরে পুলিশ এসে সকলকে বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর সরিয়ে দিলেও স্থানীয়রা হামলাকারী বিএম কলেজ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল করেছে। অভিযোগ সম্পর্কে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, সোমবার দুপুরে বিএম কলেজ ছাত্রদল কর্মী আব্দুল্লাহকে মড়কখোলা পুলের নিচে একদল সন্ত্রাসী বেধড়ক মারধর করেছে। তিনি বলেন, 'ওই ছেলে এখন হাসপাতালে।' সন্ধ্যার দিকে বিএম কলেজের এক শিক্ষার্থী এই বিষয়ে অভিযোগ দিতে থানায় যাচ্ছিল এবং হামলাকারীদের একটি গ্রুপ অভিযোগ দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীর ওপর একই জায়গায় হামলা চালায়। তিনি জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য রয়েছে। তিনি আরো বলেন, 'আমরা কারও ওপর কোনো হামলা করিনি, মিথ্যা খবর রটানো হচ্ছে।' এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেছেন, 'যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কেউ নারীদের ওপর হামলা বা শ্লীলতাহানি করে থাকে, তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, 'দুই পক্ষের কাছ থেকে দুই ধরনের ঘটনা শুনেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন