প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আগের তুলনায় তিস্তার নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। যদিও মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে, কিন্তু বন্যায় আক্রান্ত তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজন গবাদিপশু এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে সরকারি রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। শুকনো খাবার যদিও মিলছে, তবে তারা বিশুদ্ধ পানি পানির সংকটের কথাও জানিয়েছেন। কৃষক গফুর মিয়া (৬৫) বলেছেন, এখনো চরে বানের পানি ফসলি জমিকে তলিয়ে রেখেছে। প্রতি বছর ভারত থেকে আসা ঢল এবং ভারি বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে, যা তীব্র নদী ভাঙনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উজানের ঢল কম থাকায় মঙ্গলবার সকালে ছয়টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে শুরু করার পরেও নদী পাড়ের নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি, কারণ রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘উজানের পানির প্রবাহ কমে আসায় তিস্তার পানিও ধীরে ধীরে নিচে নামছে। ধীরে ধীরে নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দিরাও মুক্তি পাচ্ছে।’
রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়েছিল। রাতভর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এর ফলে নদীর তীরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছিল এবং টানা বৃষ্টির কারণে চরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। সোমবার সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার সমান নেমে আসে এবং সকাল ৯টায় আরও কমে যায়, এরপর মঙ্গলবার সকালে পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যার ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেই ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। পানির উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুণীল কুমার জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুই দফায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার, তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ২২০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন