শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩১ পি.এম
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় প্রায় ২৫০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয় এবং সেখানে অন্য একটি সংগঠনের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড এর ব্যানারে মুখোশধারী ব্যক্তিরা হামলা চালায়। প্রথমে তারা দায়িত্বে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর কেন্দ্রের বিভিন্ন মালামাল লুট ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা কেন্দ্র থেকে নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নিয়ে গেছে। এছাড়া জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রিএজেন্ট, দুটি টেলিভিশন, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। পরে সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ডা. নাসরিন আখতার বলেন, হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ফলে মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দেড় কোটি টাকা।
প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুরের দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রটি ভাঙচুর ও দখলের কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। নিয়মিত টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
ডা. নাসরিন আখতার ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবা চালু করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কেন্দ্রটির জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর সেখানে অন্য একটি সংগঠনের সাইনবোর্ড টাঙানোর ঘটনাকেও তারা জমি দখলের চেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন এবং ঐ সময়ের ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন লাভ করেছে। ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে আল জাজিরার এই প্রযোজনা।
আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের দ্বারা নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই মনোনয়ন পাওয়ার খবরটি জানিয়েছেন। তিনি এই তথ্যচিত্রের নির্মাণের সাথে যুক্ত ছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের মানুষের। বিশেষ করে ওই ৩৬ দিন যারা নিজেদের জীবন দিয়ে পার করেছেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এই সম্মান উৎসর্গ করা হলো।" তিনি আরও বলেন, "একই সঙ্গে যারা ওই সময় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদেরও স্মরণ করছি।"
জুলকারনাইন সায়ের আরও জানান, "অনেক মানুষ ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও সাক্ষ্য তুলে ধরেছেন। তাদের সেই সাহস ও আস্থার কারণেই এই চলচ্চিত্রের গল্প বিশ্বমঞ্চে পৌঁছেছে।"
বাংলাদেশের কোনো গল্পের ইন্টারন্যাশনাল এমিতে পৌঁছানোর ঘটনা বিরল। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর আগে ২০০৪ সালে বাংলাদেশের কিশোরদের নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আমরাও পারি’ বিশেষ ইন্টারন্যাশনাল এমি সম্মাননা পেয়েছিল। এটি নির্মাণ করেছিল বাংলাদেশি কিশোরদের একটি দল এবং প্রামাণ্যচিত্রটি প্রচার করেছিল এটিএন বাংলা।
জুলকারনাইন সায়ের আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই মনোনয়ন বাংলাদেশের আরও অনেক প্রতিভাবান সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতার কাজকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর পথ কিছুটা সহজ করবে।
আগামী ২৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এবারের ইন্টারন্যাশনাল এমি অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন যেই ফলাফলই আসুক না কেন, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাদের এই কাজ সহায়তা করতে পারল কি না সেটিই প্রকৃত বিষয় বলে মনে করেন এই অনুসন্ধানী সাংবাদিক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে এই সফর শেষে তিনি দেশে ফিরছেন।
নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীরা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর, রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সফরকালে, প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
পাঁচ দিনের এই সফরে, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তি সহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।’
এরপর প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে বলেন, সেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।’
মাহদী আমিন বলেন, তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আমরা নতুন পর্যায়ে নিতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দিয়েছেন।
মাহদী আমিন বলেন, এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ডা. জুবাইদার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন বলে তিনি জানান।
চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাতে প্রতিদিনই কেনাকাটার জন্য কোথাও না কোথাও যেতে হয়। তবে, কোনো মার্কেটে যাওয়ার পূর্বে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি জানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে আপনাকে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তারিখে জানুন কোন কোন মার্কেট, শপিংমল এবং এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট
নয়াবাজার, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, আজিমপুর সুপার মার্কেট, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, বাবুবাজার এবং শরিফ ম্যানশন।
বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট
শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, চানখাঁরপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, ধোলাইপাড়, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, স্বামীবাগ, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ এবং শাঁখারী বাজার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ