ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ গ্রহণ


দেশে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ গ্রহণ

বড় ধরনের ভূমিকম্পের ফলে যদি কোনো ফায়ার স্টেশন বা হেডকোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে উদ্ধার কার্যক্রম যাতে থেমে না যায়, সেই উদ্দেশ্যে জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

এই উদ্যোগের আওতায় ঢাকা এবং এর আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছে, পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম মোতায়েন করা হচ্ছে, বিভাগীয় শহরগুলোতে পৃথক রেসকিউ টিম গঠন করা হচ্ছে এবং ঢাকার আশপাশের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে জানান, বড় ধরনের ভূমিকম্পের সময় একাধিক স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ফায়ার সার্ভিসের জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং কমান্ড ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি ১০০ বছরে একটি বড় ভূমিকম্প ঘটে, যা মেজর ভূমিকম্প বা মেগা ডিজাস্টার হিসেবে পরিচিত। দেশে বড় স্কেলের ভূমিকম্পের শতবর্ষ পার হয়ে যাওয়ায় যে কোনো সময় বড় ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঝড়ের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হলেও ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এখনও সেভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি।

এ কারণে ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। ভূমিকম্প হলে কীভাবে আচরণ করতে হবে, সে বিষয়ে আগে থেকেই শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিকেন্দ্রীকরণে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে উদ্ধার ও অন্যান্য কার্যক্রম কমান্ডের ওপর নির্ভরশীল।

যদি ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখতে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুইজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন নিয়ে ঝুঁকি থাকায় ঢাকার মিরপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বহুতল বিশিষ্ট সদর দপ্তর ভবন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি-জাইকার সহযোগিতায় মিরপুর ১০-এ নির্মাণাধীন এই ভবনে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ভেঙে পড়বে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০২৮ সালে এর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তখন ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তরিত হবে।

ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য স্টেশনে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও সরঞ্জাম থাকলেও হেডকোয়ার্টারে বেশিরভাগ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা হতো। ভূমিকম্পে হেডকোয়ার্টার ভবন ধসে গেলে এসব সরঞ্জাম আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঢাকা ও এর আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে এসব সরঞ্জাম বিভাজন করা হয়েছে। ফলে কোনো ফায়ার স্টেশন ভূমিকম্পে আটকে গেলে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

বিশেষ রেসকিউ টিম গঠন

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ফায়ার স্টেশনের জনবল পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। এ কারণে এসআরটি বা স্পেশাল রেসকিউ টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকার পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম রাখা হয়েছে, যা দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন স্টেশন থেকে জনবল এনে প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ২০ সদস্যের একটি করে এসআরটি টিম রাখা হয়েছে। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ ধরনের দুর্যোগে কলাপসড স্ট্রাকচার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে।

ঢাকার সহায়তায় ১০০ ফায়ার স্টেশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে, যাতে মহানগরীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হলে এসব স্টেশন থেকে জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে সহায়তা করা যায়। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সরঞ্জাম ও রেসকিউ টিম স্থানান্তরের বিষয়েও বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ অধিদপ্তরের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানের সময় ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। ভূমিকম্প-সম্পর্কিত দুর্যোগ ও মেগা ডিজাস্টারে কাজ করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে ইকুইপমেন্ট ও সরঞ্জাম সরবরাহ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ পরিচালনা করা হয়েছে। বড় অগ্নিকাণ্ড বা মেগা ভূমিকম্পে ওয়্যারলেস কভারেজ ও মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করা হয়েছে। এতে বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ড টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার মহড়া দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বাসস’কে বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে এবং ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ছোট-বড় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সেগুলোর মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলা উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন। বাংলাদেশেও এ ধরনের দুর্যোগে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিদ্যমান সক্ষমতা নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বাসস’কে জানান, বড় ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলা করা। বিশেষ করে ভবনধস, মানুষের আটকে পড়া, গ্যাসলাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকাজে প্রবেশ করাও উদ্ধারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের অগ্রাধিকার হবে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আটকে পড়া মানুষকে শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্লিপার বাসে নতুন চেসিস ও এয়ার সাসপেনশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


স্লিপার বাসে নতুন চেসিস ও এয়ার সাসপেনশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

সরকার স্লিপার বাসের বডি নির্মাণ ও সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায় স্লিপার বাস তৈরির জন্য সম্পূর্ণ নতুন চেসিস ব্যবহার, পেছনে টেনডেম এক্সেল, সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন এবং এবিএস বা উন্নত প্রযুক্তির ব্রেকিং ব্যবস্থা রাখার শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সম্প্রতি ‘স্লিপার বাস গাইডলাইন/নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে একটি খসড়া প্রস্তুত করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠিয়েছে। তবে, এই নীতিমালাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ৮০০টির বেশি স্লিপার বাস চলাচল করছে। এসব বাসের কাঠামো নির্মাণ, বার্থের নকশা, স্থিতিশীলতা, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, চালক ছাড়া কমপক্ষে ১৩ জন যাত্রী বহনের উপযোগী এবং যাত্রীরা শুয়ে বা আরাম করে ভ্রমণ করতে পারেন এমন বাসকে স্লিপার বাস হিসেবে গণ্য করা হবে।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ (কমপ্লিটলি বিল্ট-আপ) অবস্থায় কোনো স্লিপার বাস আমদানি করা হয়নি। এ ধরনের বাসের বডি তৈরির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও নেই। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের অনলাইন গাইডলাইন পর্যালোচনা করে জরুরি প্রয়োজন ও বিশেষ বিবেচনায় নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বিআরটিএ। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়াই স্লিপার বাস নির্মাণ করে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

খসড়ায় স্লিপার বাস নির্মাণে ব্যবহৃত চেসিস অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরোনো বা ব্যবহৃত চেসিস দিয়ে এ ধরনের বাস তৈরি করা যাবে না। বাসের পেছনে টেনডেম এক্সেল এবং সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন অথবা উন্নত প্রযুক্তির সাসপেনশন রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্রেকিং ব্যবস্থায় এবিএস (অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম) বা সমমানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে।

বাসের স্থিতিশীলতা পরীক্ষার সময় প্রতিটি বার্থে ৭৫ কেজি ওজন প্রয়োগ করতে হবে। যাত্রী ও মালামালসহ বাসের সর্বোচ্চ ওজন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২১ টন। আর বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা হতে পারবে ৪ দশমিক ২৫ মিটার।

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি বার্থের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১ হাজার ৮০০ মিলিমিটার হতে হবে। এক সারিতে তিনটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ কমপক্ষে ৬০০ মিলিমিটার এবং দুটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ ৬৫০ থেকে ৭৫০ মিলিমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।

প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। উপরের বার্থে ওঠানামার জন্য হাতলসহ সিঁড়ি রাখতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার জন্য কলিং লাইট ও কলবেল, রিডিং লাইট, হেডরেস্ট, আর্মরেস্ট এবং খাবারের ট্রে রাখার জন্য ভাঁজযোগ্য টেবিল রাখার শর্তও রয়েছে।

স্লিপার বাসে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং কমপক্ষে তিনটি স্মোক ডিটেক্টর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি নির্গমন দরজা, নিচের ও ওপরের ডেকে জরুরি জানালা এবং জরুরি প্রয়োজনে কাচ ভাঙার জন্য সেফটি হ্যামার রাখতে হবে।

এ ছাড়া সার্ভিস দরজার এয়ারলক খোলার জন্য ম্যানুয়াল ভালভ রাখার শর্ত রয়েছে। বার্থের প্যাডে অগ্নিপ্রতিরোধক ফোম ব্যবহার করতে হবে। আসনের কভার, পর্দা, প্লাইউড ও ফ্লোরিংসহ বাসের অভ্যন্তরীণ উপকরণেও নির্ধারিত দাহ্যতা মান বজায় রাখতে হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে স্লিপার বাস নির্মাণ ও চলাচলের ক্ষেত্রে এসব শর্ত কার্যকর করার কাঠামো তৈরি হবে। তবে খসড়ার বিধানগুলো চূড়ান্ত নীতিমালায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ দিনের ছুটি, কোথাও টানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ দিনের ছুটি, কোথাও টানা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসার ছুটির তালিকা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভেদে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা ১০ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছুটির সময় নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর।

২০২৬ সালের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার এবং পরে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে। ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকলে শিক্ষার্থীরা ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনের বিরতির সুযোগ পাবেন।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তে ছুটির সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত চূড়ান্ত সময়সূচির জন্য। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই ছুটির আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি এবং পরে ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের শুক্র ও শনিবারের ছুটি যুক্ত হবে। ফলে কলেজের শিক্ষার্থীরা ১৬ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১৬ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ পাবেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও এবার দীর্ঘ হচ্ছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর ছুটি নির্ধারিত রয়েছে।

এছাড়া ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ী মাদরাসায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সাপ্তাহিক ছুটি ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের কারণে ছুটির মোট সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্গাপূজার ছুটির সময়সূচি একরকম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে ছুটি দিতে পারে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে। একইভাবে ক্লাস, পরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলের সময়সূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্গাপূজার ছুটির সঠিক সময় জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করতে হবে।

সব মিলিয়ে, এবারের দুর্গাপূজায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ১০ দিন এবং কলেজে ১৬ দিন পর্যন্ত ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে চূড়ান্ত ছুটির সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত

বিমানবন্দর থানার মামলায় জামায়াত নেতা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে তোলা হলে পুলিশ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে শুনানির সময় আখতারুজ্জামান নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশ ছিল, সবাই লুটেপুটে খাচ্ছে। প্রসিকিউশন প্রমাণ করুক, আমার অপরাধ প্রমাণ করুক, আমি ফাঁসিতে যাব।"

মামলাটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে তিনি আরও বলেন, "এটা ষড়যন্ত্র, মামলা থানায় রুজুর আগেই ডিবি পুলিশ আমার বাসায় হাজির।"

এর আগে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন আখতারুজ্জামান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সোয়া ৭টার দিকে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "ডিবি আখতারুজ্জামানকে থানায় দিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলার তদন্তসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম বিমানবন্দর থানা পুলিশ পরিচালনা করবে।

এর আগে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং মারধরের অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

একই দিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাপক যাত্রীচাপের কারণে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট BG-338-এর লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের হুমকি দেন। একই ঘটনায় তিনি বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন আখতারুজ্জামান।

এসব ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান এর আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিনি একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর সালাউদ্দিনের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর সালাউদ্দিনের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এশিয়ান গেমসে ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে জাপানে গিয়েছিল। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে এবং ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয়ে পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে লিটন দাসের দলকে। দলের এমন ব্যর্থতায় প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

শনিবার নিশিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে টাইগারদের ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।

ম্যাচ শেষে সালাউদ্দিন নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন, দলের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে পারেননি তারা।

সালাউদ্দিন বলেন, "সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।"

এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ কোচ ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের ম্যাচেও শ্রীলঙ্কার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে ভালো শুরু করেছিল। মাত্র ২১ রানে প্রতিপক্ষের চার উইকেট তুলে নেয় দল। তবে থারিন্দু রাত্নায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত তারা ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাউদ্দিন বোলিংয়ের কিছু খারাপ ওভার এবং পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয়কে দায়ী করেন। তিনি বলেন, "এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারা বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে বেশি উইকেট হারিয়েছি।"

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংও আলোচনায় এসেছে। তিন ওভারে ৪৩ রান দিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। আগের ম্যাচেও তিনি নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। তবে সালাউদ্দিন মোস্তাফিজের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, "আসলে মোস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।"

অধিনায়ক লিটন দাসের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক ছিল। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ মিলিয়ে তিনি মাত্র ২ রান করেছেন। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফিরে যান লিটন।

অধিনায়কসহ দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, "আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।"

শ্রীলঙ্কার রান তাড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ শুরুতেই ধসে পড়ে। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও লিটন দাস তিনজনই রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান। মাত্র ৪ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রধান কোচ খেলোয়াড়দের চেষ্টার ঘাটতি দেখছেন না। তার মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারা এবং দ্রুত উইকেট হারানোই পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

সালাউদ্দিন বলেন, "প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।"

এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এমন বিদায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের একাধিক নিয়মিত ক্রিকেটারদের প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় দলের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%