প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকার স্লিপার বাসের বডি নির্মাণ ও সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায় স্লিপার বাস তৈরির জন্য সম্পূর্ণ নতুন চেসিস ব্যবহার, পেছনে টেনডেম এক্সেল, সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন এবং এবিএস বা উন্নত প্রযুক্তির ব্রেকিং ব্যবস্থা রাখার শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সম্প্রতি ‘স্লিপার বাস গাইডলাইন/নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে একটি খসড়া প্রস্তুত করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠিয়েছে। তবে, এই নীতিমালাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ৮০০টির বেশি স্লিপার বাস চলাচল করছে। এসব বাসের কাঠামো নির্মাণ, বার্থের নকশা, স্থিতিশীলতা, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, চালক ছাড়া কমপক্ষে ১৩ জন যাত্রী বহনের উপযোগী এবং যাত্রীরা শুয়ে বা আরাম করে ভ্রমণ করতে পারেন এমন বাসকে স্লিপার বাস হিসেবে গণ্য করা হবে।
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ (কমপ্লিটলি বিল্ট-আপ) অবস্থায় কোনো স্লিপার বাস আমদানি করা হয়নি। এ ধরনের বাসের বডি তৈরির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও নেই। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের অনলাইন গাইডলাইন পর্যালোচনা করে জরুরি প্রয়োজন ও বিশেষ বিবেচনায় নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বিআরটিএ। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়াই স্লিপার বাস নির্মাণ করে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
খসড়ায় স্লিপার বাস নির্মাণে ব্যবহৃত চেসিস অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরোনো বা ব্যবহৃত চেসিস দিয়ে এ ধরনের বাস তৈরি করা যাবে না। বাসের পেছনে টেনডেম এক্সেল এবং সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন অথবা উন্নত প্রযুক্তির সাসপেনশন রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্রেকিং ব্যবস্থায় এবিএস (অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম) বা সমমানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
বাসের স্থিতিশীলতা পরীক্ষার সময় প্রতিটি বার্থে ৭৫ কেজি ওজন প্রয়োগ করতে হবে। যাত্রী ও মালামালসহ বাসের সর্বোচ্চ ওজন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২১ টন। আর বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা হতে পারবে ৪ দশমিক ২৫ মিটার।
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি বার্থের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১ হাজার ৮০০ মিলিমিটার হতে হবে। এক সারিতে তিনটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ কমপক্ষে ৬০০ মিলিমিটার এবং দুটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ ৬৫০ থেকে ৭৫০ মিলিমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।
প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। উপরের বার্থে ওঠানামার জন্য হাতলসহ সিঁড়ি রাখতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার জন্য কলিং লাইট ও কলবেল, রিডিং লাইট, হেডরেস্ট, আর্মরেস্ট এবং খাবারের ট্রে রাখার জন্য ভাঁজযোগ্য টেবিল রাখার শর্তও রয়েছে।
স্লিপার বাসে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং কমপক্ষে তিনটি স্মোক ডিটেক্টর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি নির্গমন দরজা, নিচের ও ওপরের ডেকে জরুরি জানালা এবং জরুরি প্রয়োজনে কাচ ভাঙার জন্য সেফটি হ্যামার রাখতে হবে।
এ ছাড়া সার্ভিস দরজার এয়ারলক খোলার জন্য ম্যানুয়াল ভালভ রাখার শর্ত রয়েছে। বার্থের প্যাডে অগ্নিপ্রতিরোধক ফোম ব্যবহার করতে হবে। আসনের কভার, পর্দা, প্লাইউড ও ফ্লোরিংসহ বাসের অভ্যন্তরীণ উপকরণেও নির্ধারিত দাহ্যতা মান বজায় রাখতে হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে স্লিপার বাস নির্মাণ ও চলাচলের ক্ষেত্রে এসব শর্ত কার্যকর করার কাঠামো তৈরি হবে। তবে খসড়ার বিধানগুলো চূড়ান্ত নীতিমালায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন