প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন, যিনি নিঝুম নামেও পরিচিত (৩৭), কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ বস্তাবন্দী করে ধানখেতে ফেলে দেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন নাজিম উদ্দিন নামে এক আসামি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নাজিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নাজিমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে বিরোধের জেরে সহযোগী মো. স্বপনের সঙ্গে মিলে ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে যখন নাজিম একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চির কাজ করছিলেন। পরে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেখান থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। সম্প্রতি ওই টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে তিনজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গত ৭ আগস্ট বিকেলে ওয়াহেদকে বগুড়ার মালগ্রাম এলাকার ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেন নাজিম ও স্বপন। সন্ধ্যার দিকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাতে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কার্যালয়ের অদূরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে দেওয়া হয়।
মরদেহ ফেলে দেওয়ার পর ওই রাতেই তারা কার্যালয়ে অবস্থান করেন। পরদিন সকালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে দুজনই নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন নাজিম। ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
নিহত ওয়াহেদ হোসেন শহরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে যৌথভাবে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। গত ৭ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মালগ্রামের একটি ধানখেত থেকে অর্ধগলিত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রথমে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে পোশাক ও অন্যান্য আলামত দেখে স্বজনেরা মরদেহটি ওয়াহেদের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন