বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৭ পি.এম
মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন বাংলাদেশি তাহমিদ চৌধুরী। এই পুরস্কার সংগঠন, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট, তরুণ নেতৃত্ব ও জনসেবায় সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।
মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তরুণদের নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা, তৃণমূল সংগঠন, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে থাকে। প্রতিবছর এই পুরস্কার সাধারণত মিশিগানের বিভিন্ন কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে সক্রিয় তরুণ নেতাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় মানুষকে সম্পৃক্ত করা, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করা, তরুণদের নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাদের এই স্বীকৃতির জন্য বিবেচনা করা হয়। চলতি বছর তাহমিদ চৌধুরীসহ ১৩ জন এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট’ অনুষ্ঠানে তাহমিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মিশিগানের লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেক্রেটারি অব স্টেট মনোনীত প্রার্থী গারলিন গিলক্রিস্ট এবং ওয়াশটেনো কাউন্টি প্রসিকিউটর ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনীত প্রার্থী এলি সাভিত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ার কার্টিস হার্টেল, মার্কিন কংগ্রেসওম্যান হিলারি স্কলটেন এবং মিশিগান সিনেটের মেজরিটি লিডার ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোনীত প্রার্থী উইনি ব্রিংকস।
সিলেটের ছেলে তাহমিদ প্রায় এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ম্যাকম্ব কাউন্টি এবং মিশিগানের ১০ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টজুড়ে বিভিন্ন নাগরিক ও কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। তাহমিদের কাজের অন্যতম লক্ষ্য হল কমিউনিটি আউটরিচ, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে তাদের কমিউনিটিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
পুরস্কার গ্রহণের পর তাহমিদ বলেন, "মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি সত্যিই সম্মানিত। এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়। যেসব মেন্টর, সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটি লিডার, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে শেখার, সেবা করার এবং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, এই অর্জন তাদেরও। আমার এই পথচলার অংশ হওয়া প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।"
অনুষ্ঠানে তাহমিদকে সমর্থন জানাতে মিশিগানের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের (বাম) প্রেসিডেন্ট জাবেদ চৌধুরী এবং উপদেষ্টা সুমন কবির উল্লেখযোগ্য।
তাহমিদ বলেন, "এই স্বীকৃতি কমিউনিটি এনগেজমেন্ট, জনসেবা এবং আগামী প্রজন্মের তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমার কাজ আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমার লক্ষ্য সবসময়ই খুব সহজ মানুষের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা, কঠোর পরিশ্রম করা এবং কমিউনিটির সেবা করা। সামনে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে, এবং মিশিগানজুড়ে যেসব অসাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তাদের সঙ্গে সেই কাজ চালিয়ে যেতে আমি উচ্ছ্বসিত।"
এই সম্মাননার জন্য তাহমিদ মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও মিশিগান ১০তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট’ অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও অভিনন্দন জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গ্রামীণ সড়কের সদ্য সম্পন্ন কার্পেটিং নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার পরের দিনেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচের আস্তরণ উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পা দিয়ে চাপ দিলে কার্পেটিং আলগা হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকির অভাবের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি নির্মাণকাজ চলাকালে নিয়মিত তদারকি করতেন, তাহলে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা অনুপযুক্ত পরিবেশে কার্পেটিং করার সুযোগ থাকত না।
উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা খানবাড়ী তিন রাস্তার মোড় থেকে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৩৯৮ মিটার সড়কের প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্প্রতি শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ। তবে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে আসার অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
ধলা খানবাড়ী তিন রাস্তার মোড় এলাকায় সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচ ও কার্পেটিংয়ের স্তর উঠে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ চলাকালীন সময়ে বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ চালিয়ে যায়।
এ সময় স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে প্রচারিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকন আল ইবনে মাহাদী ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণকাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও তদারকি ছিল না। তাদের দাবি, কাজের প্রতিটি ধাপে উপকরণের মান, স্তরের পুরুত্ব, মিশ্রণের অনুপাত এবং কার্পেটিংয়ের উপযুক্ততা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রকৌশলীদের নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্মাণের সময়েই কাজের ত্রুটি শনাক্ত করে সংশোধনের সুযোগ ছিল। এখন কাজ শেষ হওয়ার পর কার্পেটিং উঠে আসায় পুরো প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি লেভেল করার পর প্রয়োজনীয় ইটখোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের সঙ্গে কার্পেটিংয়ের যথাযথ বন্ধন তৈরি হয়নি। এ কারণে সামান্য চাপেই পিচ উঠে আসছে বলে তাদের দাবি।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট যানবাহন চলাচল করলেই চাপ পড়ছে। ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে সড়কটি আরও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আতাহারুল ইসলাম বলেন, "পা দিয়ে চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। নতুন সড়কে কোনোভাবেই এমন হওয়ার কথা নয়। নির্মাণকাজের সময় আমরা প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজে আসেনি।"
স্থানীয় বাসিন্দা মো. এখলাস আলী বলেন, "সড়কে প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, ট্রাক চলাচল শুরু হলে সড়কে কিছুই থাকবে না।"
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সড়ক যদি নির্মাণের পরপরই নষ্ট হতে শুরু করে, তাহলে কিছুদিন পর আবার সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। এতে জনগণের দুর্ভোগের পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। কার্পেটিং উঠে গেলে আমার কি করার আছে। কিছু বুঝার বাকি থাকলে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।"
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. যুবায়েত হোসেন বলেন, "সড়কের অনিয়মের বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে অবগত আছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) কর্মকর্তাদের কঠোর আর্থিক নীতির ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে একটি বড় পতন ঘটেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম একলাফে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার মূল্য ০ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৬ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, আগামী ডিসেম্বরের ডেলিভারির জন্য মার্কিন ফিউচার মার্কেটেও সোনার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫৪ ডলারে নেমে এসেছে।
আর্থিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান ওলে হ্যানসেন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফেড কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুদের হার, বন্ডের আয় এবং তেলের দামের অস্থিরতা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
গত সপ্তাহে ফেড সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত করেছে। চলতি বছরের শেষের আগেই সংস্থাটি সুদের হার আরও একবার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার হাতিয়ার হিসেবে সুদের হার বৃদ্ধি করা হয়, তবে এর ফলে অন্যান্য মুনাফাদায়ক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, যা সোনার প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
বিশ্ববাজারে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ কমেছে। রুপার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া, প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৯৪ দশমিক ২৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৫ দশমিক ১৯৬৫ ডলারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসতে হলে শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, মানুষের বিবেক ও মন-মানসিকতার পরিবর্তন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিএমএ ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০২৬’ প্রণয়ন বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, চিকিৎসক ও রোগী উভয় পক্ষের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। একইসাথে, চিকিৎসকের নামে চিকিৎসা প্রদানকারী অযোগ্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের কিছু ভুল বা কর্তব্যে অবহেলার জন্য যেমন জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন, তেমনি চিকিৎসক নয় অথচ চিকিৎসকের নামে চিকিৎসা প্রদানকারী ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
ড্যাবের এই প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অনেকেই অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করছেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে অজ্ঞাত। ফলে, ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি আইনগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ডা. ডোনার। তিনি আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্যসেবায় রেফারেল ব্যবস্থা চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা না থাকার কারণে একজন চিকিৎসককে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হচ্ছে। অনেক চিকিৎসক প্রতিদিন ১০০ জন রোগী দেখছেন, যা রোগীকে যথাযথ সময় এবং কাউন্সেলিং প্রদান করা কঠিন করে তোলে।
ডা. ডোনার বলেন, যদি কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হয় কিংবা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, তাহলে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও তার স্বজনদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। এ জন্য হাসপাতালে কাউন্সেলর নিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
ড্যাবের এই প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একজন রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ এবং তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রোগী বা স্বজন যদি কোনো প্রশ্ন করেন, তাহলে তার উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিদেশে রোগী ওষুধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রয়োজন।
ডা. ডোনার বলেন, রেফারেল ব্যবস্থা চালু হলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমবে।
সমাজের পরিবর্তিত মূল্যবোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে সমাজে কেউ অন্যায় করলে আশপাশের মানুষ প্রতিবাদ করতেন। এখন অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়া হচ্ছে। রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আচরণেও এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই পরিবর্তন শুধু চিকিৎসকদের মধ্যে নয়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুদি দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১৭-১৮ বছরে এ ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এবং তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ডা. ডোনার বলেন, ‘আইন করে লাভ নাই’ যদি মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত না হয়, তাহলে কোনো আইনই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না। আইন সম্পর্কে মানুষ জানলেও অন্তর থেকে দায়িত্ববোধ ও বিবেকের পরিবর্তন না হলে অন্যায় বন্ধ করা কঠিন।
করোনা ভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যখন করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় চিকিৎসকরা প্রশংসিতও হয়েছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের সম্মান ও আস্থা ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি চিকিৎসকদেরও নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এমপি, ডা. ইকরামুল বারী টিপু এমপি, ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এমপি, অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এমপি, ডা. মাহমুদা মিতু এমপি ও ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা এমপি বক্তব্য রাখেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারত বাংলাদেশে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আগ্রহী। একইসঙ্গে, বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্যও দেশটি প্রস্তুত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠক হবে কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
জয়সওয়াল বলেন, "বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনও বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে এখনও কোনো তথ্য নেই। তবে, এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত হলে আপনাদের তা জানাবো।"
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর গত রোববার নিউইয়র্কে পৌঁছান। অধিবেশন চলাকালীন ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন তিনি।
এদিকে, পাঁচদিনের সফরে সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে পা রাখার পর থেকেই তিনি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সাইডলাইনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
ভারতের গণমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করা হয়, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হতে যাওয়া পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের পদায়ন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘পুনরায় স্বাভাবিক ধারায় ফেরার’ ইঙ্গিত কি না।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, "দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আমরা আগেও বলেছি, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। আমাদের বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভেতরে থেকেই আমরা সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমরা এই সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক উপায়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই।"
ভারতে আয়োজিত আসন্ন বহুপাক্ষিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’তে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণ ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল আবারও বলেন, "আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চাই।"
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত যোধপুর বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজিত এই যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়া সাতটি বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যতম বাংলাদেশ।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্জীবিত করতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তবে, ভারতের চেষ্টার পরও দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি তারেক রহমান। এখন নয়াদিল্লির চাওয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফর করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ