প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসতে হলে শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, মানুষের বিবেক ও মন-মানসিকতার পরিবর্তন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিএমএ ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০২৬’ প্রণয়ন বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, চিকিৎসক ও রোগী উভয় পক্ষের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। একইসাথে, চিকিৎসকের নামে চিকিৎসা প্রদানকারী অযোগ্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের কিছু ভুল বা কর্তব্যে অবহেলার জন্য যেমন জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন, তেমনি চিকিৎসক নয় অথচ চিকিৎসকের নামে চিকিৎসা প্রদানকারী ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
ড্যাবের এই প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অনেকেই অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করছেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে অজ্ঞাত। ফলে, ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি আইনগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ডা. ডোনার। তিনি আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্যসেবায় রেফারেল ব্যবস্থা চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা না থাকার কারণে একজন চিকিৎসককে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হচ্ছে। অনেক চিকিৎসক প্রতিদিন ১০০ জন রোগী দেখছেন, যা রোগীকে যথাযথ সময় এবং কাউন্সেলিং প্রদান করা কঠিন করে তোলে।
ডা. ডোনার বলেন, যদি কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হয় কিংবা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, তাহলে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও তার স্বজনদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। এ জন্য হাসপাতালে কাউন্সেলর নিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
ড্যাবের এই প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একজন রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ এবং তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রোগী বা স্বজন যদি কোনো প্রশ্ন করেন, তাহলে তার উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিদেশে রোগী ওষুধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রয়োজন।
ডা. ডোনার বলেন, রেফারেল ব্যবস্থা চালু হলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমবে।
সমাজের পরিবর্তিত মূল্যবোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে সমাজে কেউ অন্যায় করলে আশপাশের মানুষ প্রতিবাদ করতেন। এখন অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়া হচ্ছে। রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আচরণেও এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই পরিবর্তন শুধু চিকিৎসকদের মধ্যে নয়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুদি দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১৭-১৮ বছরে এ ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এবং তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ডা. ডোনার বলেন, ‘আইন করে লাভ নাই’ যদি মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত না হয়, তাহলে কোনো আইনই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না। আইন সম্পর্কে মানুষ জানলেও অন্তর থেকে দায়িত্ববোধ ও বিবেকের পরিবর্তন না হলে অন্যায় বন্ধ করা কঠিন।
করোনা ভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যখন করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় চিকিৎসকরা প্রশংসিতও হয়েছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের সম্মান ও আস্থা ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি চিকিৎসকদেরও নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এমপি, ডা. ইকরামুল বারী টিপু এমপি, ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এমপি, অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এমপি, ডা. মাহমুদা মিতু এমপি ও ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা এমপি বক্তব্য রাখেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন