বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৮ পি.এম
ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি রেকর্ড উদযাপন করে মাত্র পাঁচ দিন আগে ছিলেন অভিষেক শর্মা। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাঁচ দিন পর, জাপানের বিপক্ষে একটি ভিন্ন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে নতুন একটি টি-টোয়েন্টি রেকর্ড গড়লেন।
মঙ্গলবার সানোতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মেরে আউট হন এই ভারতীয় ওপেনার। মাত্র একটি বল মোকাবিলা করে চার্লি হারা হিঞ্জের বলে টপ এজ হয়ে শোমা সুগায়া স্লেটারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি ছিল তার দশম শূন্য। কোনো একক পঞ্জিকাবর্ষে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আফগানিস্তানের রশিদ খানকে পেছনে ফেলে তিনি এই তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছেন, যিনি ২০১৯ সালে নয় বার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। পাকিস্তানের শাদাব খানও ২০২৪ সালে নয়টি শূন্যের রেকর্ড গড়েছিলেন।
এই বৈসাদৃশ্য সত্যিই বিস্ময়কর। এর পাঁচ দিন আগে, নয়াদিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন অভিষেক। মাত্র ৩০ বলে পূর্ণ করেছিলেন নিজের সেঞ্চুরি।
এটি ছিল কোনো ভারতীয় ব্যাটারের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। রোহিত শর্মার আগের রেকর্ড ৩৫ বল ভেঙে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে এটি ছিল তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।
মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে ৩০ বলে রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি থেকে প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হয়ে, অভিষেকের জন্য এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। ২৬ বছর বয়সী এই তারকা নিশ্চয়ই এমন একটি রেকর্ড চাননি।
তার আউট হওয়ার ঘটনাটি যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ভারতের জন্য দিনটি হতে যাচ্ছে বিস্ময়করভাবে কঠিন। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পাঁচ ওভারে নামিয়ে আনা হয়।
পাঁচ ওভারে ভারত মাত্র ৩০ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং হারায় চার উইকেট। এরপর ঐতিহাসিক এক অঘটনের কাছাকাছি পৌঁছে যায় জাপান। তারা তিন উইকেট হারিয়ে ৩০ রানে থেমে যায় এবং মাত্র দুই রানের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। শেষ ওভারে একটি ওয়াইড বল নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
অভিষেকের জন্য ২০২৬ সাল নিঃসন্দেহে চরম উত্থান-পতনের একটি বছর হয়ে থাকলো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গালে ও থুতনিতে কালচে ছোপ পড়া মূলত লিভারের সমস্যা অথবা হরমোনের ভারসাম্যের অভাবের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তবে এটি সরাসরি কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। কারণ, লিভারের অসুখের কিছু লক্ষণ মুখের ওপরও ফুটে ওঠে। ব্রণও হতে পারে। সেগুলো সাধারণভাবে এড়িয়ে গেলে বিপদ ঘটতে পারে।
লিভারের রোগের লক্ষণ সাধারণত আগে থেকে বোঝা যায় না। অনেকেই মনে করেন, লিভারের অসুখ মানে জন্ডিস বা পেট ভার কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেবে। ঘন ঘন অম্বলও ভোগাবে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে।
লিভারের রোগের এমন কিছু উপসর্গ রয়েছে, যা মুখে ফুটে ওঠে। সেসব লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, লিভার মোটেও ভালো নেই। যদি লিভারে মেদ জমে ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে, তাহলেও এর উপসর্গ ত্বক, চোখ ও মুখে দেখা দিতে থাকে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, লিভারের রোগের যে লক্ষণ মুখে ফুটে ওঠে—
চোখ ও ত্বক হলদে ভাব দেখা দেওয়া। লিভারের সমস্যা হলে মুখে যে লক্ষণটি সবচেয়ে আগে ফুটে ওঠে, তা হলো চোখ ও মুখের ত্বকে হলদেটে ছোপ দেখা যায়। অনেক সময়ে ত্বকের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তে থাকা বিলিরুবিন নামক এক ধরনের হলুদ রঞ্জকের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই বিলিরুবিন রক্তের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চোখের সাদা অংশ, মুখের ত্বকে। তখন রঙে এমন বদল ঘটে।
স্পাইডার অ্যানজিওমা
গাল ও নাকের পাশে কিংবা থুতনিতে সূক্ষ্ম লাল শিরার মতো ফুটে ওঠে। লিভার সঠিকভাবে কাজ না করলে আপনার শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। আর রক্তে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেলে মুখের ত্বকের ঠিক নিচে থাকা ছোট রক্তনালিগুলো প্রসারিত ও স্ফীত হয়ে যায়। তখন দেখতে লাগে মাকড়সার জালের মতো। সে জন্য চিকিৎসকরা এ রোগকে স্পাইডার অ্যানজিওমা বলে থাকেন।
গালে কালচে দাগ
লিভার যখন রক্ত থেকে টক্সিন কিংবা বিষাক্ত উপাদান বের করতে পারে না, ঠিক তখন আপনার শরীরের বিপাকক্রিয়ায় ত্রুটি দেখা দেয়। এর প্রভাবে ত্বকের মেলানোসাইট কোষগুলো অতিরিক্ত মেলানিন রঞ্জক তৈরি করতে থাকে। ফলে গালে ও থুতনিতে কালচে ছোপ পড়ে যায়।
থুতনি ও চোয়ালে ব্রণ
লিভার দুর্বল হলে অ্যান্ড্রোজেন ও ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে যায়, যা মুখের সিবেসিয়াস গ্রন্থিকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণে বাধ্য করে। ফলে গাল, থুতনি ও চোয়ালে ব্রণ বের হয় এবং তা সারতে চায় না। অনেক সময়ে মেছতার দাগও দেখা দিয়ে থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে সর্দি ও কাশির মতো মৌসুমি রোগের বিস্তারও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে একটি সহজ অভ্যাস, যেমন নিয়মিত হাত ধোয়া, জীবাণুর সংক্রমণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘকাল ধরে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণুর সংস্পর্শ কমানোর জন্য নিয়মিত হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
মৌসুমি রোগ কেন ছড়ায়?
যখন কেউ অসুস্থ অবস্থায় হাঁচি বা কাশি দেয়, তখন তার শরীর থেকে জীবাণু আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের কি-বোর্ড, ডেস্ক এবং দৈনন্দিন ব্যবহৃত অন্যান্য জিনিস।
কাশি বা হাঁচির সময় হাত দিয়ে নাক-মুখ ঢাকার পর যদি সেই হাত ধোয়া না হয় এবং অন্য কোথাও স্পর্শ করা হয়, তাহলে সেখান থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। পরবর্তীতে, সুস্থ ব্যক্তি যদি জীবাণুযুক্ত সেই জায়গায় স্পর্শ করে, তাহলে তার হাতের মাধ্যমে নাক-মুখে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
হাত ধোয়া কীভাবে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে?
মৌসুমি রোগের জন্য দায়ী কিছু ভাইরাস বিভিন্ন পৃষ্ঠে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে বারবার স্পর্শ করা জিনিসের মাধ্যমে এগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিয়মিত হাত ধোয়ার মাধ্যমে হাত থেকে জীবাণু দূর করা সম্ভব। এতে জীবাণু মুখমণ্ডলে পৌঁছানো বা অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তার নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস অন্যদের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাত ধোয়ার সঙ্গে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দিনে অন্তত পাঁচবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে বলা হয়। দুই বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। যারা নিয়মিত এটি অনুসরণ করেছেন, তাদের শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণের হার ৪৫ শতাংশ কম ছিল।
তবে সংক্রমণের প্রতিরোধের জন্য হাত ধোয়া একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত হাত ধুলে যে কেউ অসুস্থ হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
কীভাবে হাত ধুতে হবে?
কার্যকরভাবে হাত ধোয়ার জন্য সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি—
* পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে নিন;
* সাবান দিয়ে ভালোভাবে ফেনা তৈরি করুন;
* অন্তত ২০ সেকেন্ড দুই হাত ঘষুন। আঙ্গুলের ফাঁক, কবজির চারপাশ ও নখের নিচের অংশও ভালোভাবে পরিষ্কার করুন;
* পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন;
* এরপর হাত শুকিয়ে নিন।
কখন হাত ধোয়া উচিত?
* খাবার খাওয়ার আগে ও পরে;
* শৌচাগার থেকে বের হয়ে;
* কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর;
* কাঁচা সবজি, মাছ-মাংস ধরার পর;
* হাঁচি কাশি দেওয়ার পর।
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে জীবাণুর সংক্রমণ কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ যখন কাশি ছড়ায়, তখন এই অভ্যাস আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সূত্র: সামা টিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাজারের দানের টাকার ৩৫ শতাংশ উন্নয়নকাজের জন্য ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে, আর বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয়। এর ফলে শাহজালাল মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রায় দুই মাসের সিদ্ধান্তহীনতার অবসান ঘটেছে।
কমিটির সদস্য সচিব জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন সভা শেষে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শাহজালাল মাজারের দানের টাকা এখন থেকে প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে, যা সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ টাকা দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহের জন্য ব্যবহার করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মাজার কমিটির পক্ষ থেকে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। এই ম্যানেজার অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হতে পারেন। এছাড়া একজন হিসাব রক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
মাজার পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে সাতজন। এর আহ্বায়ক হিসেবে জেলা প্রশাসক থাকবেন। কমিটিতে সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদের একজন করে প্রতিনিধি ও পুলিশ সুপার থাকবেন। মাজারের মতোয়াল্লি এই কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগকৃত ম্যানেজারও এই কমিটির সাচিবিক দায়িত্বে থাকবেন। মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এই কমিটি।
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে এই কমিটি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ প্রদান করবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে প্রায় আড়াই মাস পর এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
এতদিন কোনো নীতিমালা না থাকায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর থেকে মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে এবং গণনার পর টাকা জেলা প্রশাসনের খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হচ্ছে। এতে মাজার পরিচালনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে বলে জানান হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেমরা।
জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একপাক্ষিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। দানবাক্স ও ডেগ সিলগালার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেট জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এক পক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযোগ করা হচ্ছে যে, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে তার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। এর পরদিন তার উপস্থিতিতে দানবাক্স সিলগালার চার দিন পর জনসমক্ষে বাক্সের তালা খুলে টাকা গণনা করা হয়।
গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপাও পাওয়া যায়। সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়। সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এদিনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময়, নাউরুর প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। তিনি জানান, এখন থেকে দেশটি পরিচিত হবে নাওয়েরো নামে।
উত্তরাধিকার ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপকে তুলে ধরেন আদিয়াং। তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো নিজেদের মধ্যে ব্যবহৃত একটি নাম পুনরুদ্ধার করা।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি গত এক শতাব্দীতে নাম পরিবর্তন করা বা সংশোধন করা বেশ কয়েকটি দেশের কাতারে যুক্ত হলো। আদিয়াং বলেন, এই পরিবর্তন অতীতের সঙ্গে বিচ্ছেদ নয়, বরং নিজেদের পরিচয়কে পুনরায় নিশ্চিত করা। ভাষণের শেষে তিনি সরাসরি আহ্বান জানান, ‘আমাদের নাম উচ্চারণ করো।’
মঙ্গলবার এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার আগে আদিয়াং বলেন, ‘আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। একটি জাতির জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন তার জনগণকে স্মরণ করতে বলা হয় তারা আসলে সবসময় কারা ছিল। আমাদের জন্য এখন সেই মুহূর্তই এসেছে।’
যদিও নাউরু এবং নাওয়েরো মূলত একই শব্দ, তবে বানান এবং উচ্চারণের পার্থক্যকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে বিশ্ব আমাদের দেশকে নাউরু নামে চিনেছে। যাদের কাছে এই নাম উচ্চারণ করা কঠিন ছিল, তাদের কাছে এটাই ছিল আমাদের নামের শোনার ধরন, আর বিশ্ব সেটাই ধরে রেখেছে। কিন্তু এটা আমাদের নিজেদের মধ্যে ব্যবহার করা নাম নয়।’
আট বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রায় বারো হাজার মানুষ বসবাস করে। যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানির ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৯৬৮ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।
ফেব্রুয়ারিতে ইঙ্গিত দেওয়ার পর আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় তারা। দেশটির আন্তর্জাতিক কোড এনআরইউ থেকে বদলে এনআরও হচ্ছে। আর দেশটির নাগরিকরা এখন থেকে নাউরুয়ান নয়, বরং পরিচিত হবেন দেই-নাওয়েরো নামে। বিদেশে সাধারণত ‘নাও-রু’ উচ্চারিত হলেও দেশটির নতুন নাম উচ্চারিত হবে ‘নাও-এরো’ হিসেবে।
আধুনিকায়ন এবং ঔপনিবেশিক যুগের পরিচয় প্রত্যাখ্যানসহ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন দেশ নাম পরিবর্তনের যে বিস্তৃত প্রবণতা দেখিয়েছে, আদিয়াংয়ের এই মন্তব্যেও তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে।
২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড থেকে নাম বদলে এসোয়াতিনি হয়। ১৯৭৫ সালের এক অভ্যুত্থানের পর দাহোমি হয়ে ওঠে বেনিন। ১৯৮০ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে রোডেশিয়া হয়ে ওঠে জিম্বাবুয়ে। ১৯৩৯ সালে সিয়াম হয়ে ওঠে থাইল্যান্ড। ১৯২০ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই নামে পরিচিত হলেও ২০২২ সালে জাতিসংঘকে ইংরেজিতেও একই বানান এবং উচ্চারণ ব্যবহারের অনুরোধ জানায় তুর্কিয়ে। পারস্য হয়ে ওঠে ইরান, বার্মা হয়ে ওঠে মিয়ানমার, আপার ভোল্টা হয়ে ওঠে বুরকিনা ফাসো, গোল্ড কোস্ট হয়ে ওঠে ঘানা এবং সিলন হয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ