বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৮ পি.এম
রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গরমের পরিমাণ কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাবে এবং বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময়ে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৩ শতাংশ।
মঙ্গলবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বৃষ্টি ও তাপমাত্রার কিছুটা হ্রাসের কারণে রাজধানীবাসীর জন্য সাময়িক স্বস্তি আসতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার ব্যয় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এ ঘটনায় পুলিশ সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটি বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার হওয়া শাহ আলম (৪৪) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে। তাকে মঙ্গলবার দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম এবং দ্বিতীয় আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুটি পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।
ঘটনাটির তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
কমিটিকে এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং কাজের ত্রুটি সংশোধনসহ গাফিলতির বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়।
সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ কাজ। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দিলে একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা মোবাইল ফোনে কাজটির ভিডিও ধারণ করেন।
স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর রাতেই আবার কাজ শুরু করে তা শেষ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী সেতুর মূল কাজের আগে প্রাক-কাজ বা স্ল্যাবের নিচের অংশে ঢালাই করা হয়। এরপর ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের কাজ সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর ও সহকারী ঠিকাদার শাহ আলম তাদের অনুপস্থিতিতে রাতের আঁধারে কাউকে না জানিয়ে ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন।"
তিনি আরও বলেন, "বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।"
উপজেলা প্রকৌশলী আরও বলেন, "ঢাকা অঞ্চল থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বলেন, "সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। এ ঘটনায় সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার একটি মাদরাসার শিক্ষকের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর আচরণের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, ফেসবুকে প্রায় দুই মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে কালো বোরকা ও নেকাব পরা এক নারী চেয়ারে বসে আছেন। এ সময়, ওই শিক্ষক কক্ষের দরজা-জানালা দিয়ে বাইরে নজর রাখার পাশাপাশি ওই নারীকে একাধিকবার স্পর্শ করেন। তবে, প্রতিবারই ওই নারী তাকে বাধা দেন এবং কিছুক্ষণ পর কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, "প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনাটি ধরা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ঘটনাটি গত ২০ আগস্টের।" তিনি আরও জানান, ওই শিক্ষক নন-এমপিও হিসেবে মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি জানার পরপরই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যখন ওই নারীর পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, "নারীটি কে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক ও কাম্য নয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গঠিত মেডিকেল টিম ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের মেডিকেল টিমের প্রতিনিধিরা হাসপাতাল পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম, ডা. গালিব হাসান এবং সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমনসহ অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (মিটফোর্ড) এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া হয়।
এছাড়া রোগী ও তাদের স্বজনসহ উপস্থিত সকলকে ডেঙ্গু বিষয়ে জরুরি স্বাস্থ্যনির্দেশনা এবং সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদান করা হয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর লক্ষণ, জ্বরের সময় করণীয় ও বর্জনীয়, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, সতর্কতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে দিনের একটি বড় সময় কাটে। প্রতিদিনের কাজ, আড্ডা এবং গল্পের মাধ্যমে অনেক সময় সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে অনেকে ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করে ফেলেন।
কিন্তু কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক যতই ভালো হোক, ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় নিজের মধ্যেই রাখা নিরাপদ। কারণ বন্ধুত্ব এবং পেশাগত সম্পর্ক এক বিষয় নয়। সময়ের সঙ্গে সহকর্মী, দায়িত্ব এবং সম্পর্কের সমীকরণ পরিবর্তিত হতে পারে। তখন একসময় বিশ্বাস করে বলা কথাই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রেম ও সম্পর্কের কথা
প্রেমের অবস্থা, সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে সমস্যা রয়েছে কি না—এসব অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়। ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হলেও সম্পর্কের খুঁটিনাটি জানানো জরুরি নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে অফিসের আড্ডা কিংবা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
বিয়ে ও সংসারের বিষয়
বিয়ে কবে করবেন, কেন বিয়ে করছেন না, সংসারে কী চলছে কিংবা পরিবারের সঙ্গে কোনো সমস্যা আছে কি না—এ ধরনের বিষয়গুলো ব্যক্তিগত। নিজের পারিবারিক জীবনের এমন তথ্য অফিসে বিস্তারিতভাবে শেয়ার না করাই ভালো, যা পরে অন্যের মন্তব্য বা আলোচনার কারণ হতে পারে।
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা
বিয়ে হয়েছে কি না, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা কী অথবা পরিবার নিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত কী—এসব সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কোনো সহকর্মী নিজে থেকে এসব তথ্য না জানালে এ বিষয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল দেখানোও ঠিক নয়।
আর্থিক তথ্য
বেতন কত, পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন, ঋণ আছে কি না অথবা কত টাকা সঞ্চয় করেন—এসব তথ্যও ব্যক্তিগত। বন্ধুত্বের ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা অপ্রয়োজনীয় তুলনা, আলোচনা কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
অফিসের অন্যদের নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত
কোনো সহকর্মীর অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করা অনেক সময় সহজ মনে হতে পারে। একইভাবে বস, সিনিয়র কিংবা অন্য সহকর্মী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যও পরে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কে কখন সেই কথা অন্যের কাছে বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই কারও অনুপস্থিতিতে কথা বলার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
চাকরি বদলের পরিকল্পনা
অন্য কোথাও চাকরির চেষ্টা করছেন, কোথায় আবেদন করেছেন অথবা কবে চাকরি ছাড়তে পারেন—এ ধরনের পরিকল্পনা নিশ্চিত হওয়ার আগে সহকর্মীদের জানানো প্রয়োজন নেই। ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখাই নিরাপদ।
নিজের দুর্বলতা বা ব্যক্তিগত সংকট
জীবনের কঠিন সময়, ব্যক্তিগত সমস্যা অথবা নিজের কোনো দুর্বলতার কথা কাছের কাউকে বললে মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে কর্মক্ষেত্রে এমন তথ্য শেয়ার করার আগে ভাবা উচিত, ভবিষ্যতে তা কোনোভাবে পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে কি না।
ব্যক্তিগত নথি ও গোপন তথ্য
পাসওয়ার্ড, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাংক বা আর্থিক তথ্য অথবা প্রতিষ্ঠানের গোপন কোনো তথ্য কখনোই শুধু বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে অন্যের সঙ্গে ভাগ করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত ও পেশাগত নিরাপত্তার জন্য এসব তথ্য গোপন রাখা জরুরি।
তাহলে কি কলিগের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না?
অবশ্যই যাবে। কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্ব, আড্ডা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা কাজের পরিবেশকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। তবে বন্ধুত্ব মানে নিজের জীবনের প্রতিটি দরজা খুলে দেওয়া নয়।
কর্মক্ষেত্রে মানুষকে বিশ্বাস করা যায়, বন্ধুত্বও করা যায়। তবে নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে খারাপ ভাবা কিংবা সবাইকে সন্দেহ করার বিষয় এটি নয়। বরং মনে রাখতে হবে, পেশাগত সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে।
আজ যে সহকর্মী খুব কাছের, ভবিষ্যতে তিনি হয়তো অন্য বিভাগে, অন্য প্রতিষ্ঠানে কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় থাকবেন। তাই কর্মক্ষেত্রে ভালো সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সীমারেখাও থাকা প্রয়োজন।
সব কথা বললেই সম্পর্ক গভীর হয় না। কখন কোন কথা নিজের কাছে রাখতে হবে, সেটিও পেশাদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ