প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার ব্যয় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এ ঘটনায় পুলিশ সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটি বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার হওয়া শাহ আলম (৪৪) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে। তাকে মঙ্গলবার দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম এবং দ্বিতীয় আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুটি পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।
ঘটনাটির তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
কমিটিকে এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং কাজের ত্রুটি সংশোধনসহ গাফিলতির বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়।
সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ কাজ। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দিলে একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা মোবাইল ফোনে কাজটির ভিডিও ধারণ করেন।
স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর রাতেই আবার কাজ শুরু করে তা শেষ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী সেতুর মূল কাজের আগে প্রাক-কাজ বা স্ল্যাবের নিচের অংশে ঢালাই করা হয়। এরপর ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের কাজ সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর ও সহকারী ঠিকাদার শাহ আলম তাদের অনুপস্থিতিতে রাতের আঁধারে কাউকে না জানিয়ে ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন।"
তিনি আরও বলেন, "বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।"
উপজেলা প্রকৌশলী আরও বলেন, "ঢাকা অঞ্চল থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বলেন, "সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। এ ঘটনায় সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন