ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, শিশুদের প্রশ্নে অজ্ঞান স্বজনরা


ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, শিশুদের প্রশ্নে অজ্ঞান স্বজনরা

খুলনায় ডেঙ্গুর কারণে দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু ঘটেছে। তাদের গর্ভে থাকা সন্তানদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একদিকে, ছয় বছরের রওদার প্রশ্ন, ‘আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব?’ অন্যদিকে, দেড় বছরের কেয়া এখনো বুঝতে পারছে না, কেন তার ‘সোনা মা’ আর ফিরে আসছেন না। দুই পরিবারের শোক যেন আটকে আছে শিশুদের নিষ্পাপ প্রশ্নে।

খুলনা নগরের সিদ্দিকীয়া মহল্লার নাহিদ হাসানদের পারিবারিক ভবনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছে নাহিদ হাসান ও নুসরাত জাহান দম্পতির দুই সন্তান, বড় ছেলে রাইয়ান হাসান ও ছয় বছরের রওদা হাসান।

রাইয়ান কিছুটা শোকাচ্ছন্ন। সে মায়ের চলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারছে। কিন্তু ছয় বছরের রওদা এখনো বুঝতে পারছে না, কেন তার মা আর ঘরে ফিরছেন না। তাই মাঝে মাঝে স্বজনদের কাছে জানতে চায়, ‘আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব?’

আরও পড়ুন: ভাড়া বাসায় মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ, প্রেমিক উধাও

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই পরিবারের সদস্যদের কাছে। নাহিদের বড় ভাই মাহমুদ হাসান সোহেল বলেন, "ওদের সুখের সংসার ছিল। নতুন সদস্যের আগমন নিয়ে আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। কীভাবে কী হয়ে গেল, এখনো বুঝতে পারছি না। ছোট মেয়েটার জন্য বেশি খারাপ লাগছে। মাঝে মাঝে ও প্রশ্ন করছে, আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব?"

নাহিদ হাসান ও নুসরাত জাহান দম্পতির তৃতীয় সন্তানের আগমনের অপেক্ষা ছিল পুরো পরিবারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন অতিথির নামও ঠিক করে রাখা হয়েছিল। ঘরজুড়ে চলছিল প্রস্তুতি। কিন্তু হঠাৎ সবকিছু বদলে যায়।

১৮ সেপ্টেম্বর নুসরাতের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তার রক্তের প্লাটিলেট কমে ৬২ হাজারে নেমে যায়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজন হয় আইসিইউর।

স্বজনেরা জানান, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে চেষ্টা করেও আইসিইউ শয্যা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত নুসরাতকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্সে রওনা হন তার স্বামী নাহিদ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভাঙ্গার কাছে নিস্তেজ হয়ে পড়েন নুসরাত।

আরও পড়ুন: মায়ের রেখে যাওয়া দুই শিশুর পাশে দাঁড়ালেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার

পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গর্ভের সন্তানটিও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নুসরাতের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বটিয়াঘাটার ইউসুফিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। গর্ভধারণের পর চাকরি ছেড়ে দেন। সন্তানদের নিয়েই ছিল তাঁর ব্যস্ততা।

এদিকে, বড় ছেলে রাইয়ানের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। অন্য শিশুদের মশা থেকে দূরে রাখতে নুসরাতই সবচেয়ে বেশি সতর্ক করতেন বলে জানান স্বজনেরা। নাহিদ হাসান খুলনার গ্রামীণফোন সেন্টারের ডেপুটি ইনচার্জ হিসেবে কাজ করেন। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারিয়ে এখন তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।

নাহিদ বলেন, "কীভাবে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না!"

নুসরাতের মতোই আরেকটি পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে সেই শূন্যতার অর্থ বোঝার বয়স হয়নি দেড় বছরের কেয়া নামের শিশুটির।

আরও পড়ুন: খুলনায় ৬ কেজি ৫৯৭ গ্রাম আইস উদ্ধার

খুলনা নগরের বসুপাড়ায় সাদিয়া আফরিন সুমাইয়ার বাবার বাড়ি। দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের পর সেখানেই ছিলেন তিনি। তার স্বামী শেখ ইশতিয়াজ সম্রাট পেশায় আইনজীবী। তাদের দেড় বছরের মেয়ে কেয়া।

কয়েক দিন ধরে জ্বর ছিল সুমাইয়ার। একই সময়ে তার মা-বাবাও অসুস্থ ছিলেন। ১৬ সেপ্টেম্বর তার মায়ের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বাবারও ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

নিজের জ্বরকে গর্ভকালীন কোনো সমস্যা মনে করে সুমাইয়া হাসপাতালে যাননি। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ তার শরীরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বজনেরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আইসিইউ শয্যা না থাকায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হয় স্বজনদের। কোথাও শয্যা খালি না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

পরদিন ভোরে মারা যান সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়া। তার গর্ভের সন্তানকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মায়ের মৃত্যুর পরও বিষয়টি বুঝতে পারেনি ছোট্ট কেয়া। সে শুধু মাকে খুঁজছে। মাঝে মাঝে স্বজনদের কাছে জানতে চাইছে, "আমার সোনা মা কোথায়?"

আরও পড়ুন: যে গ্রামে নারীরাই সামলান পূজার সব দায়িত্ব

সুমাইয়ার এক স্বজন জানান, শেষ সময়ে তাকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কোথাও আইসিইউ শয্যা পাওয়া যায়নি। শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষাও করা হয়নি। সুমাইয়ার মৃত্যুসনদে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান স্বজনেরা।

এখন কেয়া তার খালা মারজিয়ার কাছে আছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে আগলে রাখছেন। তবে মায়ের অনুপস্থিতির কারণ এখনো বুঝতে পারছে না শিশুটি। মারজিয়া বলেন, "মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি এখনো বুঝতে পারছে না কেয়া। মাঝে মাঝে বলছে, আমার সোনা মা কোথায়?"

দুই পরিবারের ঘরেই এখন নতুন অতিথির অপেক্ষার বদলে শোক বিরাজ করছে। এক ঘরে ছয় বছরের রওদার প্রশ্ন, আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব? আর অন্য ঘরে দেড় বছরের কেয়া খুঁজে ফিরছে তার ‘সোনা মা’কে। দুই শিশুর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন স্বজনেরাও।

আরও পড়ুন: বান্দরবান-থানচি সড়কে ৬ দিন পর বাস চলাচল শুরু

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে যন্ত্র বিকলের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে যন্ত্র বিকলের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফিলাডেলফিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ নষ্ট হওয়ার ফলে নেওয়ার্ক (নিউ জার্সির অঙ্গরাজ্য ও নিউইয়র্ক মেট্রোপলিটন এলাকার একটি প্রধান অংশ) এবং ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং কয়েকশ ফ্লাইটে দেরি হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফিলাডেলফিয়ার ওই নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বড় ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেয়। কেন্দ্রটি নিউইয়র্কের নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল, টেটারবোরো ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ওই অঞ্চলের রানওয়েতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনেক উড়োজাহাজ অপেক্ষায় থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, প্রায় সাত ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা মেরামত করা হয়। এরপর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়। তবে জমে থাকা বিলম্ব স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে তিনি জানান।

ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, মূল ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পর তারা বিকল্প ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় বিকল্প ব্যবস্থার একটি যোগাযোগ তারও কেটে গেছে।

ডাফি জানান, নিউ জার্সিতে রেল নির্মাণকাজের সময় একটি দল ভুল করে ভূগর্ভস্থ যোগাযোগ তার কেটে ফেলায় এই বিপর্যয় আরও বড় আকার নেয়। তার মতে, পুরোনো অবকাঠামো আধুনিক করতে আরও অর্থ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।

এদিকে আমট্রাকের এক মুখপাত্র জানান, তাদের নিজস্ব কর্মীরা নয়, নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থার একটি ঠিকাদারি নির্মাণ দল তারটি কেটেছে।

নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থা জানায়, নিউ ব্রান্সউইক ও নর্থ ব্রান্সউইকের মাঝামাঝি এলাকায় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে নির্মাণকাজের সময় একটি তন্তু-ভিত্তিক যোগাযোগ তার ভুল করে কেটে যায়। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ভেরাইজন দাবি করেছে, তাদের কোনো দল এ ঘটনার জন্য দায়ী নয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়া তাদের একটি যোগাযোগ তার নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থার নির্মাণকাজের সময় কেটে যায় এবং তার কাটার আগ পর্যন্ত তাদের সব ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

প্রথমে নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল, টেটারবোরো ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়। পরে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া ও জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তখন নিউইয়র্কে আসছিলেন। ফলে ফ্লাইট বিপর্যয়ের প্রভাব আরও বেড়ে যায়।

ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিউয়ার্ক ও ফিলাডেলফিয়া থেকে উড্ডয়নে সর্বোচ্চ ১৫০ মিনিট পর্যন্ত দেরি হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে প্রায় ৬১৯টি এবং ফিলাডেলফিয়ায় ১৯৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর বাইরে দুই বিমানবন্দরেই আরও কয়েকশ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনেও পরিস্থিতির চিত্র উঠে আসে। ফিলাডেলফিয়ায় এক পাইলট দীর্ঘ সময় উড্ডয়নের অপেক্ষা নিয়ে জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে শুধু জানানো হয়, যন্ত্রের সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্যাটি কতক্ষণ চলবে—পাইলট জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মী জানান, তিনি তা জানেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথ হিসেবে পরিচিত নিউ জার্সি ও আশপাশের এলাকা। গত বছরও যন্ত্রের ত্রুটির কারণে সেখানে বিমান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছিল। সে সময় প্রায় এক ডজন উড়োজাহাজ প্রায় ৯০ সেকেন্ড যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আকাশে ছিল। তবে তখন পরিবহনমন্ত্রী ডাফি জানিয়েছিলেন, ওই ঘটনায় উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।

সূত্র: দ্য এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইংল্যান্ড জাতীয় দল থেকে চোটের কারণে বাদ পড়লেন পাঁচ ফুটবলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


ইংল্যান্ড জাতীয় দল থেকে চোটের কারণে বাদ পড়লেন পাঁচ ফুটবলার

দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির সূচনাতে ইংল্যান্ড একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। জাতীয় দলের স্কোয়াড থেকে একসঙ্গে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার কোল পালমার, ডেকলান রাইস, মার্কাস রাশফোর্ড, কোবি মাইনু ও টিনো লিভ্রামেন্টো চোটের কারণে বাদ পড়েছেন।

ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) সোমবার এই পাঁচ ফুটবলার সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের পরিবর্তে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নটিংহাম ফরেস্টের মরগান গিবস-হোয়াইট এবং এভারটনের জেমস গার্নার।

পালমারের বাদ পড়া ইংল্যান্ডের জন্য একটি বড় ক্ষতি। ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার পর তিনি আবার জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে সাত ম্যাচে চার গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করার পর তিনি পেশির চোটের কারণে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে পারছেন না।

আর্সেনালের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসও চোটের কারণে বাদ পড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপেও চোট নিয়ে খেলেছিলেন। চলতি প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের পাঁচ ম্যাচে শুরু থেকে খেলেছেন, তবে এবার বিশ্রাম ও চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক উইন্ডো থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুই খেলোয়াড় মার্কাস রাশফোর্ড এবং কোবি মাইনুও চোটের কারণে বাদ পড়েছেন। ফুলহামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের পর তাদের চোটের সমস্যা দেখা দেয়। রাশফোর্ড বিশ্বকাপ থেকেই নিতম্বের সমস্যায় ভুগছেন এবং ফুলহামের বিপক্ষে বদলি হওয়ার পর তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। একই ম্যাচে ৮০ মিনিট মাঠে ছিলেন মাইনু।

এদিকে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের টিনো লিভ্রামেন্টোও চোটের কারণে এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করবে ইংল্যান্ড। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাগে চেক প্রজাতন্ত্র, ৩ অক্টোবর রিয়েকায় ক্রোয়েশিয়া এবং ৬ অক্টোবর আবারও ওয়েম্বলিতে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে টমাস টুখেলের দল।

ফিফার নতুন সূচিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের দুটি আন্তর্জাতিক উইন্ডো একসঙ্গে হওয়ায় খেলোয়াড়দের প্রায় তিন সপ্তাহ জাতীয় দলের সঙ্গে থাকতে হবে। তবে এই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির শুরুতেই পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে হারিয়ে চোটের বড় ধাক্কা খেল টুখেলের দল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের বিল সংসদে পেশ হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের বিল সংসদে পেশ হচ্ছে

সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন এই স্কিমের জন্য আইনের খসড়া তৈরি করে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে স্কিমটি চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বর্তমানে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে জানান, ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনগত খসড়া তৈরি করে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের কাঠামো, পরিচালন পদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় নির্ধারণের কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্কিমটির আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির ভিত্তিতে নতুন স্কিম চালু করা হবে। এতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একটি পৃথক বিনিয়োগ ও পরিচালনা কাঠামো যুক্ত হবে, যা শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সুবিধা নিতে আগ্রহী জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নতুন স্কিমে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে পেনশন তহবিল পরিচালনার কাঠামো তৈরি করা হবে। তহবিলের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, পরিচালন ব্যয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কার্যকর কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে।

শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী অথবা নির্ধারিত সুবিধাভোগীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অন্যতম।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এ সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। পেনশনার নিজে জীবদ্দশায় আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। এ অর্থবছরের জন্য মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ হারে মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়াতে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধা পান না, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।

একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশগামী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এ বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং ঋণ দেওয়ার ফলে পেনশনভোগীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা যেতে পারে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনে গ্রাহক নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগে একজন নতুন গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তহবিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরীক্ষা কাঠামো যুক্ত হবে।

দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরু পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাদের জমা করা মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন এবং এ স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

তবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত হারে অংশগ্রহণ না বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক নতুন স্কিম চালু, পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের মুনাফা নির্ধারণ, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদ্যমান চারটি স্কিমের পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ স্কিম চালুর আগে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন, সংসদীয় প্রক্রিয়া, বিনিয়োগনীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ও কারিগরি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন স্কিম চালুর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

ফলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম শুধুমাত্র নতুন একটি স্কিম সংযোজনের উদ্যোগ নয়; বরং বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার বিনিয়োগ কাঠামো, অংশগ্রহণের পরিধি ও সুবিধার ধরন আরও বিস্তৃত করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি সামনে এসেছে। আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে পাঠানো এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপরই এর বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি দুই দিন, হিন্দু কর্মীদের জন্য আরও দুই ঐচ্ছিক ছুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি দুই দিন, হিন্দু কর্মীদের জন্য আরও দুই ঐচ্ছিক ছুটি

২০২৬ সালের দুর্গাপূজার জন্য সরকারি ছুটি দুটি দিন নির্ধারিত হয়েছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থাৎ, দুর্গাপূজার সময় সরকারি ছুটি মূলত দুই দিন। তবে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পূজা উপলক্ষে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ঐচ্ছিক ছুটির আওতায় ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছুটি থাকবে। তবে, প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির সময়সূচিতে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের ছুটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে পূজার ছুটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে। এজন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ছুটির নোটিশ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে, প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় কিছু নির্দিষ্ট শাখা বা সেবা চালু রাখা হতে পারে।

এদিকে, এটিএম, কার্ডভিত্তিক লেনদেন ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে। এসব সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

যদিও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তবে তা সকল কর্মীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মীকেই ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।

হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।

এভাবে, দুর্গাপূজায় সাধারণ সরকারি ছুটি দুটি দিন হলেও সবার ছুটির হিসাব এক নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং জরুরি সেবার কর্মীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটি কার্যকর হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%