ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোদিকে ঘিরে দীপকের ব্যঙ্গ, ‘দেশের ভবিষ্যৎ নয়, ত্বকই বেশি উজ্জ্বল’


মোদিকে ঘিরে দীপকের ব্যঙ্গ, ‘দেশের ভবিষ্যৎ নয়, ত্বকই বেশি উজ্জ্বল’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক একটি সেলফি ভিডিও নিয়ে কটাক্ষ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার সম্পর্কিত ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করেন, ‘দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল।’

সম্প্রতি পাবলিক পরীক্ষাসমূহ সংশোধন সংক্রান্ত একটি বিল সংসদে পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেই ভিডিওতে তিনি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্র বা ‘পেপার মাফিয়া’র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন।

মোদির ওই ভিডিও সম্পর্কে অভিজিৎ দীপক সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিওতে দেশের ভবিষ্যতের তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর চেহারার উপস্থাপনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এটি দীপকের দ্বারা মোদিকে লক্ষ্য করে প্রথম সমালোচনা নয়। এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদির ধারাবাহিক ভাইরাল রিল এবং ভিডিওগুলো নিয়ে মন্তব্য করে বলেছিলেন, ‘দিলের পরিচালনার তুলনায় একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেই মোদিকে বেশি মানানসই মনে হয়।’

ভারতজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং তা ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত এক সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইনস্টাগ্রামে একাধিক সেলফি-ধাঁচের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এসব ভিডিও শত কোটি ভিউ অতিক্রম করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সূত্র : নিউজ ১৮।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সিউতায় যাচ্ছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


অভিবাসীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সিউতায় যাচ্ছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

মরক্কো থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সময় অন্তত ১৯ জন অভিবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র একদিনের মধ্যে প্রায় ৪৯ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে।

এমন অবস্থার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সঙ্গে ছিটমহলটি পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকার সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে।

সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা রাশিদ সবিহি এই পরিস্থিতিকে ‘মারাত্মক মানবিক সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, অভিভাবকহীন শিশুসহ হাজার হাজার অভিবাসী ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে এবং অন্যরা সেউতার রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষ এখনও প্রবেশ করছে। যে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তারা কেবল আহতদের সহায়তা ও অন্যান্য মানবিক কার্যক্রমে সাহায্য করছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল।

উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত সিউতায় পৌঁছানোর জন্য অভিবাসীরা প্রায়শই মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে সাঁতার কেটে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে; এই ক্ষেত্রে তাদের প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। আবার অনেকে নিকটবর্তী বেলইউনেশ শহর থেকেও এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে, যেখানে দূরত্ব কিছুটা কম।

সিউটার কর্তৃপক্ষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার এই বৃদ্ধিকে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি রায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করছে। ওই রায়ের মাধ্যমে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে স্থলপথে সীমান্তের বেড়া টপকে স্পেনে প্রবেশ করা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই রায় কার্যকর নয়।

কিন্তু মরক্কোর কিছু অধিকারকর্মী এই রায়ের কারণে অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের যুক্তি হলো অধিকাংশ অভিবাসীরই এ ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকার কথা নয়।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা স্পেনের সঙ্গে তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করবে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি বৃহস্পতিবার রাতেই স্পেন সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অবিলম্বে জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণকারী সীমান্ত বাহিনী মোতায়েনের কথা ঘোষণা করেছেন।

সীমান্ত সংকটের এই প্রভাব ইতোমধ্যে ইতালিতেও পড়েছে, যা অভিবাসীদের জন্য আরেকটি প্রধান গন্তব্য। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পেনের সঙ্গে ‘শেনজেন’ উন্মুক্ত সীমান্ত চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের সীমান্ত রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। যদিও স্পেনের সঙ্গে ইতালির কোনো সরাসরি স্থলসীমানা নেই।

সিউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সীমান্তে আরও পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও জানিয়েছেন।

যদিও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ অভিবাসন সংকটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; তবে মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সহায়তা বা সম্পদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা, তুর্কি টুডে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যৌন হয়রানির দায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের চাকরি বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


যৌন হয়রানির দায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের চাকরি বাতিল

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের চাকরি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবার জন্য চিঠি পাঠানো হবে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরো জানিয়েছেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে আনা একই ধরনের অভিযোগের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসে এক ছাত্রী লিখিতভাবে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রমেকের হিমঘরে ৫ বছর ধরে অজ্ঞাত পড়ে আছে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


রমেকের হিমঘরে ৫ বছর ধরে অজ্ঞাত পড়ে আছে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ

পরিবার আছে, পরিচয় আছে এবং ভারতীয় পাসপোর্টও রয়েছে। এইসব থাকা সত্ত্বেও, জীবনের শেষ ঠিকানায় প্রবীর মণ্ডল পৌঁছাতে পারেননি।

মৃত্যুর প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর মরদেহ এখনো রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হিমঘরে নম্বরবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রবীর মণ্ডলের শেষকৃত্যের বিষয়টি স্বজনদের অনাগ্রহ, সীমান্ত ও কূটনৈতিক জটিলতায় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অদূরত্বে আটকে রয়েছে।

প্রবীর মণ্ডল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিমচা মৈত্রী স্ট্রিটের এম আলম বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৪১ বছর এবং বাবার নাম মহাদেব মণ্ডল।

সূত্র জানাচ্ছে, ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর থেকে প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে সংরক্ষিত আছে। দীর্ঘ এই সময়ে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। একইসাথে আইনি ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া মরদেহের সৎকারও করা যাচ্ছে না।

পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি, এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তর কিংবা সৎকারের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একটি মরদেহ হিমঘরে থাকায় নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।

ফেসবুকে পরিচিত নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে প্রবীর মণ্ডল মৃত্যুবরণ করেন। মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বরে ফেসবুকে পরিচিত এক নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে যান প্রবীর মণ্ডল। সেখানে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্থানীয়রা তাঁকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর প্রবীর মণ্ডলের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য একটি মেডিকেল লিগ্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর থেকেই মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

মৃত্যুর পর প্রবীর মণ্ডলের পোশাক তল্লাশি করে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৭ সালের ৩ মার্চ তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে ফিরে গেছেন। তবে এরপর কীভাবে তিনি পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে মামলার নথিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ততদিনে মরদেহে পচন শুরু হয়েছিল। সেই চিঠিতে বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক করে মরদেহ ভারতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ হয়েছিল। কিন্তু এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, প্রবীর মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এখনও মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখাননি। তিনি জানান, "বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।" প্রবীর মণ্ডলের ছোট ভাই সুবীর মণ্ডলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে কিন্তু পরিবার থেকে মরদেহ নিতে আগ্রহ নেই।

হাসপাতালের হিমঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল বসুনিয়া জানান, প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ এখনো হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এলে ধর্মীয় রীতিনীতির ভিত্তিতে মরদেহের সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এত দিন ধরে একটি মরদেহ হিমঘরে সংরক্ষণ করা তাদের জন্যও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক আব্দুল মোকাদ্দেম জানিয়েছেন যে, প্রবীর মণ্ডল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। মরদেহটি পুলিশর অনুরোধে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নাগরিক সমাজ। সুজন রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেছেন, "একজন মৃত ব্যক্তিরও মানবাধিকার রয়েছে। দীর্ঘদিন মরদেহটি পড়ে থাকায় মানবিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো।

শেষত, প্রবীর মণ্ডলের জীবন শেষ অধ্যায় শুরু হয়েছিল পাটগ্রামে অসুস্থ হওয়ার মাধ্যমে। এত কর্মযজ্ঞের পরও মরদেহটি পরিবারে পৌঁছাতে পারেনি। পোশাকে পাওয়া পাসপোর্ট তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছে, কিন্তু কোনোরকম শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়নি। ২০২১ সালের ৮ থেকে ২০২৬ সাল—এই দীর্ঘ সময়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের হিমঘরে তাঁর মরদেহ অবাঞ্ছিত হয়ে পড়ে আছে। জীবন জীবন্তে তাঁর ছিল স্বজন, পরিচিতি; মৃত্যুর পরেও তাঁর জন্য যেন নির্ধারিত হয়নি শেষ ঠিকানা। সংশ্লিষ্টদের এখন আশা, মানবিক ও প্রশাসনিক বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তার এই অবসান ঘটানো হবে এবং প্রবীর মণ্ডল তাঁর প্রাপ্য শেষ বিদায় পাবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের নিখোঁজ, চলছে অনুসন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের নিখোঁজ, চলছে অনুসন্ধান

সাতক্ষীরা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নদী কালিন্দীতে মাছ ধরতে গিয়ে পিয়ার আলী গাজী নামে গতকাল বৃহস্পতিবার এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধারে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। 

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মথুরেশপুর ইউনিয়েনের বসস্তপুর ওয়াপদা পাড় সংলগ্ন কালিন্দী নদীতে মাছ ধরার সময় তার নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ পিয়ার আলী গাজী (৮৪) বসন্তপুর গ্রামের মৃত ছফেদ আলী গাজীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার পিয়ার আলী গাজী জীবিকার তাগিদে সীমান্ত নদী কালিন্দীতে জাল ফেলে মাছ ধরতে যান। দুপুরের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদীতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাননি। তবে, ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত একটি গামছা উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ জেলে পিয়ার আলীর ছেলে আব্দুস সবুর গাজী জানান, তার বাবা প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার সকালে মাছ ধরতে নদীতে গিয়েছিলেন। দুপুরের পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও এখনও পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাতেই কালিগঞ্জ থানা পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আজ শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল সকাল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অতিরিক্ত জোয়ার এবং স্রোতের কারণে এক ঘন্টার বিরতি চলছে। বিকালে আবারো উদ্ধার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ পিয়ার আলী গাজীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%