ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যৌন হয়রানির দায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের চাকরি বাতিল


যৌন হয়রানির দায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের চাকরি বাতিল

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের চাকরি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবার জন্য চিঠি পাঠানো হবে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরো জানিয়েছেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে আনা একই ধরনের অভিযোগের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসে এক ছাত্রী লিখিতভাবে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রমেকের হিমঘরে ৫ বছর ধরে অজ্ঞাত পড়ে আছে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


রমেকের হিমঘরে ৫ বছর ধরে অজ্ঞাত পড়ে আছে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ

পরিবার আছে, পরিচয় আছে এবং ভারতীয় পাসপোর্টও রয়েছে। এইসব থাকা সত্ত্বেও, জীবনের শেষ ঠিকানায় প্রবীর মণ্ডল পৌঁছাতে পারেননি।

মৃত্যুর প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর মরদেহ এখনো রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হিমঘরে নম্বরবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রবীর মণ্ডলের শেষকৃত্যের বিষয়টি স্বজনদের অনাগ্রহ, সীমান্ত ও কূটনৈতিক জটিলতায় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অদূরত্বে আটকে রয়েছে।

প্রবীর মণ্ডল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিমচা মৈত্রী স্ট্রিটের এম আলম বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৪১ বছর এবং বাবার নাম মহাদেব মণ্ডল।

সূত্র জানাচ্ছে, ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর থেকে প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে সংরক্ষিত আছে। দীর্ঘ এই সময়ে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। একইসাথে আইনি ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া মরদেহের সৎকারও করা যাচ্ছে না।

পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি, এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তর কিংবা সৎকারের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একটি মরদেহ হিমঘরে থাকায় নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।

ফেসবুকে পরিচিত নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে প্রবীর মণ্ডল মৃত্যুবরণ করেন। মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বরে ফেসবুকে পরিচিত এক নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে যান প্রবীর মণ্ডল। সেখানে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্থানীয়রা তাঁকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর প্রবীর মণ্ডলের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য একটি মেডিকেল লিগ্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর থেকেই মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

মৃত্যুর পর প্রবীর মণ্ডলের পোশাক তল্লাশি করে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৭ সালের ৩ মার্চ তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে ফিরে গেছেন। তবে এরপর কীভাবে তিনি পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে মামলার নথিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ততদিনে মরদেহে পচন শুরু হয়েছিল। সেই চিঠিতে বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক করে মরদেহ ভারতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ হয়েছিল। কিন্তু এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, প্রবীর মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এখনও মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখাননি। তিনি জানান, "বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।" প্রবীর মণ্ডলের ছোট ভাই সুবীর মণ্ডলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে কিন্তু পরিবার থেকে মরদেহ নিতে আগ্রহ নেই।

হাসপাতালের হিমঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল বসুনিয়া জানান, প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ এখনো হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এলে ধর্মীয় রীতিনীতির ভিত্তিতে মরদেহের সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এত দিন ধরে একটি মরদেহ হিমঘরে সংরক্ষণ করা তাদের জন্যও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক আব্দুল মোকাদ্দেম জানিয়েছেন যে, প্রবীর মণ্ডল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। মরদেহটি পুলিশর অনুরোধে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নাগরিক সমাজ। সুজন রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেছেন, "একজন মৃত ব্যক্তিরও মানবাধিকার রয়েছে। দীর্ঘদিন মরদেহটি পড়ে থাকায় মানবিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো।

শেষত, প্রবীর মণ্ডলের জীবন শেষ অধ্যায় শুরু হয়েছিল পাটগ্রামে অসুস্থ হওয়ার মাধ্যমে। এত কর্মযজ্ঞের পরও মরদেহটি পরিবারে পৌঁছাতে পারেনি। পোশাকে পাওয়া পাসপোর্ট তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছে, কিন্তু কোনোরকম শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়নি। ২০২১ সালের ৮ থেকে ২০২৬ সাল—এই দীর্ঘ সময়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের হিমঘরে তাঁর মরদেহ অবাঞ্ছিত হয়ে পড়ে আছে। জীবন জীবন্তে তাঁর ছিল স্বজন, পরিচিতি; মৃত্যুর পরেও তাঁর জন্য যেন নির্ধারিত হয়নি শেষ ঠিকানা। সংশ্লিষ্টদের এখন আশা, মানবিক ও প্রশাসনিক বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তার এই অবসান ঘটানো হবে এবং প্রবীর মণ্ডল তাঁর প্রাপ্য শেষ বিদায় পাবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের নিখোঁজ, চলছে অনুসন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের নিখোঁজ, চলছে অনুসন্ধান

সাতক্ষীরা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নদী কালিন্দীতে মাছ ধরতে গিয়ে পিয়ার আলী গাজী নামে গতকাল বৃহস্পতিবার এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধারে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। 

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মথুরেশপুর ইউনিয়েনের বসস্তপুর ওয়াপদা পাড় সংলগ্ন কালিন্দী নদীতে মাছ ধরার সময় তার নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ পিয়ার আলী গাজী (৮৪) বসন্তপুর গ্রামের মৃত ছফেদ আলী গাজীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার পিয়ার আলী গাজী জীবিকার তাগিদে সীমান্ত নদী কালিন্দীতে জাল ফেলে মাছ ধরতে যান। দুপুরের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদীতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাননি। তবে, ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত একটি গামছা উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ জেলে পিয়ার আলীর ছেলে আব্দুস সবুর গাজী জানান, তার বাবা প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার সকালে মাছ ধরতে নদীতে গিয়েছিলেন। দুপুরের পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও এখনও পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাতেই কালিগঞ্জ থানা পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আজ শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল সকাল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অতিরিক্ত জোয়ার এবং স্রোতের কারণে এক ঘন্টার বিরতি চলছে। বিকালে আবারো উদ্ধার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ পিয়ার আলী গাজীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, হতাহতের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


গাজায় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, হতাহতের শঙ্কা

গাজার উত্তরাঞ্চলের গাজা সিটিতে খাদিজা মসজিদের সংলগ্ন এলাকায় একদল মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনার ফলে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে।

হামলার পর জখম হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য গাজার আল-শিফা হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি চিকিৎসাসূত্র নিশ্চিত করেছে।

ড্রোন হামলার সংবাদ প্রকাশের আগেই, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসাসূত্রের উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুশ ক্যানসার টিকার প্রথম প্রয়োগে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


রুশ ক্যানসার টিকার প্রথম প্রয়োগে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার দাবি

রাশিয়ায় তৈরি নতুন ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক (পারসোনালাইজড) ক্যানসারের টিকা, প্রথমবারের মতো একজন রোগীর শরীরে কার্যকরভাবে কাজ করছে বলে গবেষকরা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকা গ্রহণের পর ওই রোগীর শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দর গিনজবার্গ এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি এমআরএনএভিত্তিক মেলানোমা ক্যানসারের টিকা নিওঅনকোভ্যাক তৈরিতে অংশীদার হিসেবে রয়েছে।

গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি পারসোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসার অনুমোদন দিয়েছে। এর একটি উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য এমআরএনএভিত্তিক টিকা নিওঅনকোভ্যাক, আর অন্যটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ অনকোপেপ্ট।

চলতি বছরের এপ্রিলে ৬০ বছর বয়সী এক রোগীকে প্রথমবার নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়। ওই রোগী তৃতীয় ধাপের মেলানোমা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া (মেটাস্টেটিক) ক্যানসারে আক্রান্ত এবং বর্তমানে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলেক্সান্দর গিনজবার্গ বলেছেন, রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছেন এবং তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার শরীরে অত্যন্ত ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শরীর এমন সব উপাদান তৈরি করছে, যা টিউমার ও ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে লড়াই করতে সহায়তা করবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, রোগীকে আরও দুটি ডোজ টিকা দেওয়া হবে এবং পুরো চিকিৎসা চলাকালে তার রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক মেলানোমা টিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

এর আগে ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রেই কাপরিন বলেছেন, এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য শুধুই ক্যানসারের চিকিৎসা নয়; বরং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে এটি নিজেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

গবেষকদের মতে, এই টিকা তৈরির জন্য রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করার পর জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে রোগীভেদে আলাদা টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও আক্রমণ করতে সক্ষম করে।

এদিকে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ওষুধ অনকোপেপ্ট গ্রহণকারী রোগীদের শরীরে প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাছাড়া, গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও একই ধরনের চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালানোর কাজ করছে।

তবে বলা উচিত, এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও গবেষকদের দাবির ভিত্তিতে তৈরি। টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বৃহৎ পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল এখনও প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%