বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৫৭ পি.এম
বছরের পর বছর বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছেন তারা দুজন মিলে।
ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও তুমুল আলোচিত দ্বৈরথ উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
ব্যক্তিগত ও দলীয় শিরোপার লড়াইয়ে দুজনই বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
একই সঙ্গে একের পর এক রেকর্ড গড়ে বদলে দিয়েছেন আধুনিক ফুটবলের মানদণ্ড।
সর্বকালের সেরা ফুটবলার (গোট) কে; এই বিতর্কের মধ্যেই ফুটবল বিশ্বের অনেক কিংবদন্তি দুই তারকার প্রভাব নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন।
সেই তালিকায় আছেন সাবেক জার্মান গোলরক্ষক অলিভার কানও।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে ঐতিহাসিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি।
বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে মেসি ও রোনালদোকে নিয়ে তুলনা আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে কানের মতে, প্রায় দুই দশকজুড়ে চলা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিশেষত্ব ছিল মাঠের পারফর্মেন্সে, কথার লড়াইয়ে নয়।
জি৫-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জেতা কান বলেন, 'ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি প্রায় দুই দশক ধরে একে অপরকে আরও ভালো হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তারা এখনও যে মানের ফুটবল খেলছে, তা সত্যিই অসাধারণ।
তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো কথার লড়াই ছিল না, বরং মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে।
প্রতি মৌসুমেই তারা একে অপরকে নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে যেতে বাধ্য করেছে।'
তিনি আরও বলেন, এমন ধারাবাহিকতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতে আর দেখা নাও যেতে পারে।
কান বলেন, 'সম্ভবত ফুটবল আর কখনোই এত দীর্ঘ সময় ধরে একই মানের ধারাবাহিকতা ও উৎকর্ষের এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখবে না।'
প্রায় নয় বছর স্পেনে মুখোমুখি লড়েছেন মেসি ও রোনালদো।
বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে এল ক্লাসিকোকে তারা রূপ দিয়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দ্বৈরথে।
যদিও এখন দুজনেরই পথ ভিন্ন, তবুও তাদের তুলনা থেমে নেই।
২০২৬ বিশ্বকাপে এই দুই মহাতারকা কেবল ফাইনালেই মুখোমুখি হতে পারে।
ফলে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে এখনও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন মেসি ও রোনালদো।
এই আসরে ৬ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে গেছেন মেসি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৯।
২০২২ সালে জেতা শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যেও লড়ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
অন্যদিকে, নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ১০ গোল পূর্ণ করেছেন রোনালদো।
এই আসরে করা দুই গোলের সুবাদে তিনি বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন।
ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ বড় শিরোপা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি।
শেষ ষোলোতে ৩ জুলাই ভোরে টরন্টো স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
অন্যদিকে ৪ জুলাই মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্ডের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা।
এদিকে ক্যারিয়ারে ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শের দৌড়ও এই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার শেষ বড় অধ্যায়গুলোর একটি হতে পারে।
বর্তমানে রোনালদোর মোট গোল ৯৭৪টি, আর মেসির গোলসংখ্যা ৯১৬।
সবশেষে, অলিভার কানের মন্তব্য যেন ফুটবল বিশ্বের বহু কিংবদন্তির বিশ্বাসকেই আরও জোরালো করে।
ভক্তদের অন্তহীন তুলনা ও বিতর্কের বাইরে, মেসি ও রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনন্য হয়ে থাকবে এই কারণে যে, তারা প্রায় দুই দশক ধরে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে পুরো ফুটবলের মানই নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
ধারাবাহিকতা, প্রতিযোগিতার মান এবং অসাধারণ পারফরম্যান্সের যে দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছেন, তা ভবিষ্যতে ছুঁয়ে ফেলা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোباد) বলেছেন, ইসলামের পবিত্র নিদর্শন ও ধর্মীয় প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, পবিত্র কালেমা খচিত পতাকা বা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা কিংবা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়। এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের কারণ হতে পারে। আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার সম্মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক উলামায়ে কেরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মহান আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনাদর্শের বাইরে ইসলামে নতুন কোনো মতবাদ, বিশ্বাস কিংবা অনুশীলনের স্থান নেই।’
মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সব বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবে না; ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কওমি মাদ্রাসা, ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব, মুফতি এবং বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ অংশগ্রহণ করেন। সভায় পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার মর্যাদা সংরক্ষণ, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ, ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ সমাজে প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও মুফাসসিরগণ বলেন, ধর্মপ্রাণ যুবসমাজ আন্তরিক ধর্মীয় অনুভূতি থেকে কালেমা খচিত পতাকা বহন করলেও পরবর্তীকালে একটি বিশেষ মহল এ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা বলেন, কোথাও কোথাও কালেমা খচিত পতাকাকে অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর ঘটনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মপ্রাণ যুবসমাজকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ইসলামের পবিত্র প্রতীকসমূহের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কোনো মহল যদি ধর্মীয় প্রতীককে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তবে আলেম সমাজ ও সচেতন মুসলিম জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করবে। তাঁরা জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব, মধুপুর), মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, অধ্যাপক মিজানুর রহমান (পীর সাহেব, দেওনা), মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি আজহারুল ইসলাম, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি শরিফ উল্লাহ, মুফতি ইমাদুদ্দিন, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা এজহারুল হক, মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুণবী, মাওলানা আহমদ রফিকসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাবৃন্দ।
সভায় বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরো গতিশীল ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আলেম সমাজ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়, সমন্বয় এবং যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান, যাতে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মানবকল্যাণের বার্তা সমাজের সর্বস্তরে আরো কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং সব ধরনের ষড়যন্ত্র, বিভেদ ও অস্থিতিশীলতা থেকে দেশকে হেফাজতের জন্য বিশেষ দোয়া এবং মন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাসার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদাবর থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বিকেলের দিকে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের নাম শোয়েব, আরমান ও নয়ন।
এর আগে গত বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবোদয় বাজার এলাকায় সালিশি বৈঠক চলাকালে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাতে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ দেখার পর নবোদয় হাউজিং এলাকায় কয়েকজন যুবক ঢোল বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছিল। এই সময়ে আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমানের সঙ্গে নবোদয় বাজারের ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে রিপনের মধ্যে বিবাদ হয়। উক্ত পরিস্থিতিতে, রিপনকে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিরোধ মীমাংসার জন্য নবোদয় বাজারে রঞ্জুর দোকানে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সময় রিপন, নীরব, পারভেজ ও মাসুম নামের কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক বাদশার হাত, পা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে তারা।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একটি মাদরাসা ছাত্রের নামে এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের বাইসাইকেল নিজে স্বাক্ষর করে তুলে নেন এবং সাইকেলটি নিজের নাতিকে উপহার দেন।
এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হলে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন ওই জামায়াত নেতা।
সরাসরি অনুসন্ধানে জানা যায়, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ছাত্র সাইমুনকে সাইকেলটি না দিয়ে, তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি তুলে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সাইকেলটি তিনি তার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী মাদরাসাছাত্র সাইমুন ইসলাম জানায় যে, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে যখন তোলপাড় শুরু হয় তখন বুধবার তাড়াহুড়া করে তাদের বাড়িতে সাইকেলটি পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তার প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরক্ষণেই বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, তার ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার পুতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল।
মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক মাদরাসাশিক্ষক ও জামায়াত সমর্থক শের আলী। তিনি উল্লেখ করেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম মোটেও কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে এবং তার সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল জালিয়াতি করে নেওয়া ঠিক হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসে। পরবর্তীতে তার নির্দেশে বুধবার দুপুরে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী অফিসে ফেরত দেওয়া হয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাইসাইকেল ছাড়াও আরও অন্যান্য উপকরণ (যেমন: সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি) বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সংঘটিত একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে বাবা ও ছেলে প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় একই পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ২টার সময় ঘটনাটি উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজার এলাকায় ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মান্দ্রাইন গ্রামের নির্মল চন্দ্র রায়, যিনি বয়সে ৭৫ এবং তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায়, যিনি ৩৫ বছর বয়সী। উল্লেখযোগ্য যে, প্রশান্ত চন্দ্র রায় হচ্ছে পেশায় একজন পল্লীচিকিৎসক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় এবং নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলে করে বড়াইবাড়ি তুলশীহাটে একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। যখন তারা মন্থনা জুট মিলের কাছে পৌঁছান, তখন একটি বেপরোয়া ট্রাকের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি ঘটে প্রশান্ত চন্দ্র রায়ের। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মল চন্দ্র রায় এবং তার নাতি বন্ধন চন্দ্র রায়কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে নির্মল চন্দ্র রায়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান দুলু মন্তব্য করেন, নির্মল চন্দ্র রায় এবং তার ছেলে প্রশান্ত স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং সেবাপরায়ণ মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুতে এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট শিশুটির অবস্থাও হাসপাতালের আইসিইউে গুরুতর সংকটাপন্ন। মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক রেখে চালক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটকের চেষ্টা করছে। বর্তমানে ট্রাকটি থানায় রয়েছে এবং এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ