০৬:৩১ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরে টানা বর্ষণে তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতার পানি নামতে শুরু করেছে। বহু এলাকায় এখন পানি নেই। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিচ্ছে বাসা-বাড়ি, সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতচিহ্ন। রোদ না ওঠার কারণে বাসা-বাড়ির পরিবেশের অবস্থার উন্নতি এখনও হয়নি।
শুক্রবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এরশাদ উল্লাহ নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পানিবন্দী মানুষের খোঁজ নিতে চান্দগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়ে বলেছেন, রবিবার রাত থেকে টানা বর্ষণের কারণে নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে। শুক্রবার আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি, ফলে নগরের জলাবদ্ধ এলাকায় পানি নেমে যায়। তবে ক্রমশ দেখা দিচ্ছে নানা ক্ষত। অনেক পরিবার এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বাসার আসবাবপত্র এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়েছে। সড়কে দেখা যাচ্ছে গর্ত-খানা-খন্দ, নগরের সড়ক উপ-সড়কগুলোর ক্ষত বিক্ষত দৃশ্যও চোখে পড়ছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
পাঁচলাইশ নাজির পাড়ার বাসিন্দা তাওসীফ হাসান জানিয়েছেন, পানিতে তাদের বাসার নিচতলা পুরোপুরি ডুবে যায়। এতে অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে এবং পুরো বাসায় এখনও স্যাঁতসেঁতে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রোদ না থাকায় তাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।
এদিকে, শুক্রবার চসিক মেয়র ও সংসদ সদস্য চান্দগাঁও হাজিরপুল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক এবং শমসেরপাড়াসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকায় পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় তারা জানতে চান কোথায় কী কারণে পানি আটকে আছে, পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানে কী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতও গ্রহণ করেন।
পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে। তবে কিছু নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে। এলাকাগুলোর কারণে কেন পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে না, তা স্থানীয় জনগণের সাথে সহযোগিতা করে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট এলাকাগুলো থেকেও পানি পুরোপুরি নেমে যাবে।
সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ জানিয়েছেন, যেসব নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে, সেখান থেকেই শিগ্গিরই পানি নেমে যাবে। এই বিষয়ে সবার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: চোখের সামনে দিয়ে চলে যায় ট্রেন, উঠতে পেরোতে হয় ৬০ কিলোমিটার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন