০৪:২১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নির্যাতনসহ নতুন অপরাধের অভিযোগ তুলেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত অভিযোগপত্রে তার শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
নিউইয়র্কের কারাগারে জানুয়ারির শুরু থেকে রয়েছেন মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের কারাকাসের বাসভবন থেকে আটক করে। মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যখন তাকে আটক করা হয়।
মাদুরো এবং তার স্ত্রী উভয়েই তাদের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কয়েক বছর আগে দায়ের করা মামলায় তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজনকে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল সিলিয়া ফ্লোরেসের। তার আইনজীবীরা তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে নিউইয়র্কের একটি বাসায় নিরাপত্তার মধ্যে রাখার আবেদন করেছেন। আইনজীবীদের দাবি, ফ্লোরেসের হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা রয়েছে এবং কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না।
ফ্লোরেসের আইনজীবীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় তাকে দেয়াল বা আসবাবের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তার শরীরে স্থায়ী দাগ হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, কারাগারে থাকার সময় তার ওজন প্রায় ২৫ পাউন্ড কমে গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, মাথা হালকা লাগা, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যাও রয়েছে। গত জুলাইয়ে তার সামান্য হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।
তবে, সরকারি কৌঁসুলিরা ফ্লোরেসের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেছেন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে তারা উল্লেখ করেছেন, মুক্তি পেলে ফ্লোরেসের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তিনি জনসাধারণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তাকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হবে।
মাদুরোকে আটক করতে পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এটি একটি নির্ভুল আইন প্রয়োগ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে, মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দি বলে দাবি করেছেন এবং তার আটকের ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার আইনজীবীদের দাবি, স্বামীর পাশে থাকার দৃঢ় ইচ্ছা থাকায় তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন