প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
একসময়ে পত্র প্রাপকরা একটি চিঠি বা টেলিগ্রামের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতেন। প্রিয়জনের লেখা চিঠি হাতে পাওয়ার আনন্দে সব কষ্ট ভুলে যেতেন। ডাক প্রেরকরাও ডাকঘরের দিকে ছুটতেন। প্রতিদিন ডাকঘরের ডাকবাক্স খুলে যাচাই-বাছাই করে সেই ডাক নিয়ে শহর, নগর, গ্রাম ও গঞ্জের পাড়া-মহল্লায় ছুটতেন ডাক পিয়ন ও রানাররা। তবে এখন ডাকঘরগুলোতে সেই কর্মব্যস্ততা আর নেই। ময়মনসিংহের গৌরীপুরের অধিকাংশ শাখা ডাকঘর ঝাড়-জঙ্গলে খোঁজার পরও পাওয়া যায়। সব ডাকঘরে তালা ঝুলছে।
এদিকে, এসব পোস্ট অফিসে শুধুমাত্র সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগপত্র এবং মামলা সংক্রান্ত চিঠিপত্র আসছে। কোন পোস্ট অফিসে বছরে একটি প্রেমপত্রও আসার খবর নেই। তবে, প্রত্যেকটি পোস্ট অফিসে প্রতি মাসে ১২ থেকে ২০টি তালাকপত্র আসার তথ্য পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ভূটিয়ারকোনা ডাকঘরটি একটি জঙ্গলের ভেতরে অবস্থিত। পাশেই উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও ডাকঘরে যাওয়ার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট রাস্তা নেই।
স্থানীয়রা জানান, পোস্ট মাস্টার কবে এসেছেন, তা তারা কেউ দেখেননি। পোস্ট অফিসের দরজায় আগাছার আখড়া, সামনে গোচারণ ভূমি হওয়ায় গোবর-আবর্জনা এবং পরগাছায় ভরপুর।
অন্য একটি ডাকঘর কিল্লাতাজপুর। বাজার বা জনগণের কথা বিবেচনা না করে পোস্ট মাস্টারের দেওয়া জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখুরিয়া, মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়া ও ভবানীপুরে। রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুরের জমিদার এ পোস্ট অফিসের শাখা চালু করেন, তবে একটি নির্ধারিত স্থানে নেই। বোকাইনগর ইউনিয়নে স্থানান্তর হলেও এলাকাবাসী এ নামের ডাকঘর চেনেন না। রামগোপালপুর, পাছারবাজার, শাহগঞ্জ ও বীরআহাম্মদপুর ডাকঘরেও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি পোস্ট অফিসে সৌরবিদ্যুৎ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ থাকা সত্ত্বেও সেবা কার্যক্রম নেই।
পাছার পোস্ট মাস্টার মো. আতাউর রহমান জানান, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে এ ডাকঘরে কর্মরত। এক সময় ডাকঘরের গুরুত্ব ছিল। গ্রামের ছেলে-মেয়ে থেকে বকশিসও পাওয়া যেত। চিঠি পেয়ে দৌড়ানোর দিনগুলো এখন আর নেই। মোবাইলের কারণে এসব শেষ হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, গত মাসে ১৪টি তালাকনামা এসেছে। আদালতের চিঠি, এনজিওর চিঠি এসেছে। তবে গত ২-৩ বছরের মধ্যে একটি প্রেমপত্রও আসেনি।
লামাপাড়া পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, এসব ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী দেওয়ার পরপরই নষ্ট হয়ে গেছে।
ভবানীপুর পোস্ট মাস্টার মহসিন মাহমুদ শাহ জানান, সব ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এগুলো অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।
পাছার ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মো. আতাউর রহমান জানান, আমাদের বেতনভাতা নামকাওয়াস্তে। আমরা ৪ হাজার ৪৬০ টাকা পাই, পিয়ন পান ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা এবং রানার পান ৪ হাজার ১৭৭ টাকা। এরপরেও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে গৌরীপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলা পোস্ট অফিসে প্রতি মাসে ৮০ টাকা অফিস খরচ, যা দিয়ে স্টেপলারের পিন কেনা সম্ভব নয়। বাজেট বরাদ্দ না থাকায় আমরাও সেইভাবে কাজ করতে পারছি না।
তিনি আরও জানান, প্রতি মাসে উপজেলার ১৪টি শাখা পোস্ট অফিস ও উপজেলা পোস্ট অফিসে প্রায় ১৬০ থেকে ১৮০টি তালাকপত্র আসে। যা বছরে ২ হাজারের অধিক হবে। গৌরীপুরে বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টি বেড়ে যাচ্ছে। গত নভেম্বরে এ পোস্ট অফিসে যোগদানের পর কোন তরুণ-তরুণীর নামে কোনো চিঠি (প্রেমপত্র) আসতে দেখি নাই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন